সিদ্ধিরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্পীদের এখন দুর্দিন চলছে। তাঁতের ‘খট’ ‘খট’ শব্দে ভোরে এখানকার বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙ্গত। আজ সেই ‘খট’ ‘খট’ শব্দ এখন আর তেমন শুনা যায় না। কারণ ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। স্বাধীনতার পরবর্তী বছরগুলোতে সিদ্ধিরগঞ্জে দেড় সহস্রাধিক তাঁত শিল্প দেখতে পাওয়া গেলে বর্তমানে মাত্র ৩০/৩৫টি তাঁত টিকে আছে। জামদানি শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, ন্যায্য মূল্যে তাঁতের সামগ্রী না পাওয়া, সরকারি উদ্যোগের অভাব, তাঁত ঋণ না থাকা এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভারতীয় শাড়ির দাপটে এখানকার ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্প আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। জামদানি শিল্পের নিপুণ কারিগররা এখন ঝুঁকে পড়ছে অন্য পেশায়। সাইলো গেটের তাঁতী আব্দুর রব সাউদ জামদানি শাড়ি এখন তৈরি করেন। একসময়ে তার ১৬টি তাঁত ছিল। এখন তার রয়েছে মাত্র ৩টি তাঁত। ৪০ বছর ধরে তিনি এ পেশায় ডুবে আছেন। শিশু তাঁতী জসিম তাকে সহায়তা করছে। তিনি জানান, রেশম ২৮ টাকা ভরির স্থলে ৬২ টাকায় এবং রঙিন সুতা ৬০ টাকা মোড়ার স্থলে ১১০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, সাধারণ মানের একটি জমাদানি শাড়ি বুনতে সময় লাগে ৬ দিন। একজন কারিগর একমাত্র সহযোগীকে নিয়ে দৈনিক কমপক্ষে ১০ ঘন্টা পরিশ্রম দিয়ে একটি জামদানি শাড়ি তৈরি করতে পারেন।
