চলচ্চিত্রের সংকটের কথা ক্রমাগত আলোচনা করা হলেও মূল যে কারণে আমাদের চলচ্চিত্র ধ্বংসের মুখে পড়ছে তা হলো চলচ্চিত্রে তেমন কোনো উত্তরসূরি নিজেদের প্রফেশন হিসেবে এই ধারাকে বেছে নেননি। বলিউডে যে প্রবণতাটা দেখা যায়, যে তাদের অধিকাংশ নতুন মুখ সিনিয়র তারকাদের উত্তর প্রজন্ম। অথচ সেই অর্থে সিনিয়র তারকাদের ছেলেমেয়েরা তেমন কেউই আসেননি চলচ্চিত্রে।
এদিকে যে ক’জন সিনিয়র তারকা অভিনেত্রী আছেন, তারা কেউ নিজের নায়িকা চরিত্র বাদে অন্য কোনো চরিত্রে আগ্রহী হতে পারছেন না। ফলে মৌসুমী, শাবনূর, পূর্ণিমা বা পপির ক্ষেত্রে চিত্রপরিচালকেরা কেউই ভাবতে পারছেন না তাদেরকে মূল নায়িকা চরিত্রের বাইরে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাস্ট করতে। মৌসুমী দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও তাকে দিয়ে ‘ভাবী’ বা ‘মা’-এর চরিত্রে নতুন কোনো চমক হিসেবে পরিচালকেরা আনতে পারছেন না।
তরুণ নির্মাতা মুহাম্মাদ মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, ‘আমাদের দেশের এই এক বিরাট সংকট। যে একবার নায়িকা হয়ে যান। তিনি অন্য কোনো চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হন না। অথচ আমাদের দেশেই ‘শাবানা’ অনেক বড় উদাহরণ, যিনি একাধিক চরিত্রে নিজেকে সফল হিসেবে প্রমাণ করে আজ কিংবদন্তির স্থানে নিজেকে আসীন করেছেন।
বয়সের পাশাপাশি নিজের ইমেজের একটা বড় পরিবর্তন হলেও তারকারা বুঝতে চান না। এ ছাড়া সিনিয়র তারকাদের নিয়েও সময়োপযোগী গল্প তৈরি করতে পারেন না। আর সিনিয়র তারকারাও যেন পণ করেছেন যে তারা যে বয়সীই হোন না কেন রুপালি পর্দার স্ক্রিনে তাকে ষোড়শী তরুণী হিসেবেই দেখাতে হবে। আর এ কারণেই পূর্ণিমা আর পপির হাতে তেমন কোনো ছবি নেই বললেই চলে। পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী তারকারা তাদের পারিশ্রমিকও কমাতে চান না বলে চলচ্চিত্রের বাজারের সামঞ্জস্যতায় তাদের নিতে পারেন না।
এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র পরিচালক-প্রযোজক সাদেক সিদ্দিকী বলেন, ‘সিনিয়র তারকাদের নিয়ে আমরাও কাজ করতে চাই। কিন্তু তারা ভুলে যান যে, তাদের বয়স বেড়েছে। তাদের আর কলেজ পড়ুয়া তরুণী হিসেবে মানাবে না। এদিকে চলচ্চিত্রের বাজার বা ছবির বাজেট অনুযায়ী তারকারা নিজেদের পারিশ্রমিকের ব্যাপারেও কম্প্রোমাইজ করতে চান না। অর্থাত্ তারা শুধু এই শিল্প থেকে নিয়েই গেছেন। দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বা চিন্তা করেননি।’
এদিকে চিত্রনায়িকা শাবনূর বড় কোনো ব্যানারের ছবি হাতে না থাকায় গত কয়েক বছর ধরে আনকোরা-অর্বাচীন অভিনেতার বিপরীতেও অভিনয় করেছেন। অথচ এই ধরনের মানহীন চলচ্চিত্রে কাজ করে যে তারা তাদের পুরোনো ইমেজটাকেই ধুলিস্যাত্ করে ফেলেন সেদিকে খেয়াল করেন না।
একই অবস্থা চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার। ক্যারিয়ারে তিনিও যেন পণ করেছেন যে বয়সেই তিনি থাকেন না কেন পর্দায় তাকে কিশোরীই দেখাতে হবে। আর পারিশ্রমিকের ব্যাপারেও কম্প্রোমাইজ না হওয়ায় আপাতত ‘ছায়াছবি’ চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য কোনো চলচ্চিত্রে কাস্ট হওয়ার কথা শোনা যায়নি।
ফলে এই অবস্থায় তাদের খামখেয়ালি এবং ‘নায়িকা’ হিসেবে থাকার চরম ইচ্ছা থেকে দূরে সরে আসতে না পারার কারণে একাধিক নতুন মুখ এবং টিভি তারকাদের দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হয়ে উঠছেন নির্মাতারা।
