ইসির ক্যালেন্ডারে নির্বাচনী জট

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৩, ২১:৫৫
বছর জুড়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি)। শুরুর দিকে যে পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচনী ক্যালেন্ডার কমিশন তৈরি করেছিল, তার সঙ্গে অতিরিক্ত বেশকিছু নির্বাচন করতে হবে ইসিকে। যে কারণে ‘নির্বাচনী জট’ তৈরি হয়েছে ইসির ক্যালেন্ডারে। পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কমিশন রয়েছে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। একদিনে নাকি একাধিক দিনে নির্বাচন হবে তাও চূড়ান্ত হয়নি। দেশব্যাপী ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শেষ হলেও আগামী মে মাসের আগে ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার তালিকার সিডি হাতে পাচ্ছে না ইসি। তাই নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না তারা। এর মধ্যে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকার সীমানা নির্ধারণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এর সঙ্গে আবার যোগ হয়েছে নওগাঁ-৫ আসনের উপ-নির্বাচন। আদালতের নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন বন্ধ থাকলেও যেকোনো মুহূর্তে স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। কারণ আদালত ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সীমানা পুন:নির্ধারণ ইস্যুতে এই নির্বাচনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। বর্তমানে হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) মোঃ জাবেদ আলী বলেন, জুলাইয়ের আগে পাঁচ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা কম। যদিও চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আইনানুযায়ী এসব নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার সময়সহ পুরো রমজান মাসকে বাদ দিতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ভোটার তালিকার কাজ জানুয়ারিতে শেষ হলেও এখনও ছাপা কপি হাতে পাওয়া যায়নি। জাতীয় পরিচয়পত্র অনু:বিভাগ থেকে মে মাসের শেষ সপ্তাহে ভোটার তালিকার সিডি সরবরাহ করার কথা জানান হয়েছে। এরপরেও নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কমিশনের এক থেকে দেড় মাস সময়ের প্রয়োজন হবে। ইসি সচিবালয়সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর জুড়েই ইসি পুরোদমে নির্বাচনী কাজে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে। তবে এরইমধ্যে সীমানা পুন:নির্ধারণে প্রকাশিত খসড়ার ওপর প্রায় চার শতাধিক আপত্তির শুনানি করতে হবে। নিয়মানুযায়ী বিভাগীয় সদর দপ্তরে কমিশনারদের উপস্থিতিতে এই গণ-শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে এখনও কাজ চালাতে হচ্ছে। পাঁচ সিটির নির্বাচন ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট দেশের বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নিয়মানুযায়ী নির্বাচিত করপোরেশনের প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার ছয় মাস আগের সময়ের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই সিটির নির্বাচন করতে হবে চলতি বছরের ২১ মার্চ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। আর খুলনা সিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। এই সিটির নির্বাচন করতে হবে চলতি বছরের ২৮ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। বরিশাল সিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ৮ অক্টোবর ২০০৮। এই সিটির নির্বাচন করতে হবে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে ৭ অক্টোবরের মধ্যে। এছাড়াও আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে নবগঠিত গাজীপুর সিটি নির্বাচন করতে হবে। যদিও এর সীমানা-নির্ধারণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। ১১ মার্চ খসড়া প্রকাশ করে ১৫ দিন আপিলের সময় দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। সীমানা পুন:নির্ধারণের কাজ শেষ হলে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। তারপরে এই সিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক বলেন, এখনও এ ব্যাপারে কমিশন সভায় কোন আলোচনা হয়নি। একদিনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা কম বলে তিনি মন্তব্য করেন। নওগাঁর উপ-নির্বাচন অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই নওগাঁ-৫ আসনের নির্বাচনের আয়োজনও করতে হচ্ছে ইসিকে। এই আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের মৃত্যুতে খালি হওয়া এই আসনে ৫ জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদ থেকে আসনটি শূন্য ঘোষণা সংক্রান্ত চিঠি ইসি সচিবালয়ে পৌঁছেছে। এই নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতিও শুরু করছে ইসি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি চলতি নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী মেয়াদপূর্তির পূর্ববর্তী তিন মাস অর্থাত্ অর্থাত্ ২৬ অক্টোবর ২০১৩ থেকে ২৪ জানুয়ারি ২০১৪-এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন যখনই হোক অন্তত ৬ মাস আগ থেকেই সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। তাই জুন-জুলাইয়ের আগেই অন্য সব নির্বাচন শেষ করা সম্ভব না হলে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা থাকবে। ৯টি পৌরসভার নির্বাচন ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট দেশের চার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের দিনে ৯টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই পৌরসভাগুলোর মেয়াদও শেষ হচ্ছে একই সময়ে। তাই সংসদ নির্বাচনের আগেই এই নির্বাচন আয়োজন করতে হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ইসির সচিবালয়সূত্র জানিয়েছে, ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি দেশব্যাপী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নিয়মানুযায়ী মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৬ মাসের মধ্যে (২০১৪ সালের এপ্রিলের আগে) নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।