বিদেশি ক্রেতাদের হাতে সময়মত পণ্য পৌঁছাতে চট্টগ্রাম থেকেই আকাশপথে পণ্য রপ্তানির সুবিধা চান স্থানীয় গার্মেন্টস কারখানার মালিকরা। বতর্মানে এ সুবিধা শুধু ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারকারীরাই পাচ্ছেন। লাগাতার হরতাল ও অবরোধ, সংস্কারের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতু দফায় দফায় বন্ধ থাকার কারণে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস মালিকরা ঢাকায় পণ্য পাঠাতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। ফলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বিদেশি ক্রেতাদের হাতে সময়মত পণ্য পৌঁছে দিতে পারছেন না। পাশাপাশি পণ্য পরিবহন খাতেও তাদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। তাই চট্টগ্রাম থেকেই এয়ার শিপমেন্ট বা আকাশপথে বিদেশে পণ্য পাঠানোর জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রামের গার্মেন্টস মালিকরা।
চট্টগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকলেও এই বিমানবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক বিদেশে পাঠানো যায় না। তাই বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পণ্য পাঠাতে হয় সড়কপথে। বিষয়টি অত্যন্ত ব্যয়বহুল, ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন চট্টগ্রামের গার্মেন্টস কারখানার মালিকরা। দেশে হরতাল, অবরোধের মত রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উচ্ছৃংখল জনতার অন্যতম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় তৈরি পোশাক পরিবহনকারী কাভার্ড ভ্যান। প্রায়ই এসব কাভার্ড ভ্যানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ইদানীং মহাসড়কের মেঘনা ও গোমতী সেতু মেরামতের জন্য দফায় দফায় বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পণ্য পৌঁছাতে সময় লাগছে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ কারণে পোশাক শিল্প মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি নাসিরউদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে প্রায় ৬৫০টি গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। চট্টগ্রামে উত্পাদিত গার্মেন্টস পণ্যের মধ্যে শতকরা প্রায় ১০ শতাংশ এয়ার শিপমেন্ট বা আকাশপথে রপ্তানির জন্য ঢাকায় পাঠাতে হয়। চট্টগ্রাম থেকে এয়ার শিপমেন্টের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে ব্যবসায়ীরা অহেতুক খরচের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। আর বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের ইমেজ সংকটও বহুলাংশে কেটে যাবে।
