বলিউড

দখিন হাওয়া...

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৩, ১৮:৫৩
বলিউডে আবার দখিন হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ পর মুক্তি পাবে দুটি রিমেক ছবি ‘হিম্মতওয়ালা’ ও ‘চাশমে বাদ্দুর’। দুই ছবিতেই দেখা দুই জনপ্রিয় ব্যস্ত দক্ষিণী নায়িকা তামান্না ও তাপসিকে। অভিনীত ছবি মুক্তির আগেই তারা দুজন এর মধ্যেই বলিউডে বেশ আলোড়ন তুলেছেন। তবে সব নতুন মুখকে নিয়ে সব সময় আগাম উত্তাপ সৃষ্টি হয় না। এখন যেমনটি হয়েছে দুই আপকামিং নায়িকাদের নিয়ে। তাদের নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন ১৯৮১ ও ১৯৮৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘চাশমে বাদ্দুর’ ও ‘হিম্মতওয়ালা’ ছবি দুটি। দুটি ছবিই বিপুলভাবে দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেছিল। এরমধ্যে ‘হিম্মতওয়ালা’ ছবিটি ছিল সেই সময়কার ব্লকবাস্টার হিট। ত্রিশ-বত্রিশ বছর পর ছবি দুটি রিমেক হয়েছে বলিউডে। কাকতলীয় ব্যাপার হলো আশির দশকের দুই সাড়া জাগানো ছবির রিমেক ভার্সন পর পর দুটি সপ্তাহে আগামী ২৯ মার্চ ও ৫ এপ্রিল মুক্তি পাবে। মুক্তির আগে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ব্যাপক প্রচারণার সুবাদে দুটি ছবির নায়িকা এর মধ্যেই সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। এখন বলিউডের অনেক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন মুক্তিপ্রতীক্ষিত ‘হিম্মতওয়ালা’ ছবির নায়িকা তামান্না এবং ‘চাশমে বাদুর’ ছবির নায়িকা তাপসি। প্রথমেই তামান্নার কথা বলা যাক। তার পুরো নাম তামান্না ভাটিয়া। পাঞ্জাবি মেয়ে। দক্ষিণী সিনেমার জগতে অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে ইতোমধ্যে শক্ত অবস্থান গড়ে তুললেও তামান্নার জন্ম মুম্বাইয়ে। এখানেই বড় হয়েছেন। ১৯৮৩ সালে শ্রীদেবী-জিতেন্দ্র অভিনীত ব্লকবাস্টার হিন্দি সিনেমা ‘হিম্মতওয়ালা’ যখন মুক্তি পায় তখন তামান্নার জন্মও হয়নি। আরও ছয় বছর পর ১৯৮৯-এর ২১ ডিসেম্বর তার জন্ম। ২০০৫-এ দক্ষিণী সিনেমার নায়িকা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর আগেই বলিউডি সিনেমা ‘চাঁদ সে রোশন চেহরা’র মাধ্যমে অভিনয়ে তার অভিষেক হয়েছিল। রোমান্টিক ধাঁচের ওই ছবিতে নতুন মুখ তামান্নার বিপরীতে নায়ক ছিলেন আরেক নবাগত অভিনেতা সামির আফতাব। ছবিটি ভালো চলেনি। ফলে তখন নতুন নায়িকা তামান্নাকে নিয়ে তেমন কোনো হৈচৈ আলোড়ন হয়নি। সেই থেকে বলিউডের সিনেমায় আর তাকে দেখা যায়নি। হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেও এরপর তামান্না দৃশ্যমান হন দক্ষিণী সিনেমার জগতে। ২০০৫ সালেই ‘শ্রী’ ছবির মাধ্যমে তেলেগু সিনেমায় তামান্নার যাত্রা শুরু। এরপর ‘হ্যাপি ডেজ’, ‘কাল্লোরি’, ‘পাডি কাঠাভন, ‘আয়ান’, ‘পাইয়া’, ‘সিরুতহায়’, ‘হানড্রেড পার্সেন্ট