রোমান ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে দীর্ঘ ১৩শ বছর পর আবার ইউরোপের বাইরে থেকে পোপ নির্বাচিত হলেন আর্জেন্টিনার যাজক হোর্হে মারিও বেরগোগলিও। আর চার্চের দুই হাজার বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম ল্যাটিন আমেরিকা থেকে একজন শীর্ষ ধর্মযাজক পেল ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীরা। তাছাড়া পোপ হিসাবে ফ্রান্সিস নামটিও প্রথম নিলেন হোর্হে মারিও বেরগোগলিও। আগামী মঙ্গলবার ১৯ মার্চ অভিষেক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পোপের দায়িত্ব নেবেন ফ্রান্সিস। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু তথা পোপ নির্বাচন গত মঙ্গলবার শুরু করেন যাজকরা। প্রথম দিন দুই দফা ভোটের পর চিমনি থেকে কালো ধোঁয়া বের হলে অপেক্ষমাণ লোকজন বুঝতে পারেন যে, নতুন পোপ নির্বাচনে সফল হতে পারেননি যাজকরা। দ্বিতীয় দিন বুধবার সকালে দুই দফা ভোটেও একই ফল হয়। বিকালে সিস্টাইন চ্যাপেলের চিমনি থেকে সাদা ধোঁয়া বের হয়। সেন্ট পিটারস স্কয়ারে উপস্থিত ভক্তরা উল্লাস প্রকাশ করে একে স্বাগত জানায়। শহর জুড়ে বেজে উঠে ঘণ্টা। মোট ৪৮টি দেশের ১১৫ জন যাজক পোপ নির্বাচনে ভোট দেন। দুই-তৃতীয়াংশ যাজকের সমর্থন পেয়ে পোপ নির্বাচিত হন। বার্ধক্যজনিত কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টের আকস্মিক পদত্যাগে রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান যাজকের পদটি শূন্য হয়।
হোর্হে মারিও বেরগোগলিও দরিদ্রের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার ছিলেন। ২০০১ সালে আর্জেন্টিনায় অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় নাগরিকদের বিক্ষোভে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। সাদামাটা জীবনযাপনের ইতিহাস রয়েছে তার। গতকাল বৃহস্পতিবার ধর্মযাজকদের সঙ্গে বৈঠক করার আগে সকালে ভ্যাটিকান ছেড়ে সান্তা মারিয়া মাগোরির বাসিলিকায় যান পোপ ফ্রান্সিস। ক্যাথলিক চার্চে প্রার্থনা করেন পোপ। ইমেরিটাস পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টের উত্তরসূরি ৭৬ বছর বয়সী পোপ ফ্রান্সিসকে সামনের দিনগুলোতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। দুর্নীতি, যৌন কেলেঙ্কারি এবং নানা বিতর্ক জর্জরিত চার্চের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা হবে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। আগামী কয়েকদিন বেনেডিক্টের সঙ্গে দেখা করা, ধর্মযাজকদের বৈঠক এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাত্ ছাড়াও আরো নানা কাজে ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে ফ্রন্সিসকে।
বিশ্বের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রায় ৪২ ভাগ ল্যাটিন আমেরিকায় বাস করে। ওই অঞ্চলে দারিদ্র্যের পরিমাণ বেশি। তবে পশ্চিমের তুলনায় চার্চের সংখ্যা অনেক বেশি। এ ছাড়া ওই অঞ্চলের মানুষ পশ্চিমাদের মতো ভোগবাদী নয়। তাদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগও কম। নতুন পোপকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নতুন পোপকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য পুওর’ উল্লেখ করে বলেন, পোপ হিসেবে ফ্রান্সিসকে নির্বাচন এমন এক অঞ্চলের ক্ষমতা ও প্রাণশক্তির কথা বলছে, যে অঞ্চল দিন দিন বিশ্বকে একটি কাঠামোয় দাঁড় করাচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ইসরাইল, ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে নতুন পোপকে স্বাগত জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
১৯৩৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে জন্মগ্রহণ করেন হোর্হে মারিও বেরগোগলিও। তার মা-বাবা ছিলেন ইতালীয়। তিনি ৩২ বছর বয়সে ধর্মপ্রচারে মনোনিবেশ করেন। রসায়নের ছাত্র ১৯৯২ সালে বিশপ এবং ১৯৯৮ সালে বুয়েনস আইরেসে আর্চবিশপের দায়িত্ব নেন। ২০০১ সালে তত্কালীন পোপ দ্বিতীয় জন পল তাকে কার্ডিনাল নিযুক্ত করেন।
