আত্মপ্রত্যয়ী ইরফান পাঠান

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৩, ২০:২৭
প্রায় পাঁচ বছর যাবত্ টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে আছেন ভারতীয় অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। তবে সেটা খুব শিগগিরই হোক কিংবা কিছুটা সময় লাগুক টেস্ট ক্রিকেটে ফিরবেনই তিনি - এমন প্রত্যয়ই ব্যক্ত করলেন তিনি। ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় ভারতীয় পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে পাঠান বলেন, ‘এত দীর্ঘ সময় টেস্ট না খেলাটা একটা ব্যতিক্রমী বিষয়। তবে আমি জানি আমি আবার টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারব। আমি নিজে একটা প্রতিজ্ঞা করেছি এবং আমার স্বপ্ন আমি পূরণ করবই।’ ভারতীয় গ্রেট কপিল দেব হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেছিলেন আজকের ২৮ বছর বয়সী পাঠান। কিন্তু ইনজুরি ও বাজে ফর্মের কারণে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম টিকে থাকা বার বারই বাধাগ্রস্ত এ তারকা বলেন, ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়ে আবার ফিরে এসে অতীতে তিনি তার সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করেছেন। পাঠান বলেন, তিন বছর আগে অনেকেই বলেছিলেন আমি আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারব না। কিন্তু আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলব আমি সেটা জানতাম। আমি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা শুরু করলাম। এমনকি অনেকেই আমাকে হিসাবের খাতা থেকে বাদ দিলেও আমি অস্ট্রেলিয়া সিরিজে (টি২০ ও ওডিআই ২০১১-১২ সফরে) ফিরে এলাম।’ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আমার লক্ষ্য পূরণে কঠোর পরিশ্রম করছি এবং আজ কিংবা কাল এটা আমার জীবনে আসবেই বলে আমি নিশ্চিত। কেবল মাত্র একজনই আমাকে টেস্ট খেলা থেকে বিরত রাখতে পারে ... অবশ্যই সেটা নির্বাচকরা। তবে সেটা ভিন্ন বিষয় এবং সেটা সম্ভব হবে যদি আমি লক্ষ্য পূরণে কঠোর পরিশ্রম না করি।’ নভেম্বরে প্রথম দিকে রনজি ট্রফিতে কর্নাটকের বিরুদ্ধে খেলার সময় হাঁটুতে আঘাত পাওয়ার পর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কোন ক্রিকেট না খেলা পাঠান বলেন, তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং মুশতাক আলী টি-টোয়েন্টি ট্রফিতে আমি বারোদার হয়ে খেলব।’ তিনি বলেন, ‘ইনজুরিতে পড়ার সময় আমি টেস্ট খেলার দ্বারেপ্রান্তে পৌঁছে ছিলাম। আমার মনে হয়েছিল আমি খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। কারণ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুশীলন ম্যাচে আমি ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে খেলেছি। সত্যিকারার্থেই আমি অনেক ভাল বোধ করছিলাম এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে ভাল করছিলাম।’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে আহমেদাবাদ টেস্টের পর দল থেকে বাদ পড়ার কারণ এখনো জানেন না উল্লে¬খ করে পাঠান বলেন, তিনি পিছনে তাকাতে চান না, কেবল সামনের দিকেই নজর দিতে চান, ‘আমি যে সময়ে বাদ পড়ি সে সময়ে আমার সর্বশেষ টেষ্টে (পার্থ) আমি ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাই। পরে আর কোন খেলা খেলতে পারলাম না। আমি আজও তা জানি না। অনেক কারণ আসতে পারে। কিন্তু আমি সামনের দিকে তাকাতে চাই। যেভাবে সব কিছু হচ্ছে এবং আমি বোলিং করছি তাতে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’ ২৯ টেস্টে ২০০ উইকেট শিকার করা এবং ইনিংস প্রতি ৩১ এর বেশি গড়ে মোট ১১০০ রান করা এ বোলিং অলরাউন্ডার এখনো নিজকে একজন বোলার এবং ব্যাটসম্যান হিসেবেই বিবেচনা করছেন। তিনি বলেন, ‘এখনো আমি একই শ্রেণীভুক্ত। একজন বোলার হিসেবে ব্যাটও করতে পারি। আমার মূল শক্তি সুইং। ব্যাটিংটাও ভাল করছি। শেষবার আমি যখন দলে ফিরে আসি তখন রায়না ও ধোনির সঙ্গে কয়েকটি ম্যাচ জয়ী পার্টনারশীপও করেছি । ভাগ্যক্রমে আমার বোলিং খুবই ভাল হচ্ছে। একজন বোলারের ন্যায় ব্যাটসম্যান হিসেবেও আমি বেশ ভাল বোধ করছি।’ এক সময় ধারাবাহিকভাবেই তিনি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করতে পারতেন এমন তথ্যকে অস্বীকার করেন তিনি, ‘কখনোই ধারাবাহিকভাবে আমি ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করতে পারতাম না। কিন্তু এখন আমি ধারাবাহিকভাবে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করতে পারি। এমন বোলার আমি কখনোই ছিলাম না। তবে ১৩৫ কিলোমিটার গতিতে ধারাবাহিকভাবে তিনি বোলিং করতে পারতেন বলে স্বীকার করেন। তবে সেটা কখনো ১৩০ কিংবা ১২৭ গতিতে থেমে আসে। তবে অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট রোলিং পিচে ধারাবাহিকভাবে ১৪০ - ১৩০ গতি বোলিং করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলারদের লক্ষ্য করলে দেখতেন তারা শুরুতে ধারাবাহিকভাবে ১৫০ গতিতে বোলিং করতে পারে। এখন সেটা সর্বোচ্চ ১৪০ হতে পারে। হ্যাঁ, আমার গতি এ দুয়ের মধ্যেই ছিল। তবে এমন অবস্থায় বেশি দিন চালালে ইনজুরির একটা বিষয় থাকে।’ ইনজুরির পর ১৩০-১৩৫ গতিতে সন্তুষ্ট পাঠান জানান, তিনি এখনো আগের মতই বল সুইং করাতে পারেন। একজন সুইং বোলারের জন্য এ গতিই যথেষ্ট। ব্যাটিংয়ের মত বোলিংয়েও সকল পর্যায়ে একজন ক্রিকেটার হিসাবে আরো দায়িত্ব নিতে চান পাঠান, ‘আমার লক্ষ্য হচ্ছে আমি আমার দেশ, ঘরোয়া ক্লাব ক্রিকেট অথবা অন্য যেকোন পর্যায়েই খেলি না কেন, সেখানে আরো দায়িত্ব নেয়া দরকার। আমি আরো বেশি দায়িত্ব নিতে চাই- হোক সেটা নতুন বল, পুরাতন বল কিংবা ডেথ ওভার। পাওয়ার পে¬তে সকল ওভার বোলিং করতে হলেও আমি কিছু মনে করবো না এবং এজন্য আমি কাজ শুরু করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কেবলমাত্র খেলতে ও ভাল করতে চাই। অপ্রয়োজনীয় কথা বলাতে আমি কখনো বিশ্বাস করি না। আমি একটা নীতিতে বিশ্বাসী, তুমি যদি কোন কাজ করতে না পার, বলো না। কারণ আমি করতে পারি যে কারণে আমি বলছি।’ ইংল্যান্ডে আগামী জুনে শুরু হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে ঘিরে তার কোন লক্ষ্য আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে পাঠান বলেন, ‘অবশ্যই। সেটাই আমার লক্ষ্য। তবে বারোদার হয়ে আমি ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করতে যাচ্ছি। কোথাও শুরু করতে হবে। এটা অনেক লম্বা মৌসুম এবং এ মৌসুমটা আমার জন্য খুবই ভাল ও কার্যকর মৌসুম। আমার ভিতর থেকে ভাল পারফরমেন্স বেরিয়ে আসবে।’ দলের প্রয়োজনে যে কোন জায়গায় ব্যাট করতেও তিনি প্রস্তুত বলে ঘোষণা দেন। এমনকি অতীতের মত সংক্ষিপ্ত ভার্সনে প্রয়োজনে ওপেন করতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান পাঠান। ‘দলের প্রয়োজনে যেকোন জায়গায় আমি ব্যাট করব এবং অধিনায়ক আমার কাছে যা চাইবে তাই করবো। অধিনায়কের চাহিদামত পূর্বেও আমি এটা (ওপেন) করেছি। যেসব অধিনায়কের অধীনে আমি খেলেছি তারা জানেন কোন কিছুতেই আমার না নেই। রাহুল দ্রাবিড় অথবা ধোনির নেতৃত্বে গত বছর শ্রীলংকায় (গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে) আমি সে প্রমাণ দিয়েছি।’ ‘আপনি যখন ৭ অথবা ৮ নম্বরে ব্যাটিং করতে নামবেন দল তখন ব্যাট হাতে আপনার কাছে ভাল পারফরমেন্স আশা করবে। গত দু’বছর যাবত্ অনেক বিষয়েই আমি কাজ করছি। শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়ার পে¬তে আমার ব্যাটিং পারফরমেন্সে তা দেখা গেছে।’-বাসস