আরেকটি ‘গল-গৌরবের’ অপেক্ষায়

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৩, ২০:৩৮
দুটো শহরই সমুদ্রের কূলে হলেও কলম্বো আর গলের ক্রিকেট মাঠের তুলনা হওয়ার কথা নয়। দুর্গের বুকে, একেবারে খোলা সমুদ্রের পাড়ে ছবির মতো দাঁড়িয়ে গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। বিপরীতে কলম্বোর রনসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম অনেকটাই নাগরিক দালান-কোঠার ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে। সমুদ্র তো দূরে থাক; এই স্টেডিয়াম থেকে নদীও চোখে পড়ে না। অথচ ছবির মতো গল স্টেডিয়ামকেই এবার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিয়ে আসতে চায় বাংলাদেশ। অন্তত তেমন প্রতিজ্ঞার কথাই কাল প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বসে শোনালেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। না, সত্যি সত্যি গলকে তো আর কলম্বোতে নিয়ে আসা সম্ভব নয়! গল টেস্টে বাংলাদেশ দলের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সকে এই কলম্বোতে টেনে নিয়ে আসতে চান মুশফিক। তাহলেই নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাস নতুন করে লিখে ফেলতে পারে মুশফিকদের দল। আর সেই ইতিহাস নতুন করে লেখার চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ দুই টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। কলম্বো টেস্টে স্বভাবতই বাংলাদেশের প্রথম এবং প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে গল টেস্টে তৈরি হওয়া প্রত্যাশার চাপ সামলে আরেকটা ম্যাচ ড্র করা। মজার ব্যাপার হল, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত দু’টি টেস্ট সিরিজ জিতলেও কখনোই সিরিজ ড্র করতে পারেনি কোথাও। পূর্ণ শক্তির টেস্ট দলের বিপক্ষে জয় বা ড্রয়ের তো প্রশ্নই আসে না। ফলে এই টেস্টে ন্যূনতম ড্র হলেই দেশের ক্রিকেট ইতিহাস বদলে যাবে। এই কলম্বো টেস্ট নিয়ে আলোচনায় এসব ইতিহাস-রেকর্ড শব্দ আসলে আসতে পারছে ওই গল টেস্টের কারণেই। গল টেস্ট থেকে শ্রীলঙ্কা কার্যত কিছুই পায়নি। হ্যা, তাদের ব্যাটসম্যানদের অনেকের গড় বেড়েছে, প্রচুর রানও হয়েছে; কিন্তু তাদের ক্রিকেটের তুলনায় হতাশাজনক ফলাফল নিয়েই কলম্বোতে ফিরেছে শ্রীলঙ্কা। ঠিক উল্টোটা হয়েছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশ গল টেস্ট থেকে রানের পর রান পেয়েছে, রেকর্ডের পর রেকর্ড পেয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ব্যাটিং উইকেটে নিজেদের অ্যাপ্লিকেশনটা সর্বোচ্চ কী পর্যায়ে করতে পারে; তার একটা প্রমাণ পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি পেয়েছে আত্মবিশ্বাস। যে আত্মবিশ্বাসের ফলে এখন তারা কলম্বো টেস্টেও ড্র করার স্বপ্ন দেখতে পারছে। সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ড্র করার স্বপ্ন দেখছে, যাদের বিপক্ষে এর আগে পরাজয় ছাড়া কিছুই ছিল না ঝুলিতে; ছিল ম্যাচের পর ম্যাচ ইনিংস পরাজয়। তবে এই প্রবল আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি গল থেকে একটা চাপও সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের। এখন বাংলাদেশের প্রতি একটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শ্রীলঙ্কার এই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ভালো খেলবে; এমন একটা ধারণার চাপ মাথায় নিয়েও খেলতে হবে কলম্বোতে। কলম্বোর উইকেটের ইতিহাস বলছে, কাজটা বাংলাদেশের জন্য খুব একটা সোজা হবে না। ঐতিহ্যগভাবে কলম্বোর উইকেট কোনোভাবেই মিরপুর বা চট্টগ্রামের সঙ্গে তুলনীয় নয়। একসময় ধীরগতির ও লো-বাউন্সের উইকেট হলেও গত বছর দুই ধরে এখানে পেস সহায়ক উইকেট হচ্ছে। ভেন্যুটির বিদায়ী কিউরেটর অনুরুদ্ধা পোলোনোইতা বলছেন, এবার কলম্বোতে স্পোর্টিং উইকেট হবে। মানে ব্যাটসম্যান ও স্পিনারদের জন্যও কিছু থাকবে এখানে। সেক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার তরুণ পেসার সামিন্দা এরাঙ্গা হয়ে উঠতে পারেন তুরুপের তাস। আবার রঙ্গনা হেরাথ ও অজন্থা মেন্ডিস, এমনকি তিলকরত্নে দিলশানও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারেন। ব্যাটসম্যানদের সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। ব্যাটিং বিভাগের হয়ে চ্যালেঞ্জটা নিতে মুশফিক, আশরাফুল, নাসির, মোমিনুলরা প্রস্তুত আছেন। সঙ্গে যোগ হচ্ছেন গল টেস্টে আঙ্গুলে ব্যথার কারণে খেলতে না পারা তামিম ইকবাল। তামিমকে জায়গা দিতে একাদশ থেকে গল টেস্টের ব্যর্থতার জন্যই এনামুল হক বিজয়ের ছিটকে পড়াটা প্রায় নিশ্চিত। ফলে তামিমের উদ্বোধনী সঙ্গী হবেন জহুরুল ইসলাম। ব্যাটিংয়ে এ ছাড়া কোনো পরিবর্তন আসার কথা নয়। বোলিংয়ে বেশ বড় ধরনের রদবদল হওয়ার কথা। ইলিয়াস সানির জায়গায় দীর্ঘদিন পরে টেস্ট খেলতে নামতে পারেন হঠাত্ উড়ে যাওয়া আব্দুর রাজ্জাক। গল টেস্টে মোটামুটি ব্যর্থ হওয়া শাহাদাতের বদলে ফিট হয়ে ওঠা রুবেল হোসেন বা রবিউল ইসলামের দলে ঢোকা একরকম নিশ্চিত। তবে আরেকটা লাইফলাইন পেতে পারেন আবুল হোসেন। অবশ্য উইকেট ‘স্পোর্টিং’ শুনে তিন পেসার খেলানোর একটা গুঞ্জন গতকাল পর্যন্ত ছিল। সেক্ষেত্রে রুবেল-আবুল-রবিউল তিনজনই থাকতে পারেন একাদশে।