গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম কোন আলোচনা করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। হেফাজতে ইসলাম ঢাকায় দুই কোটি ওলামা-মাশায়েখের সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে গণজাগরণ মঞ্চের মূল উদ্যোক্তা ডা. ইমরান এইচ সরকারসহ প্রতিনিধি দল গতকাল চট্টগ্রামে না গিয়ে ফেনী থেকে ফিরে এসেছেন।
গণজাগরণ মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলামের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম নগরীতে সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত ১৪৪ ধারা জারি গতকাল বুধবার শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চের স্থানীয় পর্যায় থেকে সমাবেশের কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় হেফাজতে ইসলামও চট্টগ্রামে তাদের হরতাল কর্মসূচি স্থগিত করে। পুরো নগরীতে নিষেধাজ্ঞার কারণে কারো পক্ষ থেকে কোথাও সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়নি। নগরীর প্রতিটি থানা এলাকায় বিজিবি, আমর্ড পুলিশ, র্যাব এবং পুলিশকে টহল দিতে দেখা যায়।
প্রায় ২০০ বিজিবি সদস্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসমূহে অবস্থান নেয় এবং প্রদক্ষিণ করে। নগরীতে গণজাগরণ মঞ্চ এলাকা হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সংলগ্ন চেরাগী পাহাড় থেকে খাস্তগীর মোড় পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিশেষ প্রহরা বসানো হয়। এই সড়কে যানবাহনের সাথে সাথে লোকজনের চলাফেরাও সীমিত করা হয়।
শাহবাগ জাগরণ মঞ্চের ডা. ইমরান এইচ সরকারসহ একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা থেকে রওয়ানা করে ফেনী এলাকায় পৌঁছলে দুপুরে পুলিশ তাদের আবার ঢাকার দিকে ফিরিয়ে দেয়। তাছাড়া শাহবাগের প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করার আগ্রহ দেখালেও হেফাজতে ইসলাম তা প্রত্যাখ্যান করে। বরং তারা বলেন, আল্লাহ-রসুলের দুশমনের সাথে ওলামা-মাশায়েখের কোন আলোচনা হতে পারে না। চট্টগ্রামে ওলামা-মাশায়েখদের সাথে আলোচনার জন্য ঢাকার গণজাগরণ নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম যাচ্ছেন এ সংবাদ প্রকাশের পর সকাল থেকে চট্টগ্রামে বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন গণমাধ্যম অফিসে খোঁজ নিতে থাকেন। এমনকি গণমাধ্যম থেকে গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃবৃন্দের নিকট জানতে চাইলে তারাও এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানান। গণজাগরণ মঞ্চের স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হয়। স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে ঢাকার নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ের ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়।
তাছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে গণজাগরণ মঞ্চের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অভাবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের চাপের মুখে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চের মহাসমাবেশ স্থগিত করতে হয়েছে। প্রথম থেকে গণজাগরণ মঞ্চের স্থানীয় পর্যায়ে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ডা. একিউএম সিরাজুল ইলাম, সমন্বয়কারী হিসেবে শরীফ চৌহান ও সদস্য সচিব হিসেবে উদীচীর ডা. চন্দন দাস দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গণজাগরণ মঞ্চের ২৩ দিনের মাথায় উক্ত তিন সদস্যের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলামকে মুখপাত্র করা হয় বলে গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তাদের অন্যতম এক নেতা জানান। তবে এনিয়েও দ্বিমত রয়েছে বলে জানা যায়। কারণ ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম বিদেশ চলে যাওয়ায় মো. মফিজুর রহমান প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে গত মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন এবং গণজাগরণ মঞ্চের মহাসমাবেশ স্থগিত করেন। তাছাড়া বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ছাত্র স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও তা গঠন হয়নি। এরপরও গণজাগরণ মঞ্চের চট্টগ্রামের কর্মসূচিসমূহ সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে পালিত হচ্ছে বলে নেতৃবৃন্দ জানান। আগামী দিনের কর্মসূচি সর্বসাধারণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পালিত হবে বলে উদ্যোক্তাদের কয়েকজন জানান।
চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার প্রেসক্লাব সম্মুখে গণজাগরণ মঞ্চ লক্ষ্য করে বোমা হামলার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিবাদ সমাবেশ করবে। গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তারা জানান, তাদের দাবি যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ফাঁসি এবং জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। ওলামা-মাশায়েখের সাথে তাদের কোন দ্বন্দ্ব নেই। তাছাড়া ধর্মীয় গোষ্ঠী কিংবা ধর্মের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান নয়।
যেখানে ব্লগার সেখানে প্রতিরোধ ঃ আল্লামা শফী : আল্ল¬াহ ও রাসুলের (সা.) বিরুদ্ধে কটূক্তিকারী ব্লগারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী ৬ এপ্রিল ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে ২ কোটি ওলামা মাশায়েখের সমাবেশ করবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সারাদেশ থেকে লংমার্চ করে ওলামা মাশায়েখরা ওই সমাবেশে যোগ দেবেন বলে গতকাল ইত্তেফাককে জানিয়েছেন সংগঠনের অন্যতম নেতা মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী। এদিকে গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধিদল হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্ল¬ামা শাহ আহমদ শফীর সাথে আলোচনা করতে আসছেন বলে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ভিত্তিহীন ও তৌহিদী জনগণকে ধোঁকা দেয়ার সামিল বলে মন্তব্য করেছেন আল¬ামা শাহ আহমেদ শফী।
গতকাল বুধবার দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালকের কার্যালয়ে হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দের সাথে এক জরুরি বৈঠকে তিনি বলেন, শাহবাগী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ব্লগাররা প্রিয় নবী রাসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধে যে জঘন্য অবমাননা করেছে, তা জাতির কাছে দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে গেছে। মহান আল্ল¬াহ, নবী-রাসুল, ইসলাম, মুসলমান, ওলামা-মাশায়েখ, ইসলামী কৃষ্টি-কালচার পর্দা, দাড়ি-টুপিসহ ইসলামী আদর্শ ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শাহবাগী নাস্তিক ব্লগারদের অপতত্পরতার ব্যাপারে কোটি কোটি রাসুলপ্রেমী মুসলমানের মনে কোন সংশয়-সন্দেহ নেই। সুতরাং এদের সাথে আলোচনার প্রশ্নই আসে না। শাহ আহ্মদ শফী বলেন, যেখানে রাসুলের দুশমন নাস্তিক ব্ল¬গারদের ওলী-আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রামে প্রবেশ কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে, সেখানে তাদের সাথে আলোচনার প্রশ্ন আসে কী করে! তিনি অবিলম্বে ইসলাম ও রাসুলুল্লাহ্ (সা.)-এর অবমাননাকারী নাস্তিক ব্লগারদের গ্রেফতার করে বিচারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি চট্টগ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি¬দের প্রতি বিভ্রান্তিকর কোন খবরে কান না দিয়ে ওলী-আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র নাস্তিক ব্ল¬গারদের কঠোর প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেখানেই তারা প্রবেশের চেষ্টা করবে, সেখানেই তাদের কঠোর প্রতিরোধ করতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মুহাদ্দিস আল্ল¬ামা শামসুল আলম, মহাসচিব আল্ল¬ামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ, মাওলানা আশ্রাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা শফিউল আলম প্রমুখ।
এদিকে নাস্তিকদের শাস্তির দাবিতে কাল শুক্রবার মসজিদে মসজিদে গণবিক্ষোভ পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ওলামা-মাশায়েখবৃন্দ। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্ল¬ামা আহমদ শফীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে-মাশায়েখদের আহ্বানে আগামী শুক্রবার দেশের সকল মসজিদ থেকে গণবিক্ষোভ সফল করে ঈমান রক্ষার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদরা সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় দেশের ৯২ শতাংশ মুসলমানকে তাদের ঈমানহারা করে এদেশকে ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
