সংখ্যালঘুদের উপর ধর্মের নামে বর্বরতা চালানো হয়েছে

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৮
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের দেশব্যাপী সহিংসতা এবং সামপ্রদায়িক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। তারা বলেছেন, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, গাইবান্ধা, নোয়াখালী, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সংখ্যালঘুদের উপর ধর্মের নামে বর্বরতা চালানো হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে তাদের ঘরবাড়িতে, ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে তাদের উপাসনালয়। সরকারসহ দেশের সকল রাজনৈতিক দলের কাছে তারা প্রশ্ন তুলেছেন, ’৭১-এ স্বাধীন দেশে আমরা যে একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলাম তা কি মিথ্যা ছিল? আমরা মনে করি, এই ঘটনা শুধু অমানবিকই নয়, অগণতান্ত্রিক এবং সুপরিকল্পিত। গতকাল বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের এই বিচারকে কেন্দ্র করে, ধর্মের নামে জামায়াত-শিবির দেশব্যাপী যে নৃশংস ও নারকীয় ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে তা যদি আমরা এখনই প্রতিহত না করি তাহলে এই দেশের মানুষ হারাবে তার গণতান্ত্রিক অধিকার, হারাবে স্বাধীন রাষ্ট্রের মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকার অধিকার। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু বলেন, প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন, নারায়ণগঞ্জ গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়কের মেধাবী ছেলে তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী এবং গোলাম আজমের মামলার অন্যতম সাক্ষী আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ছোটভাই মিরাজের খুনের ঘটনাসহ অন্যান্য হত্যা, খুন, অগ্নিসংযোগ ও সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন আমাদের ’৭১-এর নারকীয় বর্বরতার কথা এবং দেশকে মেধাশূন্য করার হীন অপপ্রচেষ্টার কথা মনে করিয়ে দেয়। মানববন্ধনে বক্তারা দেশের জনগণের প্রতি জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করে একটি গণতান্ত্রিক, অসামপ্রদায়িক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা আহ্বান জানান। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক দিল আফরোজ বেগম, গণমাধ্যম সম্পাদক কাজী সুফিয়া আখতার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু ধর, প্রশিক্ষণ সম্পাদক হুমায়রা খাতুন প্রমুখ।