জামায়াত অভিযোগ করেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত ৮ দিনে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীসহ দুইশ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে, যা গণহত্যার সামিল। দলটির অভিযোগ, পুলিশ বর্তমানে ডাকাতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বর্তমান সরকারের ৫৩ মাসের শাসনামলে পুলিশ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের দুইশতাধিক নেতা-কর্মীকে চিরতরে পঙ্গু করে দিয়েছে। পুলিশ জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে চোখ তুলে দিয়ে এবং গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করছে। রিমান্ডে নিয়ে হাত-পায়ের নখ তুলে ফেলছে। ইলেকট্রিক শক দিচ্ছে। শিলিংফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে পায়ের নীচে পিটিয়ে স্নায়বিক শক্তি বিকল করে দিচ্ছে। সাউন্ড গ্রেনেড, বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করে মানুষের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দিয়ে পুলিশ চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। বিরোধী দলের উপর নির্যাতন, গণহত্যা, পুলিশের নির্মম তাণ্ডবতা ও নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে গতকাল শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
বিবৃতিতে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার সংসদীয় গণতন্ত্র পদদলিত করে একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েমের লক্ষ্যে বিরোধী দল উত্খাতের ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে রাষ্ট্রের পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে। পেশাদারিত্বের পরিবর্তে পুলিশ দলীয় ক্যাডারে পরিণত হয়েছে। বেপরোয়া হামলা, গুলিবর্ষণ, হত্যা, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন, রাজনৈতিক অফিসে হানা, ভাঙচুর ও আসবাবপত্র তছনছ করে পুলিশ বর্তমানে ডাকাতের ভূমিকায় অবতীর্ণ। আর পুলিশের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। যার কারণে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় পুলিশের ন্যাক্কারজনক ভূমিকা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। মানবাধিকার, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে পুলিশকে বাদ দেয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। পুলিশ আজ আইনের রক্ষক নয়, ভক্ষকে পরিণত হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত কেউ অন্ধ হয়ে গেছে, কেউ হাত-পা হারিয়ে চিরদিনের মত পঙ্গু হয়ে গেছে। জামায়াত-শিবির ও ইসলামী দলের প্রায় ৫ লাখ লোকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে সরকার। সরকারের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার দাইমুল ইসলাম ও বাগেরহাট জেলার মাকসুমুল হক গতকাল মারা গেছেন। এ ঘটনায় জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ গতকাল এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির গণহত্যায় এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা হল ১৫০ জন। এ গণহত্যায় জড়িত পুলিশদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের এবং গণহত্যায় জড়িত সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। অপর এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশের আইনজীবী সমাজ ভোট দিয়ে তাদের বিজয়ী করে জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। এ বিজয় ইসলাম ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শক্তির।
