উখিয়ায় চোরাই কাঠের ফার্নিচারের রমরমা ব্যবসা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৩, ২০:০২
উখিয়ার সরকারি বন সম্পদ ও সামাজিক বনায়নের চুরি করা গাছ দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন রকমের ফার্নিচার। অবৈধ উপায়ে তৈরি করা এসব ফার্নিচার উখিয়ার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে বাজারজাত হলেও দেখার কেউ নেই। প্রতি শনি ও মঙ্গলবারে উখিয়া সদর এলাকা থেকে লাখ লাখ টাকার ফার্নিচার লেনদেন হচ্ছে। বিগত অর্থবছরে উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ, বিজিবি,পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন স্টেশনে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত শতাধিক ফার্নিচারের দোকানে অভিযান চালিয়ে প্রায় কোটি টাকার অবৈধ ফার্নিচার উদ্ধার করার ঘটনার পর থেকে অবৈধ ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা গ্রাম-গঞ্জের ছড়িয়ে ছিটিয়ে প্রশাসনের অগোচরে ফার্নিচার তৈরি অব্যাহত রাখে। এতে সরকারি বন সম্পদ ও সামাজিক বনায়নের মূল্যাবান কাঠ সম্পদ লোপাট হওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সচেতন মহল দাবি করেন। জানা গেছে, এ উপজেলার সোনারপাড়া, মরিচ্যা, কোটবাজার, ভালুকিয়া, উখিয়া সদর, কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী স্টেশনে প্রায় সহস্রাধিক অবৈধ ফার্নিচারের দোকানে চোরাই কাঠের রকমারী ফার্নিচার তৈরি হচ্ছে। শনিবার বালুখালী বেতবুনিয়াবাজার এলাকায় ফার্নিচার ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ফার্নিচার তৈরি ও বিক্রি করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। এসব কাঠ কিভাবে সংগ্রহ করেন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন স’মিল থেকে প্রতি ফুট কাঠ ৩৫০/৪০০ টাকা দরে ক্রয় করে ফার্নিচার তৈরি করা হয়। বিনিময়ে বনকর্মী ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রতিমাসে কিছু কিছু মাসোহারা দিতে হয়। কোটবাজার সোনারপাড়া সড়কের ফার্নিচার ব্যবসায়ী অমূল্য বড়ুয়া জানান, তারা বনকর্মী ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফার্নিচার বানিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন থেকে। এভাবে প্রায় সহস্রাধিক অবৈধ ফার্নিচারের দোকান থেকে প্রতিমাসে কোটি টাকার ফার্নিচার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালান হচ্ছে বলেও ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের অভিমত। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত স’মিলগুলোতে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার ঘনফুট চোরাই কাঠ সাইজ করা হচ্ছে। এসব কাঠ বিভিন্ন ফার্নিচারের দোকানে সরবরাহ করার পরও চোরাই কাঠের হাট বসিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে বেচা-বিক্রি অব্যাহত থাকলেও প্রশাসন এব্যাপারে আশানুরূপ আইনগত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। উখিয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন জানান, চোরাই কাঠের হাট ও অবৈধ ফার্নিচারের দোকানগুলো জব্দ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সার্বক্ষণিক উপস্থিতিতে উক্ত অভিযানটি সফল করার জন্য একটু কালক্ষেপণ করা হচ্ছে।