লাভ’, ‘বাচ্চা’, ‘ক্যামেরাম্যান গঙ্গা থো রামবাবু’র মতো সাড়া জাগানো বক্স অফিসে সফল ছবিতে নায়িকা হয়েছেন তিনি। ‘হাউসফুল’ খ্যাত সফল পরিচালক সাজিদ খান যখন আশির দশকের সাড়া জাগানো ব্যবসা সফল অ্যাকশন-রোমান্টিক-কমেডি ছবি ‘হিম্মতওয়ালা’ পুনঃনির্মাণের পরিকল্পনা নেন প্রথমেই জিতেন্দ্র অভিনীত চরিত্রে অ্যাকশন হিরো অজয় দেবগণকে কাস্ট করেন। এরপর আগের ছবির শ্রীদেবী অভিনীত চরিত্রটিতে ক্যাটরিনা কাইফ ও আনুশকা শর্মাকে নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় মুখ তামান্নাকে নির্বাচন করা হয় অজয় দেবগণের বিপরীতে। দর্শক বিনোদনে অব্যর্থ হিন্দি সিনেমা নির্মাণে ইতোমধ্যে বিশেষ খ্যাতি ও পরিচিত লাভ করেছেন পরিচালক সাজিদ খান। তার ‘হিম্মতওয়ালা’ ছবিটি দর্শকদের পরিপূর্ণ আনন্দ দানের লক্ষ্যে নির্মিত হয়েছে—ছবিটির প্রমো এবং নাচ-গানের দৃশ্যগুলোতে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। আশির দশকের ব্লক বাস্টার হিট ছবি ‘হিম্মতওয়ালা’ অভিনেত্রী শ্রীদেবীর ক্যারিয়ারের মোড় অনেকটা ঘুরিয়ে দিয়েছিল, ওই ছবিতে তার অভিনয় ও নৃত্যকুশলতা দর্শকদের আন্দোলিত করেছিল। বলা যায়, অভিনীত ছবি ‘হিম্মতওয়ালা’ মুক্তির আগেই তামান্না তারকা বনে গেছেন বলিউডে। এখন তাকে নিয়ে অনেক নতুন চিন্তাভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ ক’জন চিত্রনির্মাতা তামান্নাকে তাদের নতুন সিনেমায় নায়িকা হওয়ার অফার দিয়েছেন। খিলাড়ি হিরো অক্ষয় কুমার, সোনাক্ষি সিনহা, কাজল আগরওয়ালের পর এবার তার পরবর্তী ছবির জন্য বিপরীতে তামান্নাকে নির্বাচন করেছেন। এ বছরেই অক্ষয়ের নতুন ছবিটির কাজ শুরু হবে। এভাবে আরও বেশকিছু নতুন হিন্দি সিনেমায় তামান্নার অভিনয়ের প্রক্রিয়া চলছে। দক্ষিণী সিনেমার পাশাপাশি বলিউডেও ক্যারিয়ারের বিস্তৃতি ঘটাতে তিনি কোমর বেঁধে নেমেছেন। হিন্দি সিনেমায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য আবার ৮ বছর পর ফিরে এসেছেন তামান্না। ‘চাঁদ সে রোশন চেহরা’ ছবিতে ২০০৫-এ তাকে দর্শক গ্রহণ না করলেও ২০১৩-তে ‘হিম্মতওয়ালা’য়া তামান্না দুর্দান্ত সাড়া জাগাতে চলেছেন তা এখনই বলে দেওয়া যায়। এরপর তাপসির কথা শুরু করা যাক। পুরো নাম তাপসি পান্নু। দিল্লির মেয়ে হলেও তার জন্ম পাঞ্জাবি শিক পরিবারে। স্কুলজীবন কেটেছে দিল্লি শহরেই। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। অভিনয়ে আসার আগে তাপসি কম্পিউটার সফটওয়্যার প্রফেশনাল হিসেবে কাজও করেছেন বেশ কিছুদিন। মডেলিংও করেছেন প্রচুর। বিউটি কনটেস্টে অংশ নিয়ে ‘প্যান্টালুনস ফেমিনা মিস ফ্রেশ ফেস’ ও ‘সাফি ফেমিনা মিস বিউটিফুল স্কিন’ শিরোপা জিতেছেন তিনি ২০০৮-এ। টিভি চ্যানেল ভি’র ট্যালেন্ট শো ‘গেট গর্জিয়াস’-এ অডিশন দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন যা তাকে সিনেমায় অভিনয়ে আসার ব্যাপারে অনেকটা সহায়তা