সুন্দর অভিনয় দিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকের মনে স্থান করে নিয়েছেন লাক্সতারকা ইশানা। বিজ্ঞাপনে তার পারফর্মেন্স যেমন সাবলীল, তেমনি অভিনয়েও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে তার চারটি ধারাবাহিক নাটক। এই সুঅভিনেত্রীকে নিয়ে লিখেছেন
খালেদ আহমেদ
ও ছবি তুলেছেন
আশীষ সেনগুপ্ত
বাংলাদেশের বিজয় দিবস অর্থাত্ ১৬ ডিসেম্বরে তার জন্ম । হয়তো এ কারণে তার মনে আত্মবিশ্বাস সব সময়ই বেশি কাজ করে। সততা, অধ্যবসায় ও অভিজ্ঞতাই ইশানাকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিয়েছে। তার মতে, লাক্স-চ্যানেল আইয়ের প্লাটফর্ম তাকে অল্প সময়ে অনেক কিছু শিখতে সহায়তা করেছে, যা তাকে ভবিষ্যতের পথে চলতে দিক-নির্দেশনা দেবে। মিডিয়ার প্রতি তার আগ্রহ ছিল শৈশব থেকেই। ওই সময় থেকেই মনের ভেতর লালন করতেন পারফর্মিং মিডিয়ায় কাজ করার স্বপ্ন। পরবর্তীতে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে। নিজের মেধা, যোগ্যতা দিয়ে শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চলে আসেন শীর্ষ পাঁচে। ইশানার ভাষ্যে, ‘মিডিয়াতে কাজ করার সঠিক কোনো প্ল্যান ছিল না আমার। আমি চেয়েছি যে মাধ্যমেই থাকি না কেন, প্রতিষ্ঠিত হবো। তবে আমার ভাবনা কখনও মিডিয়াকেন্দ্রিক ছিল না। কিন্তু এখন আমি মিডিয়াতে ভালো কিছু করতে চাই। আমি একজন ভালো পারফর্মার হতে চাই, সেটা মিডিয়ার যেকোনো মাধ্যমেই হোক না কেন।’ লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেকে সময় উপযোগী করে তুলতে পেরেছেন ইশানা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে গ্রুমিং সেশনে অনেক কিছু শিখেছি। এর ফলে আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। দৈনন্দিন জীবনে আমার জন্য যা অনেক বেশি জরুরি ছিল।’ বিজ্ঞাপনে তার পারফর্মেন্স যেমন সাবলীল, তেমনি অভিনয়েও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার কাজের ঝুলিতে যোগ হয়েছে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী, প্যানাসনিক, সানসিল্ক, লাক্স। সেই সাথে ফ্যাশন হাউসসহ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় বিভিন্ন পণ্যের মডেল হয়েছেন তিনি। মডেলিং ছাড়াও অভিনয় করেছেন বেশ কিছু নাটকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— দীপংকর দীপনের ‘মোকামতলা’, তন্ময় তানসেনের ‘ফিরিয়ে দিলাম পৃথিবী’, এ জেড ফিরোজের ‘মিস্টার ডিরেক্টর’, আলম আশরাফ শাহীনের ‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘নির্বাপিত’, কায়সার আহমেদের ‘অহংকার’, অম্লান বিশ্বাসের ‘নো প্রবলেম’, চয়নিকা চৌধুরীর ‘আকাশের নিচে মানুষ’, আলম আশরাফের ‘তাল বেতাল’ প্রভৃতি। এসব নাটকে তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে সাবলীলভাবে উপস্থাপন করেছেন।
বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে ইশানা অভিনীত চারটি ধারাবাহিক নাটক। এগুলো হলো—মাছারাঙা টেলিভিশনে রহমতুল্লাহ তুহিনের পরিচালনায় ডেইলি সোপ ‘ক্ষণিকালয়’, বাংলাভিশনে এজাজ মুন্নার ‘জেনারেশ নেক্সট ডট’, এটিএন বাংলায় শহিদুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় ‘ডিবি’ এবং একুশে টেলিভিশনে শফিকুল ইসলাম রিপনের ‘সুখে থাকলে ভূতে কিলায়’। এরমধ্যে বাংলাভিশনে প্রচারিত এজাজ মুন্নার পরিচালনায় ‘জেনারেশ নেক্সট ডট’-এ তিনি নওমী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই নাটকে নিজের চরিত্র সম্পর্কে ইশানা বলেন, ‘এই নাটকে আমি উচ্চবিত্ত পরিবারের একটি মেয়ে। আমার বাবা-মা আমেরিকায় থাকে। আমি ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা শেষ করে একটি প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি। আমার লাইফস্টাইল খুব আধুনিক। এখানে আমার প্রথম বয়ফ্রেন্ড থাকে আমারই ভার্সিটিতে পড়ুয়া নিশো। কিছু দিন পর ফেসবুকে আমার পরিচয় হয় রওনকের। সে পাবলিক ভার্সিটিতে পড়াশোনা করে। তাকে অনেক কষ্ট করে এই শহরে টিকে থাকতে হয়। তার সাথে মেশার পর আমাদের বন্ধুত্বটা অনেক মজার হয়। সে আমার সাথে তার সবকিছু শেয়ার করে। ধীরে ধীরে আমারও তার জীবনযাপনটা ভালো লাগতে শুরু করে। তার সাথে আমি গ্রামে যাই। সেখানকার পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হই। সেইসাথে অনেক কিছু শিখিও। