চিত্রপ্রদর্শনী

জীবন রূপায়নের প্রয়াস

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৩, ১৯:১৪
জাপান বাংলাদেশ সমকালীন শিল্পকলা উত্সব শিল্পব্যাকরণে প্রতিটি সমাজের স্বতন্ত্র রূপ প্রকাশ পায় বাংলাদেশ ও জাপান দু’দেশের শিল্পীদের বহুমুখী বোধের স্ফূরণ ঘটেছে ‘জাপান বাংলাদেশ সমকালীন শিল্পকলা উত্সব’-এ। রাজনীতি, সমাজ বাস্তবতা, সংস্কৃতি চর্চা সময়ের সাথে সাথে পাল্টেছে। সৃষ্টির প্রক্রিয়ায়ও যুক্ত হয়েছে বিশ্বায়নের ভাবনা। সৃষ্টিতে উঠে এসেছে জিজ্ঞাসা, বেদনা, মানুষ প্রকৃতির পালাবদল। এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিল্পীর সঙ্গে জাপানের কয়েকজন শিল্পীর কাজের প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘ফ্রিডম অব থটস’ বাংলাদেশ জাপান কনটেমপরারি আর্ট ফেস্টিভ্যাল। আয়োজক কাহাল আর্ট গ্রুপ। এ উত্সবে ৯৬ জন শিল্পী তাঁদের কাজ উপস্থাপন করেছেন প্রতিযোগিতার জন্যে। অতিথি শিল্পী হিসেবে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের শিল্পী ফরিদা জামান, রশীদ আমিন, আলাউদ্দিন আহমেদ, নাসিমা হক মিতু, জাভেদ জলিল, আশরাফুল হাসান, নগরবাসী বর্মণ, আবদুস সাত্তার তৌফিক, উত্তম কুমার সাহা চৌধুরী, রাশেদ সুখন, ফাহমিদা ইসলাম কাকলী, বিথি সাহা, ফেরদৌস আরা রাসুল প্রীতি, মিন্টু দে ও জাপানের দু’জন শিল্পী মোরিয়োসি তাকেসি, তাদিচি সাকানোতো। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিল্পীদের কাজের মাধ্যমে বৈচিত্র্য থাকলেও কিছু একাডেমিক রীতির শিল্পকর্মের উপস্থিতি প্রদর্শনীর মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ উত্সবের সম্মানিত ৪ জুরি সদস্য ফরিদা জামান, রশীদ আমিন, নাসিমা হক মিতু ও জাভেদ জলিল পুরস্কারের জন্যে নির্বাচিত শিল্পকর্মে মনোযোগী ছিলেন। একটি প্রদর্শনী আয়োজনের স্বার্থকতা হলো মানসম্পন্ন শিল্পকর্মের প্রদর্শন। আশা করছি আগামীর আয়োজনে এটি আমরা দেখতে পাব। জাপানের শিল্পীদের ভাবনায় প্রকৃতি ও মানুষের উপস্থিতি দেখা যায় সৃষ্ট শিল্পকর্মে। কাহাল আর্ট গ্রুপের মূল ভাবনা এক্সপোজের আর্ট অ্যান্ড আর্টিস্ট অর্থাত্ উপস্থাপন করো শিল্প এবং শিল্পীকে। ধারণ করো শিল্পের ইতিহাস এবং জীবনবোধকে। এটি এ দলের ধারাবাহিক আয়োজন। এ আয়োজনের সাথে কাহাল গ্রুপ শিল্পকলার কর্মশালা, কৃতী শিল্পীদের সম্মাননা প্রদানের কাজেও মনোযোগী। চিন্তার স্বাধীনতা শিরোনামের এ প্রদর্শনীতে গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন শিল্পী ইকবাল বাহার চৌধুরী। তিনি ছাপচিত্রের উড ইন্টাগলিও মাধ্যমে কাজ করেছেন। তাঁর কাজের বিষয় ‘রিলেশন’ বা ‘সম্পর্ক’। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক দেখিয়েছেন সূক্ষ্ম রেখার ঘূর্ণন চক্রের মাঝে। ছবির জমিনকে আঙ্গুলের ছাপ বলে বিভ্রম তৈরি হয়। সিলভার পুরস্কারপ্রাপ্ত মো. সেলিম হোসেনের ‘আওয়ার কনটেমপরারি আর্ট-৫’ বা ‘আমাদের সমকালীন শিল্পকলা-৫’ ছবিতে আয়তাকার স্নুকার বোর্ডের ওপর রাখা রঙিন বলের ছড়াছড়ি। দু’পাশে রঙিন বোতলের এলেমেলো উপস্থিতি। বোর্ডে রাখা বোতলের ভেতরে সবুজ পাতা। প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় লুপ্তপ্রায় প্রকৃতি এখন বন্দী হয়েছে রঙিন কাচের বোতলে। ব্রোঞ্জ পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিটি কুন্তল বাড়ৈ-র আঁকা। অ্যাক্রিলিক মাধ্যমের ছবিটির শিরোনাম ‘ঢাকার চাকা’ রিকশা, প্রাইভেট কার ও অন্যান্য যানবাহনের সমন্বয়ে তাঁর ক্যানভাস সাজানো। রিকশা ও অন্যান্য বিষয়কে একটি আকৃতিতে বিভক্ত করে কালো রঙের রেখায় বিষয়কে ছবির জমিন থেকে আলাদা করেছেন। এ ছবিতে শিশু চিত্রকলার প্রভাব স্পষ্ট। প্রদর্শনীতে সম্মান পুরস্কার পেয়েছেন পাঁচজন শিল্পী। জয়ন্ত সরকার জনের ‘চাইল্ডহুড অ্যান্ড রিয়েলিটি’ জাপানের হোসায়া কেনসুকের ‘ব্রেকফাস্ট উইথ ব্লেড’ ও হিরা হাইরোকি’র ‘স্ট্রিম’, খালেকুজ্জামান শিমুলের ‘আনটাইটেল্ড’ এবং আরিফুর রহমান তপুর আঁকা বাস্তবরীতির ছবি ‘ডকইয়ার্ড’। পাঁচটি শিল্পকর্মে তিনটি বাস্তবধর্মী ও অন্য দু’টি জ্যামিতিক আকৃতিতে বিষয় সাজানো। প্রদর্শনীর অন্য কাজের তুলনায় এই পাঁচটি কাজ দৃষ্টি কেড়েছে। জাতীয় চিত্রশালায় দ্বিতলের গ্যালারিতে আয়োজিত এ প্রদর্শনী শেষ হবে আজ ১৫ মার্চ।