রিহ্যাবের দাবিতে এনবিআরের না

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৩, ১৯:৫৭
ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কণ্ট্রাক্টর ও সাব কণ্ট্রাক্টরদের কাছ থেকে উেসকর কর্তন না করার জন্য আবাসন মালিকদের সংগঠন রিহ্যাবের দাবিতে সাড়া দিচ্ছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেইসাথে নির্মাণ কাজে বিভিন্ন কাঁচামাল যোগানদারের কাছ (রিহ্যাবের ভাষায় ছোট ছোট যোগানদার) থেকে উেসকর এবং ভ্যাট কর্তনে তাদের আপত্তিও মানতে নারাজ এনবিআর। গত বছরের অক্টোবরে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে এনবিআরে পাঠানো এসব দাবি পর্যালোচনা করে এনবিআর সমপ্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি মতামত পাঠিয়েছে। এনবিআর মনে করছে, রিহ্যাবের এ দাবির যৌক্তিকতা নেই। শিগগিরই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে মতামত আসবে। এর উপর ভিত্তি করে রিহ্যাবের দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এনবিআরের সংশ্ল্নিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এছাড়া ঢাকা শহরে জমির রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোর একটি দাবিও ছিল এনবিআরের কাছে পাঠানো চিঠিতে। তবে এটি এনবিআরের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বলে এ বিষয়েও কার্যত কোন ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। সূত্র জানায়, কণ্ট্রাক্টর ও সাব কণ্ট্রাক্টরের কাছ থেকে উেসকর কর্তনের রিহ্যাবের চিঠিতে বলা হয়, নির্মাণ শ্রমিকদের সাথে কোন ধরনের কার্যসম্পাদনের চুক্তি হয় না। তাদেরকে মাস্টার রোলে (অস্থায়ী ভিত্তিতে) নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের কোন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উেস আয়কর কাটার সুযোগ থাকে না। তাই তাদের কাছ থেকে উেসকর কর্তন করা সম্ভব নয়। এর জবাবে এনবিআর বলছে, মূলত নির্মাণ শ্রমিকদের কাছ থেকে কোন ধরনের উেসকর কর্তন হয় না। যিনি শ্রমিক সরবরাহ করে আয় করছেন তার কাছ থেকেই কেবল উেসকর কর্তন করা হয়। এনবিআরে সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিদ্যমান নিয়মে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তির আয়করমুক্ত। ফলে কোন ব্যক্তি এজন্য কর দিলেও তিনি দুই লাখ টাকার ওই সুযোগ পাচ্ছেন। যিনি দুই লাখর বেশি আয় করবেন স্বাভাবিক নিয়মে তিনি কর দিবেন। রিহ্যাবের এই দাবির যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন তিনি। আয়করের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী কণ্ট্রাক্টর ও সাব কণ্ট্রাক্টরদের ২ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১ শতাংশ হারে উেসকর দিতে হয়। এর পরবর্তী ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আড়াই শতাংশ, পরবর্তী ২৫ লাখ টাকা আয়ের জন্য সাড়ে তিন শতাংশ, পরবর্তী তিন কোটি টাকা আয়ের জন্য চার শতাংশ এবং এর ঊর্ধ্বে যে কোন পরিমাণ আয়ের জন্য ৫ শতাংশ হারে উেসকর দিতে হয়। আয়কর আদায়ের বড় খাতগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম খাত। এছাড়া বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী স্থায়ী যোগানদারের কাছ থেকে (পারচেজ অর্ডার প্রদান করার মাধ্যমে) ক্রয়ের ক্ষেত্রে কর কর্তনের দাবি জানিয়েছিল। এই দাবির যুক্তিতে রিহ্যাব বলেছিল, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থাপনায় মালামাল ক্রয় করা হয়ে থাকে বিধায় সরবরাহকারীর কাছ থেকে উেসকর কর্তন সম্ভব হয় না। তবে এনবিআর বলছে, যিনি আয় করবেন উেসকর কেবল তার উপরই প্রযোজ্য হবে। সেটি বৃহত্ বা ক্ষুদ্র পরিমাণ বলে কথা নয়। বর্তমানে ফ্ল্যাট ক্রয় তৈরির ক্ষেত্রে চুক্তিমূল্য ও নিবন্ধনমূল্যে ব্যাপক পার্থক্য থাকে। এজন্য মূলত অতিরিক্ত নিবন্ধনমূল্যকে দায়ী করে আসছেন ডেভেলপাররা। বর্তমানে নিবন্ধন খরচ ১২ শতাংশ। রিহ্যাব এই নিবন্ধন খরচকে অর্ধেকে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে এনবিআরের কাছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক নিবন্ধন পর্যায়ে উেসকর কমিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। এই দুটি বিষয় এনবিআরের আওতাভুক্ত নয় বলে এতেও কার্যত ইতিবাচক কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এনবিআর সদস্য (আয়কর নীতি) সৈয়দ আমিনুল করীম ইত্তেফাককে বলেন, রিহ্যাবের বেশিরভাগ দাবিই এনবিআরের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এনবিআরের মতামত আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে দিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত আমাদের আমাদের জানানো হয়নি।