করেছে। টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়াতে ম্যালা অ্যাডে মডেল হয়েছেন তাপসি। অনেক আলোচিত ব্র্যান্ডের অ্যাডে তার উপস্থিতি দর্শকদের চমকিত করেছে। এ প্রসঙ্গে তাপসি বলেন, ‘আমি ফুল টাইম মডেল ছিলাম, কিন্তু একসময় মডেলিংটা আমার কাছে বৈচিত্র্যহীন একঘেয়ে বিরক্তিকর মনে হচ্ছিল। আমি নিজেকে যেভাবে হাইলাইট করতে চাইছিলাম মডেলিংয়ে ঠিক সেভাবে করতে না পারায় সিনেমায় চলে এলাম।’ ২০১০-এ তেলেগু সিনেমা ‘ঝুমানডি নাদাম’-এর মাধ্যমে তাপসির অভিনয়ে অভিষেক হয়েছিল। এরপর তামিল, মালায়লম, ছবিতেও নায়িকা হয়েছেন। গত কয়েক বছরে ‘আদুকালাম’, ‘ভাস্তাডু নারাজ্জু’, ‘মি. পারফেক্ট’, ‘ভান্দান’, ‘ভেন্দারান’-এর মতো আলোচিত ছবিতে তাকে দেখা গেছে। তার অভিনীত বহুল প্রশংসিত ‘আদুকালাম’ ছবিটি ৬টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছে। ১৯৮১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দর্শকনন্দিত কমেডি ছবি ‘চাশমে বাদ্দুর’-এর রিমেক করেছেন বলিউডের বহু সুপার ডুপার হিট কমেডি ছবির নির্মাতা ডেভিড ধাওয়ান। আগের ছবিতে নায়ক-নায়িকা ছিলেন ফারুক শেখ ও দীপ্তিনাভাল। দীপ্তি নাভাল যে চরিত্রটি রূপায়ণ করেছিলেন এবার তাতে অভিনয় করেছেন তাপসি। নতুন ‘চাশমে বাদ্দুর’ ছবিতে তাপসির সঙ্গে বলিউডের জনপ্রিয় নায়কদের কেউ না থাকলেও কমেডি ছবি হিসেবে দর্শকদের মন ভরাবে তেমন প্রত্যাশা সবার। টিভি পর্দায় মুক্তিপ্রতীক্ষিত এ ছবির গান ও অন্যান্য দৃশ্যে নতুন মুখ তাপসিকে দেখে অনেক দর্শক উচ্ছ্বসিত। দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে তাপসি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তা কাজে লাগিয়েছেন ‘চাশমে বাদ্দুর’-এ অভিয়ের সময়। ডেভিড ধাওয়ানের মতো প্রতিষ্ঠিত নির্মাতার ছবিতে নায়িকা হওয়ার সুযোগ বলিউডে তার কপাল খুলে দিয়েছে। এখন তার অভিনীত প্রথম ছবিটি মুক্তির আগেই প্রচুর অফার আসতে শুরু করেছে। তামিল, তেলেগু, মালায়লম ছবিতে ক্যারিয়ার গড়ে তুললেও তাপসি এখন বলিউডের হিন্দি সিনেমার অঙ্গনে নিয়মিত পদচারণা করতে চাইছেন। এ জন্য যাবতীয় প্রস্তুতিও নিয়েছেন। প্রথম অভিনীত ছবিটির ফলাফলের অপেক্ষা করছেন এই সুন্দরী তন্বী অভিনেত্রী। তাপসি দর্শকদের মন ভরাতে পারবেন, নির্মাতরাও তাকে কাজে লাগাতে পারবেন তেমন প্রত্যাশা অনেকের। দক্ষিণী সিনেমা থেকে গত বছর বলিউডে পা রেখেছেন ইলিয়ানা ডি ক্রুজ। ‘বারফি’ ছবিতে ইলিয়ানা দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। এর আগে বৈজয়ন্তীমালা, রেখা, হেমা মালিনী, শ্রীদেবী, জয়া প্রদা, মিনাক্ষী শেষাদ্রি, ভানুপ্রিয়ারাও এসেছিলেন দক্ষিণী সিনেমা থেকে। তারা দাপটের সাথে অবস্থান করেছেন বলিউডে। আজকের তামান্না ও তাপসিকে নিয়েও তেমন প্রত্যাশা সবার মনে। তারা কি পারবেন সবার সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে?