শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলায় পারচিং পদ্ধতি কৃষকদের মাঝে সাড়া জাগাচ্ছে। পারচিংয়ের মাধ্যমে পোকা-মাকড় দমনে সুফলও পাচ্ছেন । তাই এখন আর আগের মতো ক্ষেতে শুধু কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফসল সুরক্ষায় কৃষক এখন বোরো ধানক্ষেতে গাছের ডাল-পালা পুঁতে পাখি দিয়ে পোকা-মাকড় দমন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ডালে বসা পাখি শত্রু পোকা খেয়ে ফসল রক্ষা করছে।
কৃষি বিভাগের পরামর্শে নালিতাবাড়ীর কৃষকেরা পারচিং পদ্ধতি ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে যেমন উত্পাদন ব্যয় কমেছে, তেমনি উত্পাদিত ফসলের গুণগত মানও বাড়ছে। পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কমে আসছে। উপজেলার এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ হাজার ৫শ’ একর। এর মধ্যে হাইব্রিড জাত ১৩ হাজার ৭শ’ একর। উফসী জাতের ৩৮ হাজার ২৭৫ একর আর স্থানীয় জাতের মাত্র ২৫ একর। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, হাইব্রিড ২৬ হাজার ২২৫ টন (চাউলি) উফসী ৫৮ হাজার ৩৩২ টন আর স্থানীয় জাতের ১৯ টন। নালিতাবাড়ী উপজেলায় বোরো রোপণ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। এ অবস্থায় কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের লোকজন কৃষকদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন পারচিং করাতে।
এবিষয়ে এলাকার এমপি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী কৃষকদের বলেন, রাসায়নিক বালাইনাশকের পরিবর্তে পারচিং পদ্ধতিতে খরচ কম। গাছের ডালে ফিড়িঙ্গা পাখি (কেউ বলে ফেসকুল¬া পাখি) বসে ধানে শত্রু পোকার ডিম খেয়ে ফেলে এবং পরবর্তীতে ঐ ডাল-পালা জা্বলানি হিসাবে ব্যবহার করা যায়। কীটনাশকে পোকা দমন সর্ম্পূণ কার্যকর হয় না। গাছের ডাল-পালা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করলে পোকা ফসলের ক্ষতি করতে পারে না। উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, আমরা কৃষকদের দু’ধরনের পারচিং পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। একটি লাইভ পারচিং অন্যটি ডেথ পারচিং। লাইভ পারচিং পদ্ধতি ক্ষেতে তিন মিটার দূরত্বে পাখি বসার ব্যবস্থা। সাধারণত, এক একর জমিতে ৩০/৩৫ টি ডাল পুঁতে দিলেই হয়। যোগানিয়া গ্রামের কৃষক সালাম মিয়া জানান, পারচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা বেশ সুফল পাচ্ছি। রূপনারায়ণ কুরার গোলম ফারুক জানান, পারচিং আগের দিনের পদ্ধতি হলেও এর সুফল আমরা পাচ্ছি। বেশ ক’জন সচেতন কৃষক বলেন, প্রাকৃতিকভাবে কীট দমন পদ্ধতিটি প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমরা ব্যাপক হারে পারচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফলও পাচ্ছি।
