সারাদেশ বিনোদন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৩ পালন উপলক্ষে ৮ মার্চ সন্ধ্যা সাতটায় শিল্পকলা একাডেমীর স্টুডিও থিয়েটার হলে স্বপ্নদলের প্রযোজনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ও জাহিদ রিপন নির্দেশিত দর্শকনন্দিত কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’-এর বিশেষ মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়। মিলনায়তনপূর্ণ দর্শক উপস্থিতিতে প্রদর্শনী শেষে স্বনামখ্যাত নির্দেশক-অভিনয়শিল্পী-সংগঠক লাকী ইনাম এবং নাট্যকর্মে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দলের নিয়মিত নারী-নাট্যকর্মীদের আনুষ্ঠানিক সম্মাননা জানায় স্বপ্নদল। পাশাপাশি নারী-দর্শকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
শতবর্ষ পূর্বে পৃথিবীর কোথাও নারীর ভোটাধিকার পর্যন্ত না থাকলেও রবীন্দ্রনাথ ১২১ বছর আগে ১৮৯২-এ মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা উপাখ্যান অবলম্বনে কিছু রূপান্তরসহ তাঁর রচিত কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’-য় নারীকে যেভাবে আত্ম-অধিকারের সচেতনতাসহ সম্মানের আসনে আধিষ্ঠিত করেছেন, তার তুলনা সমগ্র বিশ্বশিল্প বা সাহিত্যে বিরল। পাশাপাশি এতে নারী-পুরুষের সমানাবস্থান এবং এ ক্ষেত্রে পুরুষের প্রচলিত-দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা প্রভৃতি প্রসঙ্গও যেভাবে এসেছে তা-ও দুর্লভ! ‘চিত্রাঙ্গদা’-র নাট্যকাহিনিতে উপস্থাপিত হয়—মহাবীর অর্জুন সত্যপালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচর্যব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন এবং যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। অর্জুন এবারে যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে—অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবর্ষে তার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি-স্মারক প্রযোজনা হিসেবে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে রচনার ১১৯ বছর পরে স্বপ্নদলের প্রযোজনায়ই আধুনিক মঞ্চে প্রথম কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’-র নিয়মিত মঞ্চায়ন সূচিত হয়। ইতোমধ্যে এর একুশটি প্রদর্শনী সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, সকল নারীকে আন্তরিক সম্মান জানাতে স্বপ্নদল ২০১২ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ পালন শুরু করে।
