বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ মহাজোট সরকারের গত চার বছরে মোট ২০২টি আইন পাস করে রাষ্ট্রের আইন সভার দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করেছে। বিগত চারদলীয় জোট সরকার তাদের চার বছরে ১২৬টি আইন প্রণয়ন করে। সরকারের চার বছরে আইন মন্ত্রণালয়ের সংসদ ও লেজিসলেটিভ বিভাগের প্রণীত এসব আইনের মধ্যে অনেক নতুন, মৌলিক ও সংস্কারমূলক আইন রয়েছে। এরমধ্যে গত ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চার বছরে নবম জাতীয় সংসদ ১৫টি অধিবেশন শেষ করেছে। এ ১৫ অধিবেশনে জাতীয় সংসদে এ রেকর্ড সংখ্যক আইন প্রণয়ন ছাড়াও ৪টি বাজেট পাস করা হয়েছে। এছাড়া গত ২৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৬ মার্চ শেষ হওয়া সংসদের ১৬তম অধিবেশনে আরো ১৩টি আইন পাস করা হয়।
আইন প্রণয়নের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে সংবিধানের ১৫তম সংশোধন আইন পাস করা হয়। এ আইনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রথা রহিত করা হয়। সাথে সাথে ১৯৭২ সালের অনেক বিষয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাছাড়াও আরো বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ আইন এ সময়ে পাস করা হয়। এ আইনগুলোর মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৩২টি, দ্বিতীয় অধিবেশনে ২৩টি, তৃতীয় অধিবেশনে ১১টি, চতুর্থ অধিবেশনে ২৩টি, পঞ্চম অধিবেশনে ২৪টি, ষষ্ঠ অধিবেশনে ১৩টি, সপ্তম অধিবেশনে ৪টি, অষ্টম অধিবেশনে ৬টি, নবম অধিবেশনে ৮টি, দশম অধিবেশনে ২টি, একাদশ অধিবেশনে ৭টি, দ্বাদশ অধিবেশনে ১৫টি এবং ত্রয়োদশ অধিবেশনে ১৫টি আইন পাস করা করা হয়। এসব আইন ইতোমধ্যে কার্যকরও করা হচ্ছে। এতে সম্পূর্ণ নতুন আইনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯, ভোটার তালিকা আইন ২০০৯, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০০৯, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯, ট্রেডমার্ক আইন ২০০৯, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প (ভূমি অধিগ্রহণ) আইন ২০০৯, সরকারি অর্থ বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৯, বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য টেরিস্ট্ররিয়াল সমপ্রচার সুবিধা সংরক্ষণ আইন ২০০৯, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯, মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০১০, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার আইন ২০১০, হাইটেক কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর আইন ২০১০, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি আইন ২০১০, বাংলাদেশ ন্যাশনাল সায়েনোটফিক এন্ড টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন সেন্টার ( ব্যান্সডক) আইন ২০১০, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আইন ২০১০, বিদ্যুত্ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০, পরিবেশ আদালত আইন ২০১০, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন ২০১০, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আইন ২০১০, বর্ডার গার্ড আইন ২০১০, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন ২০১১, উদ্ভিদ সংগনিরোধ আইন ২০১১, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন ২০১১, সংবিধান পঞ্চদশ সংশোধন আইন ২০১১, কর ন্যায়পাল রহিতকরণ আইন ২০১১, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (সংশোধন) আইন ২০১১, দেওয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১, পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আইন ২০১১, বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি আইন ২০১২ ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১২ রয়েছে।
এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও স্বল্প সময়ে জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ফৌজদারি কার্যবিধি ও দেওয়ানি কার্যবিধিকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে বেশ কটি সংশোধনী এ সময়ে পাস করা হয়েছে। এছাড়াও দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রেখে আইন পাস হয়েছে। এছাড়া গত চার বছরে ২৩টি অধ্যাদেশ ৮১০টি চুক্তি ও ১ হাজার ৪৫০টি এসআরও প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কটি আইনের বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ করা হয়।
