ইনজুরির কারণে দলে ছিলেন না পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। শেষ মুহূর্তের ইনজুরিতে শ্রীলংকায় যাওয়া হয়নি এনামুল হক জুনিয়র এবং শাহরিয়ার নাফিসেরও। স্কোয়াডে থেকেও গল টেস্টের আগে ব্যথার কাছে হার মেনে বাদ পড়েন ওপেনার তামিম ইকবাল। গল টেস্টে তাই দেখা গিয়েছিল খর্বশক্তির এক বাংলাদেশকে; আর এই দল নিয়েই ড্র নিয়ে ফিরলো মুশফিকের দল। ড্রতেও অনেক আলোর ঝলকানি দেখিয়েছে বাংলাদেশ। রেকর্ডের ছড়াছড়ির এই টেস্ট তাই বাংলাদেশের জন্য অনেক প্রাপ্তির এক ম্যাচ। শ্রীলংকার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ড্র।
এক উইকেটে ১১৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা লংকানরা পঞ্চমদিনে ৪ উইকেটে ৩৩৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। ৩৫ ওভারে বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ২৬৮। প্রায় অসম্ভব টার্গেট তাড়া না করে ড্রয়ের সহজ পথই বেছে নেয় বাংলাদেশ।
গতকাল সেঞ্চুরি পেয়েছেন দুই স্বাগতিক ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি পেয়ে ফিরে আসাটা স্মরণীয় করে রাখলেন কুমারা সাঙ্গাকারা (১০৫)। তিলকরত্নে দিলশান (১২৬) পেলেন নিজের ১৬তম টেস্ট সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের হয়ে ৩টি উইকেট নিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ব্যাটিংয়ের ঘাটতি বোলিং দিয়ে পুষিয়ে দিলেন সহ-অধিনায়ক।
এর আগে ম্যাচের চতুর্থ দিনই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। টেস্টে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি আসে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সৌজন্যে। অল্পের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি করতে ব্যর্থ হন আশরাফুল। ১৯০ রানে বিদায় নিতে হয় তাকে। তাছাড়া নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান নাসির হোসেন।
পঞ্চম দিনে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই এনামুল হক মাত্র এক রানে বোল্ড হয়ে ফিরে যান শামিন্দা এরাঙ্গার বলে। বাকিটা সময় কোন অঘটন ছাড়াই কাটিয়ে দেন জহুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আশরাফুল। ২২ রান করে অপরাজিত ছিলেন আশরাফুল। আর ওপেনার জহুরুল ইসলাম করেন ৪১। ড্র নিশ্চিত বুঝে আগেই বাংলাদেশ টেস্টের ইতি না টানলে হয়তো টেস্টে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পেয়ে যেতে পারতেন জহুরুল। এমন এক ড্রয়ের পর ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে হয়তো খুব বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন না জহুরুল!
