৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৩, ২২:৫১
চাঞ্চল্যকর ঢাকার ইডেন কলেজ ছাত্রী গোপালগঞ্জের সাদিয়া নূর মিতা হত্যা মামলায় দুই সহোদরসহ ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অপর এক আসামিকে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। মামলা দায়ের হওয়ার ২ বছর ৭ মাস ১২ দিনের মাথায় এ রায় দেয়া হলো। গতকাল বুধবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মিতার ফুফাতো ভাই খন্দকার মামুন হাসান ও খন্দকার হাসিবুর রহমান নিপুন এবং নিপুনের দুলাভাই মফিজ খন্দকার ওরফে দগু খন্দকার। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, কাজী শাহ আলম ওরফে তুষার কাজী, শামসুর রহমান জনি, শেখ নাজমুল ও নিহতের চাচাতো বোন ইসরাত জাহান শ্রাবণী। যাবজ্জীবন কারা-দণ্ডপ্রাপ্তদের দণ্ডের অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন আদালত। অপর আসামি আনোয়ার হোসেন মনিকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া জসিমুল ইসলাম জগলু ও মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। উল্লেখ্য, নিহত মিতার বাড়ি গোপালগঞ্জের মিয়াপাড়ায়। ২০১০ সালের ২৪ আগস্ট ঈদ উপলক্ষে কলেজ ছুটির পর মিতা পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে যান। আসামি জনি, নিপুণসহ অন্য আসামিরা ৩০ আগস্ট রাতে মিতাকে ঘর থেকে অপহরণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরদিন বেলা আনুমানিক ৩টায় বাড়ির পাশে একটি পুকুর থেকে মিতার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা লিয়াকত হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে ওইদিনই গোপালগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১১ সালের ১৬ আগস্ট গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এ মামলার ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরে এ মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এক নির্বাহী আদেশে ঢাকার এ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১১ সালের ২৯ মে আসামিদের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার বিচার চলাকালে আদালত অভিযোগপত্রভুক্ত মোট ১৮ জন সাক্ষির মধ্যে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এস এম রফিকুল ইসলাম।