দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছে দুদক। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি করতে পারে এমন সন্দেহে অর্ধশত কর্মকর্তার তালিকা তৈরি করেছে কমিশন। এ তালিকা অনুযায়ী দুদকের ১১টি টিমের প্রধান সম্পর্কে তথ্য জানতে দুদক থেকে অনুসন্ধান করা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে নোটিস প্রদান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দুদক সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী জানান, দুদকের অনুসন্ধান টিমের সদস্যরা কোনো অনিয়ম করছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ১১টি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে দুদক। আর এসব প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজ করতে গিয়ে খোদ দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থ ও অন্যান্য সুবিধাসহ উেকাচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে গিয়ে খোদ দুদকেরই একজন উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণসহ অভিযোগ হাতে পেয়েছে কমিশন। ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, দুদক কর্মকর্তারা দুর্নীতি অনুসন্ধান করার সময় অবৈধভাবে ডিসিসির গাড়ি ব্যবহার করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি কমিশন নিজ প্রতিষ্ঠানের ওই কর্মকর্তাকে অনুসন্ধান টিম প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে টিম পুনর্গঠন করেছে।
সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী জানান, যেসব সেক্টরে দুদক কর্মকর্তারা কাজ করছেন সেগুলোতে গিয়ে তারা নিজেরা কোনো অনিয়ম করছেন বা করেছেন কি-না এবং করে থাকলে কি কি অনিয়ম করছেন বা করেছেন তা জানতে চেয়ে ওইসব প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে দুদকের যার বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে দুদক তার বা তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে।
সূত্র জানায়, অনুসন্ধান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া অভিযোগ যাচাই-বাছাই করছে দুদকের একটি বিশেষ টিম। ওই টিম সরাসরি দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের তত্ত্বাবধায়নে কাজ করছে। ওই টিমের পরামর্শ অনুযায়ী দুদকের ১১টি টিমের প্রধান সম্পর্কে তথ্য জানতে দুদক থেকে অনুসন্ধান করা ১১টি প্রতিষ্ঠানে নোটিস প্রদান করা হয়েছে। এসব নোটিসের জবাব পাওয়ার পর এবং দুদকের এই টিমের অনুসন্ধানের তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করবে কমিশন। এরপর কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
