বিকল্প উপায়ে করদাতাদের সাথে বিদ্যমান বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রম দ্রুততর করার লক্ষ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের সেল গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই সেল বিদ্যমান মামলাগুলো পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য (আদালতে আটকে থাকা মামলার ক্ষেত্রে) করদাতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবে। তারা করদাতাদের এই পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরবেন। এছাড়া প্রয়োজনে এ বিষয়ে সচেতন করবেন। মূলত মামলাজটে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ দ্রুত সরকারের ঘরে আনার লক্ষ্যে এই সেল সমন্বয়কের ভূমিকায় কাজ করবে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এনবিআর থেকে উদ্যোগ নিয়ে এ ধরনের একাধিক বড় অঙ্কের মামলা নিষ্পত্তি করায় এ ধরনের একটি সেল গঠনের ব্যাপারে উত্সাহী হয়েছেন চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। প্রাথমিক অবস্থায় চার সদস্যের সমন্বয়ে এই সেল গঠনের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এর নেতৃত্বে থাকবেন একজন প্রথম সচিব। বাকী তিনজন থাকবেন কর্মকর্তা পর্যায়ের। এই কমিটি কী পরিমাণ মামলায় কত টাকা আটকে আছে তা নির্দিষ্ট করে এর মধ্যে কয়টি মামলা প্রাথমিক অবস্থায় নিষ্পত্তি করা যায় তার একটি তালিকা করবে। পরবর্তীতে কর কমিশনারের মাধ্যমে করদাতাদের সাথে যোগাযোগ করে এডিআরের বিষয়ে তাদেরকে সচেতন করবে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার ইত্তেফাককে বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে অচিরেই এ ধরনের একটি সেল গঠন করা হবে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট সংক্রান্ত ২২ হাজারেরও বেশি মামলা রয়েছে। এতে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আটকে আছে। বছরের পর বছর ধরে এসব মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এর মধ্যে এমন মামলাও রয়েছে যা গত এক যুগ ধরে ঝুলে আছে। গত বছরের মার্চ মাস থেকে এডিআর কার্যক্রম শুরু হলেও এই সময়ে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসেনি বলে মনে করে খোদ এনবিআর। এ পর্যন্ত ৩০০ কোটি টাকার ৭৬টি মামলা এডিআরের জন্য করদাতারা আবেদন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলে এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও পৌনে ৬ কোটি টাকার একটি মামলা এই পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করেন।
