মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দায়ের করা ডকুমেন্ট থেকে দেখা গেছে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল ‘সিভিল ওয়ার’ (গৃহযুদ্ধ)। তিনি বলেন, আমরা যেখানে স্বাধীনতা যুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ বলেছি, সেখানে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে ডকুমেন্ট দিয়ে বলেছে সেটি ছিল ‘সিভিল ওয়ার’ বা গৃহযুদ্ধ। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এ এসব যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। ১৮ মার্চ পর্যন্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন মুলতবি করে ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে বৃহস্পতিবার গোলাম আযমের পক্ষে চতুর্থদিনের মতো মিজানুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকে কিভাবে গৃহযুদ্ধ আখ্যায়িত করলেন? তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, এটা হয়তো ভুলবশত হয়েছে, ভিতরে কোথাও এ কথা লেখা নেই। এ সময় উপস্থিত প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ট্রাইব্যুনালে বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী এভাবে না বলে এ ডকুমেন্টটি আইন অনুযায়ী দাখিল হয়নি বলতে পারতেন।
এর আগে এডভোকেট মিজানুল ইসলাম যুক্তিতর্কে দাবি করেন, একাত্তরে প্রকাশিত সংবাদপত্রের সংবাদের কাটিং সম্বলিত যেসব ডকুমেন্ট রাষ্ট্রপক্ষ দাখিল করেছেন, তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারণ একই ঘটনায় সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে সংবাদ প্রকাশ-প্রচার করা হয়।
এডভোকেট মিজানুল ইসলাম গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সাক্ষী গীতিকার ও সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পর্কে বলেন, ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে গোলাম আযমের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। এছাড়া গোলাম আযমের যে চিঠির কারণে সিরু মিয়া দারোগাসহ ৩৮ জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার থেকে বের করে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, সে চিঠি বা এর ফটোকপি দাখিল করা হয়নি। এ কারণে ঐ অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
