‘জিরো ডার্ক থার্টি’ সিনেমাটি বেশ কিছুদিন ধরেছিল আলোচনা আর বিতর্কের তুঙ্গে। সেখানে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল জেসিকা চেস্টিইনের অভিনয়। সব মিলিয়ে বেশ ভালোই ব্যবসা করে সিনেমাটি। তবে অস্কার দৌড়ে হেরে যেতে হয়েছে। এ আয়োজন জেসিকা চেস্টেইনকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
জেসিকা মিশেল চেস্টেইন একজন আমেরিকান থিয়েটার আর্টিস্ট হিসেবে অভিনয়ের জগতে পথচলা শুরু করেন। এরপর একে একে টেলিভিশন এবং সিনেমার পর্দায় আসা। টেলিভিশনে বেশিরভাগই তিনি অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করতেন। ২০০৮ এবং ২০১১ সালে বেশ কয়েকটি সিনেমা দিয়ে তিনি আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বেশকিছু পুরস্কারও পেয়ে যান তার অভিনয়ের জন্য। এর মধ্যে ছিল একাডেমি পুরস্কার, গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা অ্যাওয়ার্ড। গত বছর তিনি টাইমস ম্যাগাজিনের জরিপে ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে স্থান পেয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি আবারও আলোচানার শীর্ষে উঠে এসেছেন ‘জিরো ডার্ক থার্টি’ নামের সিনেমাটির কারণে। ছবিটির পরিচালক হচ্ছেন ক্যাথরিন বিগলো। তার আগের একটি আলোচিত ছবি ‘দ্য হার্ট লকার’ও অস্কার পেয়েছিল। সিআইএ এজেন্টরা কীভাবে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করেছে, তা নিয়েই মূলত ছবিটির কাহিনী। কিন্তু সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জন ম্যাককেইন সহ তিনজন মার্কিন সিনেটর বলেছেন, এই ছবিতে এমন একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে নির্যাতনের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যই ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করেছে। ছবিটি নিয়ে বলা হয়েছে, ছবিটি দেখে অনেকেই ধারণা করবেন এখানে যা দেখানো হয়েছে তা বাস্তব সত্য। তারা বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে নির্যাতনকে একটা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তা মার্কিন মূল্যবোধের বিরাট একটা ক্ষতি করেছিল। এটাকে যুক্তিসঙ্গত করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু ক্যাথরিন বিগলো তার ‘জিরো ডার্ক থার্টি’ ছবিতে এই নির্যাতনের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন। তাদের যুক্তি, নির্যাতনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ওসামা বিন লাদেনকে ধরতে সাহায্য করে বলে যে চিত্র এই ছবিতে দেখানো হয়েছে, তা সঠিক নয়। ক্যাথরিন বিগলো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ছবিতে নির্যাতনের বেশ কিছু বিতর্কিত পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ওসামা বিন লাদেনকে ধরতে কোনো একক পদ্ধতিই যে তথ্য সংগ্রহে সহায়ক ছিল, এটা তারা বলেননি।
এই ছবিটি অস্কার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছিল। আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে ‘৯/১১’ আক্রমণ-ঘটনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমী রাষ্ট্রগুলো গরু খোঁজা খুঁজছিল। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদ শহরে ২০১১-তে মার্কিন নেভি সিল টিম ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পায় এবং ওসামা নিহত হন। ছবিতে বিশেষ ভূমিকায় আছেন জেসিকা চ্যাস্টেইন, জেসন ক্লার্ক, জোয়েল এডগারটন, মার্ক স্ট্রং প্রমুখ। ছবির নামের মধ্যেই রয়েছে এক সামরিক সংকেত। ‘জিরো ডার্ক থার্টি’ অর্থাত্ রাত ১২.৩০। ঠিক ওই সময়েই মার্কিন নেভি সিল হানা দিয়েছিল অ্যাবটাবাদে লাদেন ডেরায়। এর আগে পরিচালক ক্যাথরিন বিগেলো এবং অভিনেত্রী জেসিকা চ্যাস্টেন—দুজনই অস্কার পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠান ঘুরে এসেছেন। ২০০৮ সালের অনুষ্ঠান থেকে পুরস্কার নিয়েই ফিরেছিলেন বিগেলো। তবে চ্যাস্টানকে গত বছর ‘দ্য হেল্প’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য পার্শ্ব অভিনেত্রীর মনোনয়ন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, হুট করে এই ছবি আলোচনার পেয়ালায় কেন। কারণ, চ্যাস্টেইনের আরেকটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল। ‘ট্রান্সফর্মারস’-তারকা শিয়া লেবিওফের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ললেস ছবিতে। সেই ছবি নিয়ে কথা বলতেই সংবাদমাধ্যমের সামনে নিয়মিত হাজিরা দিতে হয়েছে চ্যাস্টেইনকে। স্বাভাবিকভাবেই ‘জিরো ডার্ক থার্টি’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু সেসময় এই সিনেমা নিয়ে তেমন কোনো কথা জানাননি জেসিকা। শুরু থেকেই ‘জিরো ডার্ক থার্টি’ নিয়ে গোপনীয়তা সেই ছবির নাম দেওয়া থেকেই। প্রথমে ছবিটিকে অভিহিত করা হচ্ছিল আনটাইটেলড ক্যাথরিন বিগেলো ওসামা বিন লাদেন ফিল্ম বা আনটাইটেলড ইন্টারন্যাশনাল থ্রিলার নামে। কেউ কেউ বলছিলেন, ছবির নাম কিল বিন লাদেন অথবা হান্ট। অবশেষে ছবির প্রথম ট্রেলারে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম নিয়ে দেখা দেওয়া কৌতূহলের অবসান হয়।
উদ্বোধনী প্রদর্শনীতেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল ‘জিরো ডার্ক থার্টি’ সিনেমাটি। ওসামা বিন লাদেনকে নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাকে ইতোমধ্যেই এ বছরের সবচেয়ে বিতর্কিত সিনেমা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সমালোচকরা।
এদিকে সমালোচকরা বলছেন, ‘জিরো ডার্ক থার্টি’-তে স্পর্শকাতর এই বিষয়টি আরো জটিল করে দেখানো হয়েছে। এতে করে বিভিন্ন মীমাংসিত ক্ষেত্রগুলোতে আবার নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে এত সব আলোচনা-পর্যালোচনার বাইরে গিয়ে সিনেমাটি খুব বেশি সাড়া ফেলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত অস্কারও ঝুলিতে পুরতে পারেননি তারা। বরং, জেসিকা চেস্টেইনকে সরিয়ে অস্কারের দৌড়ে সেরা অভিনেত্রীর খেতাবটি জিতে নিয়েছেন জেনিফার লরেন্স।
