পারিবারিক সহিংসতা আইন বাস্তবায়নে পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৩, ১৫:৫০
পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ এর সার্থক বাস্তবায়ন অনেকাংশেই নির্ভর করছে জরুরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা উপর। এক্ষেত্রে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিশ্চিত করতে নীতিমালা তৈরি ও বাস্তবায়ন জরুরি। সম্প্রতি প্ল্যান বাংলাদেশ এর ‘প্রটেক্টিং হিউম্যান রাইটস্ (পিএইচআর) প্রোগ্রাম’ এর আয়োজনে বগুড়ার গণমাধ্যম, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সুশীল সমাজের সাথে ‘পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ এর বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যত্ করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় বক্তারা এসব মন্তব্য করেছেন। অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরা সুলতানা বলেন, ‘আইনটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অনেক বেশি। কিন্তু এক্ষেত্রে পুলিশেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যেমন, পারিবারিক সহিংসতার শিকার একজন নারী যখন থানায় যায়, তখন তাকে প্রাথমিক সেবা দেয়ার জন্য প্রয়োজন এএসআই বা সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা যা আমাদের নেই। এছাড়া নির্যাতনের শিকার নারীদের প্রাথমিকভাবে আশ্রয়ের প্রয়োজন হয়, কিন্তু এই সুবিধা দেয়ার মত কোন ব্যবস্থা যেমন-মহিলা হাজতখানা বা আশ্রয় কেন্দ্র আমাদের নেই। থানাগুলোতে এই সেবার ব্যবস্থা থাকাটা খুবই জরুরি।’ মনিরা সুলতানা বলেন, আশার কথা হচ্ছে কিছু ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার এখন হয়েছে তবে সেগুলো ঢাকা কেন্দ্রিক। এরকম ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার প্রতিটি জেলায় হওয়া উচিত। মনিরা সুলতানা বলেন, ‘আইনটি সম্পর্কে এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো সম্পর্কে নারীদের জানানো প্রয়োজন। এজন্য এ বিষয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোর গ্রামেগঞ্জে উঠোন বৈঠক করা উচিত এবং সেখানে আমাদের মত পুলিশ কর্মকর্তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো বা উপস্থিত থাকাটা খুবই সহায়ক হবে। নারী পুলিশের উপস্থিতিতে উঠোন বৈঠকে নারীদের মধ্যে সাহস সঞ্চার করবে এবং তারা জানবে প্রতিকার পেতে হলে তারা কোথায় বা কার কাছে যেতে পারবেন, যোগাযোগের একটা মাধ্যম তারা পাবেন।’