রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র শান্ত। প্রথম শ্রেণী থেকে এই প্রতিষ্ঠানে পড়ছে। চলতি বছর জানুয়ারিতে তাকে স্কুলে আসতে নিষেধ করেন প্রধান শিক্ষক। সে জানে না তার অপরাধ কি। শান্ত ছাড়াও একই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র তাজ এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র তানিম রয়েছে এই তালিকায়। তাছাড়া জনৈক মো: দিদারের সপ্তম শ্রেণী পড়ুয়া কন্যা এবং মো: মইনুলের চতুর্থ শ্রেণী পড়ুয়া কন্যাকেও স্কুলে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। ঘরে বসে অলস সময় কাটাচ্ছে তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। অভিযোগ এদের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। আর তা হলো, বিদ্যালয়ে ‘ভর্তি বাণিজ্য’ ও ’বদলি বাণিজ্য’। সম্প্রতি এই পাঁচ শিক্ষার্থীকে স্কুলে আসতে নিষেধ করেছেন প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন।
শান্তর মা রুমা আক্তার বলেন, নিজেদের কৃতকর্মের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের পা ধরে ক্ষমা চেয়েও ফল পাইনি। শাস্তি আমাদের দেয়া হোক। প্রয়োজনে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হোক। তারপরও সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনিপুর স্কুল রূপনগর শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক জিয়াউল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের টিসি দেয়ার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত। তাদের অভিভাবকরা কোন্ ধরনের অপরাধে জড়িত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরা ঘুরে ঘুরে তদবির করে বেড়ায়। অবৈধ প্রক্রিয়ায় ছাত্র ভর্তির চেষ্টা করে। তিনি জানান, একই অপরাধে ৫ জন অফিস সহকারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরা হলেন, ব্রাঞ্চ-১-এর হায়দার আলী, মূল বালক শাখার আব্দুল কাদের, ব্রাঞ্চ ৩-এর আব্দুর রাজ্জাক, সরদার গোলাম রসুল ও নাজমা খাতুন।
তিনি আরো বলেন, ওই ৫ শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ছাত্র বদলির চেষ্টা করেন। অভিভাবকের শাস্তি সন্তানদের দেয়ার সিদ্ধান্ত অমানবিক কী না, মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আসলেই অমানবিক; কিন্তু আমাদের এখানে কিছু করার নেই। তিনি অধ্যক্ষের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ থেকে জানুয়ারির ১৫ তারিখ পর্যন্ত ৮৪ জন শিক্ষার্থীকে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া করেন তারা। স্বাক্ষর জাল করা ফৌজদারি অপরাধ।
তাহলে মামলা করা হলো না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত ম্যানেজিং কমিটি নেয়। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।’ এসময় পাশে বসা আরেক শিক্ষক বলেন, যাদেরকে ক্লাসে আসতে দেয়া হচ্ছে না তারা সবাই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। প্রথম শ্রেণী থেকে এরা পড়ে আসছে। তারা হয়তো জানেই না তাদের বাবা-মা এসব অনিয়মের সাথে জড়িত। জানা গেছে, এ সংক্রান্ত এক বৈঠকে কেউ কেউ মানবিক বিষয়টি তোলেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ওই শিশুদের ক্লাস করার সুযোগ দিলে বরখাস্ত হওয়া ৫ কর্মচারীকেও ফিরিয়ে আনতে হবে। ফলে ওই সভায় ৫ শিক্ষার্থীর ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে কথা বলতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেনের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি লাইন কেটে দেন। পরে আবার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