চবিতে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ : চবি প্রতিনিধি সানজিদা জিনিয়া জানান, হেফাজতে ইসলামের হুমকি, বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা ও চট্টগ্রাম নগরীতে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ বাতিল করা হলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের সহকারী সেক্টর কমান্ডার ও শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের নেতা যুদ্ধাহত বীর বিক্রম আবুল কালাম আজাদ এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় বুদ্ধিজীবী চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চের এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শতশত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমাবেশে অংশগ্রহণ করে সমাবেশকে সফল করে তোলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দোসররা বাংলার মানুষকে হত্যা করেছে। আমাদের মা-বোনদের নির্যাতন করেছে। নির্বিচারে বাংলার মেধাবী সন্তানদের হত্যা করেছে। আমরা তাদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি। বক্তারা আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রাণের দাবি। এ আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য যারা হুমকি-ধামকি দিয়েছেন তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, রক্ত দিয়ে হলেও আমরা আমাদের আন্দোলনকে সফল করব এবং বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। বিশ্ববিদ্যালয় গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের প্রগতিশীল শতশত শিক্ষক।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. সেকান্দার আহমেদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. গাজী সালেহউদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর সিরাজ উদৌল্লাহ প্রমুখ।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয় বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেলস্টেশন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
প্রেসক্লাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে না দেয়ার আহ্বান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী এক বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিকরা হচ্ছেন জাতির বিবেক। আর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব পেশাজীবী সাংবাদিকদের দল-নিরপেক্ষ একটি ঐহিত্যবাহী মিলন কেন্দ্র হিসেবেই আমরা জানি; কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, গত প্রায় একমাস ধরে কথিত গণজাগরণ মঞ্চের নামে একটি পক্ষ ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব চত্বরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। আমরা আশা করবো, দল-নিরপেক্ষ পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বর যেন কারো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের ঢাল হিসেবে ব্যবহার না হয় এবং এই চত্বর সব মত ও পেশার মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব এবং পুলিশ কমিশনারের কাছে ফ্যাক্সবার্তা পাঠানো হয়েছে। ওই ফ্যাক্সবার্তায় হেফাজতে ইসলাম ও অপর একটি সংগঠনের সন্ত্রাসীরা প্রেসক্লাবে হামলা চালানোর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার, হেফাজতে ইসলামে কোন সন্ত্রাসী নেই। কাজেই ফ্যাক্সবার্তায় উল্লেখিত অরাজনৈতিক এই সংগঠনটির সন্ত্রাসী হামলার কথাটি একটি দায়িত্বশীল পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে একেবারেই অনভিপ্রেত।
গণজাগরণ মঞ্চের বিবৃতি
ফেনী থেকে ফিরে হেফাজতে ইসলামকে সহিংস পথ পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। গতকাল ইমরান এইচ সরকার প্রেরিত এক বিবৃতিতে বলা হয় ধর্ম, বর্ণ নিয়ে আলোচনা গণজাগরণ মঞ্চের উদ্দেশ্য নয়। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি আমাদের মূল দাবি। ইসলাম শান্তির ধর্ম হেফাজতে ইসলাম এই চিন্তায় বিশ্বাসী থেকেই আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। আমাদের বিরুদ্ধে নাস্তিকতার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। আমাদের কার্যক্রমে এমন কিছু ছিল না বা নেই যা ধর্মের বিপক্ষে যায়। তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারলে পরিষ্কার হতে পারতাম আমাদের বিষয়ে কী অভিযোগ তারা পেয়েছে। আলোচনা বন্ধ করে কোন শান্তিপূর্ণ সমাধান আসবে না। সমাধানে পৌঁছাতে হলে আলোচনায় বসার বিকল্প নেই। চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা ফিরে এসেছি। চট্টগ্রামে আমরা আবার যাবো। হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আলোচনাও সম্ভব হবে বলে আশা করি।
