স্যাটেলাইট

খুবসুরত এক কন্যার জীবনের গল্প

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৩, ১৮:৫৩
হিন্দি টিভি সিরিয়ালের গল্প এখন আগের মতো বউ-শাশুড়ির গল্পে সীমাবদ্ধ নেই। দর্শকদের পছন্দের তালিকায় এখন প্রথম দিকে রয়েছে ভিন্নস্বাদের গল্প নিয়ে আবর্তিত বেশকিছু নতুন সিরিয়াল। রোমান্টিক ধাঁচের হলেও দর্শকদের ধরে রাখার মতো নানা উপাদানে সমৃদ্ধ নতুন নতুন হিন্দি সিরিয়ালগুলো সত্যি সত্যি সবাইকে অনেক আনন্দ দিচ্ছে। সনি এন্টারটেইনমেন্ট টিভি চ্যানেলের নতুন সিরিয়াল ‘দিল কি নজর সে খুবসুরত’ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই সময়ের দর্শকনন্দিত এই টিভি সিরিয়ালের নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন কলেজ পড়ুয়া আরাধ্য অপূর্ব সুন্দরী। প্রাণবন্ত হাসি খুশি টাইপের মেয়েটির সময় কাটে বান্ধবীদের সাথে হৈচৈ করে আর আড্ডা দিয়ে। কেয়ারফ্রি স্বভাবের আরাধ্য পৃথিবীটাকে সহজ সরল দৃষ্টিতে দেখতে চায় সব সময়ে। তার মনের মধ্যে কোনো প্যাঁচ কিংবা জটিলতা বাসা বাঁধতে পারে না। নিজে সুন্দরী হওয়ায় সুন্দরের প্রতি আরাধ্যর বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। পড়াশোনায় তেমন মেধাবী নয় সে। ছোটবেলা থেকেই আরাধ্য অসুন্দরকে ভয় পায়, অসুন্দরের কাছ থেকে দূরে থাকতে চায়। তার জন্মের পর বাবার আর্থিক সমৃদ্ধি বেড়ে গিয়েছিল। এ কারণে পরিবারের সবাই আরাধ্যকে অনেক বেশি আদর করে। রাজকুমারীর মতো আদরে বেড়ে ওঠা মেয়েটি এফএম রেডিওতে আরজে এহসাসের কথা শুনতে শুনতে তার প্রেমে আচ্ছন্ন থাকে। শয়নে স্বপনে আরজে এহসাসকে নিয়ে অনেক কিছু কল্পনা করে। তাকে কোনো দিন নিজের চোখে না দেখলেও মনে মনে একজন সুদর্শন পুরুষ হিসেবে স্বপ্নের মানুষ এহসাসকে কল্পনা করে। আরাধ্য আরজে এহসাসের কণ্ঠ শুনেই ধরে নেয় দুর্দান্ত একজন সুপুরুষ হবে সে নিশ্চয়ই। একজন সুদর্শন রাজকুমারের মতো হবে। আরাধ্য আর জে এহসাসকে সরাসরি দেখতে, তার মুখোমুখি হতে অস্থির হয়ে ওঠে। সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে বেশ কয়েকবার এফএম রেডিও স্টেশনে ঢুকে পড়লেও স্বপ্নের প্রিয় মানুষটির দেখা পায় না সে। বারবার ধরা পড়ে যায়। এ জন্য অপমানিত হয়ে ফিরে এলেও দমে যায় না সে। আরাধ্য ওই রেডিও স্টেশনে চাকরি নেয়। কাজ করতে নয়, প্রিয় আরজে এহসাসের মুখোমুখি হতে প্রাণপ্রণ চেষ্টা করতে থাকে সুন্দরী প্রাণোচ্ছল মেয়েটি। এ নিয়ে রেডিও স্টেশনের তরুণ কর্তাব্যক্তি সুদর্শন রাহুলের সঙ্গে আরাধ্যর বিরোধ বাঁধে। দু’জনের মধ্যে কয়েক দফা ঝগড়াও হয়। ওই রেডিও স্টেশনের আরেক কর্তাব্যক্তি মাধব শান্তশিষ্ট, অতিমাত্রায় গম্ভীর প্রকৃতির। শ্যামলা বর্ণের মাধব দেখতেও সুন্দর নয়। দেখতে খুবই সাধারণ একজন মানুষ হয়েও অসাধারণ মেধার অধিকারী এই যুবকের হূদয়ে ভালোবাসার জোয়ার বইলেও তা প্রকাশ করতে পারে না। দ্বিধা সংকোচে নিজেকে গুটিয়ে রাখে। সুন্দরী আরাধ্যকে দেখে অনেক ভালো লাগলেও মাধব তার মুখোমুখি হতে পারে না। আরাধ্য তার স্বপ্নের প্রিয় মানুষ আরজে এহসাসের জন্য এত ভালোবাসা ধরে রেখেছে হূদয় জুড়ে—ভেবে ভেবে অবাক ও পুলকিত হয় মাধব। আরাধ্যকে ভালো লাগলেও সে নিজের কুিসত সাদামাটা চেহারার কারণে অনেক কিছুই বলতে পারে না। অনেক দ্বিধা ও সংকোচের কারণে পালিয়ে থাকতে চায় আরাধ্যর কাছ থেকে। যে মানুষটিকে না দেখে শুধু রেডিওতে কণ্ঠ শুনে এত বেশি ভালোবেসে ফেলেছে আরাধ্য সেই জনপ্রিয় আরজে এহসাসের মুখোমুখি হতে পারবে কি আরাধ্য? শেষ পর্যন্ত তাদের দেখা হলে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে? এহসাসকে আরাধ্য মনে মনে যেভাবে কল্পনা করে এসেছে বাস্তবে এহসাসকে দেখার পর তার মনের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে জানতে হলে সনি টিভি চ্যানেলের ‘খুবসুরত’ সিরিয়ালটি দেখতে হবে। এই সিরিয়ালে আরাধ্য চরিত্রে রূপদান করছেন সৌম্য শেঠ। প্রাণোচ্ছল হাসিখুশি কেয়ারফ্রি টাইপের সুন্দরী তরুণী আরাধ্য চরিত্রটিকে এরমধ্যেই দর্শকপ্রিয় করে তুলেছেন তিনি। এর আগে স্টার প্লাস চ্যানেলের ‘নব্য সিরিয়ালে নাম ভূমিকায় অভিনয়ের সুবাদে ঘরে ঘরে বিপুলভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন এই সুন্দরী তন্বী অভিনেত্রী। এবার ‘খুবসুরত’ সিরিয়ালের মাধ্যমে আবার দর্শকদের সামনে ফিরে এসে আবারও বাজিমাত করেছেন সৌম্য। এ ছাড়াও এই টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন রোহিত খুরানা (মাধব), অভিষেক মালিক (রাহুল), উরশী উপাধ্যায় (ভারতী, মাধবের মা) প্রমুখ। সনি টিভি চ্যানেলের ‘খুবসুরত’ সিরিয়ালটি সপ্তাহের প্রতি সোম থেকে শুক্রবার রাত ৮টায় দেখানো হয়।