মু খো মু খি

মেধার বিবেচনায় কোনো ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই এ দেশের শিল্পীরা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৩, ২০:১২
আপনার বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে বলুন। এই মুহূর্তে অনেকগুলো ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটকে কাজ করছি। ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে হচ্ছে মাতিয়া বানু শুকুর ‘প্রজ্ঞা পারমিতা’, অঞ্জন আইচের ‘জল ফড়িংয়ের গান’, সাহিল রনির ‘রান্নাবাড়ি’, জুয়েল মাহমুদের ‘আকাশ মেঘে ঢাকা’, মইনুল হোসেন খোকনের ‘জীবন সংসার’, হাসান শিকদারের ‘পয়মন্ত’, ফজলুল হকের ‘একজন হাজেরার গল্প’, মোহন খানের ‘নীড় খোঁজে গাঙচিল’সহ আরও দুটি ধারাবাহিক প্রচার হচ্ছে, একটির নাম ‘শুভযাত্রা,’, আরেকটির নাম ‘ডাবিং বাকি আছে’। আর এক ঘণ্টার নাটক, পহেলা বৈশাখের জন্য এক এক ঘণ্টার নাটকে অভিনয় করেছি। এতে আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন সজল। এই নাটকটির নাম ‘এই ছিল মনে’, এ ছাড়া আরও করলাম ‘পালসার’, ‘ভালোবাসি কত ভালোবাসি নাতো’সহ আরও বেশ কয়েকটি। এ মাসের শেষের দিকে চারটি এক ঘণ্টার নাটকের শুটিংয়ের জন্য মালয়েশিয়াতে যাচ্ছি। পরিচালনা করবেন শাহ আলম কিরণের পরিচালনায়। কিছুদিন আগে তো একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, এই চলচ্চিত্রটির কী অবস্থা? পাশাপাশি চলচ্চিত্রের আর নতুন কোনো খবর আছে কী? হুমম, ‘জোত্স্না রাতের গল্প’ নামের একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। এর শুটিং শেষ অনেক আগেই। তবে ডাবিং বাকি রয়ে গেছে এখনও। প্রডিউসার-জনিত কিছু কারণে এই কাজটি শেষ হচ্ছে না। আর এই মুহূর্তে নতুন কোনো ছবিতে কাজ করছি না, তবে এ বছর নতুন দুটি অনুদানের ছবিতে কাজ করার কথা চলছে। এত এত নাটক, টেলিফিল্মে কাজ করছেন, এর থেকে নিজের আর্কাইভের ফ্রন্টে রাখার মতো কাজ হচ্ছে কী? আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগটাকেই বেশি প্রাধান্য দিই। সেই নিরিখেই আমার প্রত্যেকটা চরিত্রই ভিন্নধর্মী, তাই সবগুলো কাজই আলাদাভাবে নিজের সংগ্রহে রাখার মতো। তবে কিছু পছন্দের কাজ তো রয়েই যায়, যেমন রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত জীবন কাহিনী নিয়ে আমি কাজ করেছি, যেখানে আমি কাদম্বরী দেবীর চরিত্রে কাজ করেছি। এ ছাড়াও সাহিত্যনির্ভর অসংখ্য কাজ আমার রয়েছে। যা আমার অভিনয় জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। এত এত চ্যানেল আমাদের, এত এত প্রোডাকশন হচ্ছে, তারপরও তো আমাদের দর্শকরা ভারতীয় চ্যানেল ছাড়তে পারছে না। তার মানে কী তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আপনারা ব্যর্থ? শিল্পমাধ্যমে কাজের প্রচেষ্টা প্রতিযোগিতার অন্তর্ভুক্ত নয়। এই প্রচেষ্টা প্রতিমুহূর্তে শিল্প এবং শিল্পীকে সমৃদ্ধ করার একটি জার্নি। এই জার্নির আল্টিমেট গোল সেটেল করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আর সেই উদ্দেশ্য সফল করার জন্য সময়ের প্রয়োজন। সেই সাথে সুস্থ পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। এই পৃষ্ঠপোষকতা শিল্পী, কলাকুশলীসহ প্রচারমাধ্যম প্রত্যেকেরই। আমাদের দেশে চ্যানেলগুলোতে প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে স্পেশিয়ালাইজেশন জরুরি। যদি জীবন ঘনিষ্ঠতার কথা বলি, তবে আমাদের কাজ এবং প্রচেষ্টায় আমরা অনেক এগিয়ে আছি। মেধার বিবেচনায়ও আমরা কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। আরেকটা বিষয় বলব, আগে যে হারে ভারতীয় চ্যানেল দেখতেন আমাদের দেশের দর্শকেরা এখন কিন্তু এতটা নেই। আমি বলব এখন বেশিরভাগ মানুষ আমাদের চ্যানেল, আমাদের কাজ দেখেন। আপনাকে মাঝে মাঝেই দেখা যায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করতে, এ প্রসঙ্গে বলুন। ‘জীবন সংসার’ নামের নতুন একটি ধারাবাহিকে আমি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করছি। চরিত্রের ক্ষেত্রে পজেটিভ বা নেগেটিভ বলে কোনো শব্দে আমি বিশ্বাসী নই। আমি চরিত্রের বৈশিষ্ট্যে বিশ্বাসী। একটি চরিত্র কোন সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে, একজন মানুষ কোন ধরনের আচরণ করেন তার বিশ্লেষণাত্মক কাজ করতে আমি পছন্দ করি। আমি সব সময়ই একটি পাণ্ডুলিপিতে সর্বোচ্চ অভিনয়ের সুযোগ সম্পন্ন চরিত্রটিতে রূপদান করতে পছন্দ করি। সেই নিরিখেই আমি চরিত্র বাছাই করি। অভিনয়ের বাইরে আর কী করছেন? মাঝে মাঝে গান গাই। এই তো কিছুদিন আগে একটি টেলিফিল্মের টাইটেল ট্র্যাকে কণ্ঠ দিলাম। এর মধ্যে আমি একটা টাইটেল সংয়ে কাজ করলাম টেলিফিল্মের।