আখের অভাবে চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের ১৫টি চিনিকলের মধ্যে ১১টি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এবারও দেশে চিনি উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো হচ্ছে, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ, সেতাবগঞ্জ, শ্যামপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, দর্শনা ও জিলবাংলা। চিনিশিল্প করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চারটি চিনিকল চালু আছে। মোবারকগঞ্জ ও ফরিদপুর চিনিকলে আখ সংকট চলছে। যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নাটোর চিনিকলে আখ সংকট থাকলেও আরো কয়েকদিন চলবে। নর্থ বেঙ্গল চিনিকল এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলবে বলে উক্ত সূত্র জানান। চলতি মাড়াই মৌসুমে (২০১২ -২০১৩) ১৭ লাখ ৪৫ হাজার টন আখ মাড়াই করে একলাখ ২৯ হাজার ৭৫ টন চিনি উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৯শ’ ১২ টন আখ মাড়াই করে একলাখ এক হাজার একশ’ টন চিনি উত্পাদন হয়েছে। করপোরেশনের কর্মকর্তারা আশা করছেন এবার এক লাখ ১০ হাজার টন চিনি উত্পাদন হবে। তবে গত বছরের চেয়ে অবস্থা ভাল। গত মাড়াই মৌসুমে (২০১১-২০১২) ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টন আখ মাড়াই করে এক লাখ ৩৫ হাজার ৩শ’ ৭৬ টন চিনি উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তদস্থলে ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৫শ’ ৫৯ টন আখ মাড়াই করে ৬৯ হাজার ৪৬ টন চিনি উত্পাদন হয়েছিল।
উত্পাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায় করপোরেশনের আর্থিক সংকট যাচ্ছে না। টাকার অভাবে আখ চাষিদের বিক্রীত আখের মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না করপোরেশন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গত বছরের উত্পাদিত চিনির সাথে এবারে চিনিকলগুলোর উত্পাদিত চিনিসহ এক লাখ ৩৯ হাজার একশ’ ৫০ টন চিনি মিলগুলোর গুদামে মজুত রয়েছে। এর সাথে চট্টগ্রামে করপোরেশনের গুদামে মজুত পড়ে আছে আমদানীকৃত ৪১ হাজার ৫শ’ ৮৫ টন চিনি। যার মোট মূল্য ৮শ’ ৬৩ কোটি টাকা। দেশে উত্পাদিত চিনির মূল্য কমিয়ে প্রতিটন ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাত্ প্রতি কেজির দাম ৫০ টাকা। আর আমদানীকৃত চিনির দাম কমিয়ে প্রতিটন ৪১ হাজার টাকা করা হয়েছে। তাও ক্রেতা মিলছে না। এ চিনিতে করপোরেশনের মোটা টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। পক্ষান্তরে, দেশের রিফাইনারিগুলোর উত্পাদিত চিনির দাম অনেক কম। ঢাকার মৌলভী বাজারের পাইকারি চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি হাজী আবুল হাশেম ইত্তেফাককে জানান, বুধবার প্রতিটন চিনির পাইকারি দাম ছিল ৪২ হাজার ৬শ’ ৬০ টাকা। অর্থাত্ প্রতি কেজি দাম ৪২ টাকা ৬৬ পয়সা। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দর পতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে থাকে বলে তিনি জানান। গত বছর সরকার চিনি রপ্তানির আনুমতি দিয়েছে। চিনিশিল্প করপোরেশন ৫০ হাজার টন দেশের মিলগুলোর উত্পাদিত চিনি রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। করপোরেশনের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি কেজি চিনি ৫৩ টাকা দরে ইউরোপীয় দেশের বাজারে রপ্তানির অর্ডার পেয়েছে তারা। এ চিনি রপ্তানি হলে করপোরেশনের আর্থিক সংকট কিছুটা মিটবে। অপর এক কর্মকর্তা জানান, করপোরেশনের হাতে বিপুল পরিমাণ চিনি মজুত থাকায় দেশের মানুষ কম দামে চিনি কিনতে পারছে। আমাদের দেশে বর্তমানে চিনির বার্ষিক চাহিদা ১৬ লাখ টনের মত। দেশে উত্পাদিত চিনি এবং বিদেশ থেকে আমদানিকৃত র-সুগার থেকে রিফাইনারিগুলোতে উত্পাদিত চিনিতে চাহিদা মিটে থাকে।
