বড় ইনিংসের স্বপ্ন দেখছেন মোমিনুল

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৩, ২০:৪০
গতকাল ছিল টেস্ট ক্রিকেটের ১৩৬তম ‘জন্মবার্ষিকী’। শতাধিক বছরের এই পথ চলায় ক্রিকেটের চরিত্র, ক্রিকেটারদের আচরণ সবই আমূল বদলে গেছে। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের বয়স সে তুলনায় নিতান্ত কম; মাত্র এক যুগের একটু বেশি। কিন্তু মোমিনুল হকের কথাবার্তা শুনলে বুঝবেন এই যুগ পার করে সমপ্রতি বদলে গেছে এই দেশটিরও ক্রিকেটারদের মনমানসিকতা। মাত্রই গত টেস্টে অভিষেক হওয়া মোমিনুল দিব্যি পরিণত ক্রিকেটারের মতো বলছেন, গল টেস্ট থেকে যে আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন সেটাকে কাজে লাগিয়ে কলম্বো টেস্টে বড় ইনিংস খেলতে চান। শুধু ফিফটিতে আটকে থাকলে নাকি আর চলবে না! একটা সময় ছিল বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান টেস্টে ফিফটি করলেই ছবি ছাপা হতো, তাকে নিয়ে প্রশস্তিও ছাপা হত; অভিষেকে ফিফটি হলে তো কথাই নেই। কিন্তু মোমিনুল এমন সময়ে দেশের ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করলেন যখন কিনা অভিষেক ফিফটি আলোচনাতেই আসে না! ডাবল সেঞ্চুরি, প্রায় ডাবল সেঞ্চুরি আর সেঞ্চুরিতে আড়ালে পড়ে যায় এই ফিফটি। এ নিয়ে মোমিনুলের কোনো দুঃখ নেই। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে সেই পরিণত মেজাজেই বললেন, আলোচনায় আসার কোনো বিশেষ স্বপ্ন নেই তার। তবে দলের প্রয়োজনেই বড় ইনিংস খেলতে হবে, এটা বুঝতে পারছেন, ‘সেট হলে আমাকে বড় ইনিংসই খেলতে হবে। সেট হয়ে ফিফটি করে আউট হয়ে যাওয়াটা দলের জন্যই খারাপ। আমি কলম্বোতে বড় ইনিংস খেলতে চাই।’ এটা মানছেন যে, অভিষেক টেস্ট বলে ইনিংসটা বড় করে উঠতে পারেননি। একটু নার্ভাস ছিলেন বলে স্বীকার করে নিলেন, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট আর টেস্টে অনেক অনেক পার্থক্য। আমরা এত উঁচুমানের ক্রিকেট তো খেলিনি আগে। ফলে একটু নার্ভাস ছিলাম। তাই ফিফটি করার পর একটু মনোসংযোগটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।’ তবে যেটুকু খেলেছেন সেটুকুর জন্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন সিনিয়র পার্টনার মোহাম্মদ আশরাফুলকে, ‘আশরাফুল ভাইয়ের সঙ্গে ব্যাটিং করা মজার ব্যাপার। প্র্যাকটিস ম্যাচে শ্রীলঙ্কায় এসে প্রথম উনার সঙ্গে খেললাম, বড় জুটি করলাম। পরে টেস্টেও আমাদের বড় পার্টনারশিপ হয়েছে। উনি অনেক টিপস দিয়েছেন। উনি সঙ্গে থাকায় অনেক উপকার হয়েছে।’ এবার আশরাফুল ভাইদের পথ অনুসরণ করে একটা বড় ইনিংস খেলার স্বপ্ন দেখছেন মোমিনুল। বাংলাদেশও সেটা আশা করে।