সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমেই মাসুমা রহমান নাবিলা আলোচনায় এসেছেন। উপস্থাপনা ছাড়াও নাবিলা বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে সাবলীল পারফর্ম করেছেন। তাকে নিয়ে
লিখেছেন খালেদ আহমেদ
ও ছবি তুলেছেন
আশীষ সেনগুপ্ত
ছোটবেলাতেই মনে স্বপ্ন আঁকেন মিডিয়ায় কাজ করবেন বলে। তা হতে হবে একটু ভিন্ন ধরনের কাজ। তাই শোবিজ জগতের সব এরিনা ছেড়ে নাবিলা বেছে নিয়েছেন উপস্থাপনা। উপস্থাপনা কঠিন হলেও নিজের মেধা, যোগ্যতা দিয়ে সাফল্যের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তার এই সাফল্যের পেছনের রহস্য কী জানতে চাইলে নাবিলা বলেন, ‘আমি প্রতিটি কাজ ভালোবেসেই করি। সেই সাথে প্রতিটি মানুষকে সম্মান করি এবং চেষ্টা করি সময় মেনে চলার। এই সব কিছুর সমন্বয়েই আমার আজকের এই অবস্থানে আসা।’ বর্তমানে এশিয়ান টিভিতে ‘স্টার ড্যান্স’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করছেন তিনি। ছয় তারকাকে নিয়ে মজার এই অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতাই অন্যরকম বলে জানালেন। তার অভিজ্ঞতায় এটা ছিল নতুন। প্রথম লটের শুটিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সামনে দ্বিতীয় লটের শুটিং শুরু হবে বলে জানালেন। এ ছাড়া সামনে গাজী টিভিতে নতুন একটি সেলিব্রেটি টক শো’ শুরু করবেন। একজন উপস্থাপকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ কী? উত্তরে নাবিলা বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে সব কিছু সুন্দরভাবে ম্যানেজ করাই হলো একজন উপস্থাপকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’ উপস্থাপনার মূল আকর্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার অন্য যেকোনো কাজের চেয়ে এখানে স্বাধীনতা আছে। যেহেতু লাইভ প্রোগ্রাম, তাই এটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। দর্শকের সাথে ফোনের মাধ্যমে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। এটা আমি এনজয় করি।’ উপস্থাপনা করে আপনার কোন জিনিসটি ভালো লাগে? প্রশ্ন শুনে তিনি মৃদু হেসে বলেন, ‘আমি উপস্থাপনা করে অনেক প্রশংসা পাই। আর নতুন প্রজন্মের কাছ থেকেও ইদানীং বেশ রেসপন্স পাচ্ছি। সুখের বিষয় হলো—দর্শকরা আমাকে অনেক ভালোবাসে। এটাই আমার পরম পাওয়া।’ একজন উপস্থাপকের কী কী গুণ থাকতে হয়? জবাবে নাবিলা বলেন, ‘প্রথমেই প্রয়োজন হয় উপস্থিত বুদ্ধির। এরপর সঠিক উচ্চারণ ও প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকাটা জরুরি হয় একজন উপস্থাপকের জন্য।’ মাঝে রবির একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে পারফর্ম করেন নাবিলা। শঙ্খ দাশ গুপ্তের নির্দেশনায় এই বিজ্ঞাপনচিত্রটি বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারের পর সবার নজর কাড়ে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বর্তমানে ইংরেজিতে মাস্টার্স করেছেন এই মেধাবী তরুণী। তার অনুপ্রেরণার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মা, ভাইবোন, খালা সবাই আমাকে উত্সাহ দেয়। তাদের আশীর্বাদ ও দর্শকের ভালোবাসায় আমি এতদূর আসতে পেরেছি। আমার কাজে পরিবারের থেকে অনেক উত্সাহ ও মানসিক সহযোগিতা পেয়েছি। সে জন্য আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি।’ দর্শক নাবিলার কাছে উপস্থাপক নাবিলার মূল্যায়ন কেমন? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যখন আমার পারফর্মেন্স দেখি, সব সময়ই মনে হয় আসলে কিছুই হয়নি। স্যাটিসফেকশন লেভেল খুবই কম থাকে। গুটি কয়েক অনুষ্ঠানের পারফর্মেন্স দেখে মনে হয়েছে যে, আমি বোধহয় আমার জায়গাটা টাচ করতে পেরেছি। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই মনে হয়, আমি আরও ভালো করতে পারতাম, পারফর্মেন্সটা আরও ভালো হওয়া দরকার ছিল। এটা সব সময় আমি ফিল করি। টিভিতে যখন আমার কোনো অনুষ্ঠান প্রচার হয়, সে সময় পারফর্মেন্স নিয়ে আমার বাসার সদস্যদের কঠোর সমালোচনার মধ্যে পড়ি। অনেক সময় তারা বলেন, এটা আরও ভাল করা যেত। তাদের এই সমালোচনা আমি পজেটিভলি নিই। তখন আমার মনে হয় সম্ভব আরও ভালো করা সম্ভব। আমি আমাদের কাছাকাছি দেশের পারফর্মারদের পারফর্মেন্স দেখে ভাবি যে, আমার দ্বারা বোধহয় সম্ভব তাদের কাছাকাছি মানের পারফর্মেন্স করা। এই ফিলিংসটা আমার ভেতর কাজ করে।’ আগামী দিনগুলো আর অভিনয় করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিনয় নিয়ে এখনও কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে করতেও পারি।’ ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে নাবিলা মৃদু হেসে বলেন, ‘আসলে স্বপ্ন তো সময়ের সাথে সাথে চেঞ্জ হয়। উপস্থাপনা চালিয়ে যাব। ইচ্ছা আছে ক্যামেরার পেছনে কাজ করার। নিজের ভাবনায় ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান নির্মাণ করতে চাই।’
মেকআপ
হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল
