তবুও ইতিবাচক ওয়েঙ্গার

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৩, ২০:২৭
শক্তিশালী বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জয়। এরপরও কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট পেলো না ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল আর্সেনাল। ১৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোন ইংলিশ ক্লাব ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটের লড়াই। জয়ের পরও বিদায়। কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এই হারের মধ্যেও ইতিবাচকতা খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনাতে ২-০ গোলের দারুণ এক জয় পেলেও আগের লেগে নিজেদের মাঠে ৩-১ গোলে হারের কারণে শেষ ষোলতেই যাত্রা শেষ কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের দলের। তবে দলের খেলোয়াড়রা যে ধরনের আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে তাতে বেশ সন্তুষ্ট কোচ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমার দল নিয়ে অনেক গর্বিত। তবে এমন জয়ের পরও শেষ আটে যেতে না পারায় আমি হতাশ। তৃতীয় গোল না পাওয়াটা দল এবং দলের সমর্থকদের জন্য দুর্ভাগ্যের ব্যাপার। প্রথমদিকে আমরা নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিয়ে খেলেছি। সে সময় আমরা ছিলাম সেরা ফর্মে। বায়ার্নকে ছিটকে ফেলা সম্ভব এই বিশ্বাসটা তখন থেকেই আমাদের মনে আসে। ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন আমাদের যে যোগ্যতা আছে সেটাই আমরা আজকের ম্যাচে প্রমাণ করেছি।’ তবে রেফারিদের সমালোচনা করতে একবিন্দুও ছাড় দেননি এই কোচ। তিনি বলেন, ‘বায়ার্ন মিউনিখ অনেক ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলেছে। আর ম্যাচের দায়িত্বে থাকা রেফারিরা আমাদের জন্য ম্যাচটাকে অনেক কঠিন করে দিয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রেই তার পক্ষপাতের বলি হতে হয়েছে আমার দলকে।’ দলের খেলোয়াড়দের ব্যাপারে নিজের সন্তোষ প্রকাশ করে কোচ বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমাদের ডিফেন্সের খেলোয়াড়রা আজ নিজেদের ফর্মে ছিল। তারা বল নিজেদের দখলে রেখে খেলেছে। এর আগে আমরা কখনোই বায়ার্নের মতো শক্তিশালীর বিপক্ষে এতোটা আধিপত্য ধরে রেখে খেলতে পারিনি। আর বায়ার্নে কোন সুযোগ পায়নি।’ গত মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও একই অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছিল আর্সেনালকে। প্রথম লেগেই এসি মিলানের বিপক্ষে ৪-০ গোলে পিছিয়ে থাকার কারণে আর ফিরে আসতে পারেনি তারা। এবারের ঘটনাও প্রায় একই ধরনের। ওয়েঙ্গারও এমনটাই মনে করেন, ‘গত বছরও মিলানের বিপক্ষে আমাদের একই সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। তাই এই লেগের ম্যাচ নিয়ে আমার কোন হতাশা নেই। সকল হতাশা নিজেদের মাঠে প্রথম লেগের ম্যাচকে ঘিরে।’ তবে প্রচণ্ড চাপের এক ম্যাচের পর নিজেদের মানসিক প্রশান্তিকেই বড় করে দেখছেন কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক চাপের মধ্যে ফুটবল খেলেছি। বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচটিতে বাজে খেললে তাই আমরা মানসিকভাবে আরো ভেঙে ফেললাম। আমাদের চাপও আরো বাড়তো।’