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকের গল্প। সব মিলিয়ে আমার চরিত্রটি বেশ মজার। এই রকম চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে আমি আনন্দিত।’ প্রচারের অপেক্ষায় আছে আরও কয়েকটি ধারাবাহিক নাটক। এরমধ্যে রয়েছে, মুরাদ পারভেজের পরিচালনায় ‘অন্ধ তীরন্দাজ’, প্রচার হবে চ্যানেল নাইনে। আর অন্যগুলো হচ্ছে—অসীম গোমেজের পরিচালনায় ‘ডেড লাইন’, ইরানী বিশ্বাসের ‘মনের জানালা’, হাসান জাহাঙ্গীরের ‘কথা কাজে মিল নেই’, ইদ্রিস হায়দারের ‘সেকেন্ড ইনিংস’ ও ‘মানিকগঞ্জের বড়মিয়া’। এর মধ্যে ধারাবাহিক নাটক ‘ডেড লাইন’-এ ইশানা সিআইডি অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আর এই চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করতে তাকে মোটরসাইকেল চালানোসহ আরো অনেক কিছুই শিখতে হয়েছে। এ চরিত্র প্রসঙ্গে ইশানা বলেন, ‘এই চরিত্রের কাজ করতে গিয়ে আমি যেন নিজেকেই চিনতে পারিনি। চরিত্রটি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। এ জন্য অনেক কষ্টও করতে হয়েছে। আসলে এ রকম চরিত্রে আগে কখনও অভিনয় করিনি বলেই এটার প্রতি আমার আলাদা এক ধরনের মমতা ছিল। আশা করছি দর্শকরা আমাকে এ রকম চরিত্রে দেখে আনন্দ পাবেন।’ এ ছাড়া বেশ কয়েকটি একখণ্ডের নাটকের শুটিং শেষ করলেন সম্প্রতি। এগুলো হলো— ‘নিজ গৃহে পরবাসী’, ‘তৈল ও জলীয় সমাচার’, ‘নির্বাক ভালোবাসা’, ‘আকাশনীলা’, ‘ভালোবেসে যেও’ ইত্যাদি। মডেলিং না অভিনয় কোনটি আপনার পছন্দের—এমন প্রশ্নের জবাবে ইশানা মৃদু হেসে বলেন, ‘মডেলিং আমাকে চুম্বকের মতো টানে আর অভিনয় হলো ভালোবাসা। ভবিষ্যতে একজন ভালো অভিনেত্রী হতে চাই।’
বর্তমানে কাজ নিয়ে আপনার ভাবনাটা কেমন? ইশানা স্বভালসুলভ সুন্দর একটি হাসি উপহার দিয়ে বলেন, 'ভাবনা অবশ্যই অনেক চেঞ্জ হয়েছে। প্রথমের চেয়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে ভাবনা ও কাজের। প্রথম দিকে পরিচালকদের ওপর পুরোটা নির্ভরশীল ছিলাম। এখন অভিজ্ঞতায় সঞ্চয় করেছি। নিজের প্রতি আস্থা বেড়ে গেছে। কোনো চরিত্র নিয়ে ভাবলে সহজেই তার ভেতরে ঢুকতে পারি এবং সেভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করি। আপনারা অনেকের সাথেই কাজ করেন।' কাজের প্রতি শ্র"া আর সময়ের ব্যাপারে তার সচেতনতাই তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে নাটকের কোনো স্ক্র্বি হাতে আসলে তখন কাজটা নিয়ে স্বপ্ন কেমন থাকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'নতুন কাজ হাতে আসলে অবশ্যই তা নিয়ে একটা স্বপ্ন তৈরি হয়। তবে আমাদের দেশে মিডিয়ায় নিজের মতো করে কাজ করতে চাইলেও তা সম্ভব হয় না। তারপরও চরিত্র নিয়ে ভাবি। শুটিংয়ের সময় চরিত্রটা নিজের মধ্যে লালন করে ভালো কিছু করার চেষ্টা করি।' বর্তমানে বিবিএ’তে অধ্যয়নরত এই তরুণী ভবিষ্যতে নিজেকে একজন সত্ ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে দেখতে চান। সেই সাথে পড়াশোনা শেষ করে কর্পোরেট জবে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইচ্ছে অবশ্যই আছে। ভালো গল্প ও পরিচালকের সাথে কাজ করার অফার পেলে সানন্দেই তা গ্রহণ করব। তবে এই মুহূর্তে চলচ্চিত্রে অভিনয় করছি না।’
মেকআপ
হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল
