নির্বাচন পূর্ববর্তী সহিংসতা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে-আইএমএফ

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৩, ১৯:৪৬
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮ শতাংশের বেশি হবে না। রফতানি আয় কমে যাওয়া ও বেসরকারি খাত তেমন চাঙ্গা না থাকায় প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পর্যালোচনায় এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি পর্যালোচনা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরো অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংকট ত্বরান্বিত হওয়া, বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, নির্বাচন-পূর্ববর্তী উত্তেজনা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকের অর্থায়ন পরিস্থিতির অবনতি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সংস্থাটি বলছে, নির্বাচনের আগে সহিংসতা হলে তা দেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রতিবেদনে আইএমএফ আরো উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী (২০১১-১৫) পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তৃতীয় বছর চলছে। প্রতিবছর গড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাত দশমিক তিন শতাংশ এবং পরিকল্পনার শেষ বছরে আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি হবে না বলে সংস্থাটি মনে করছে। এর আগে জাতীয় সংসদে অর্থবছরের প্রথমার্ধের অর্থনীতির ওপর পেশ করা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের রিপোর্টেও প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দুরূহ বলে বলা হয়। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকও এক প্রতিবেদনে বলেছে, চলতি বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশের কাছাকাছি। আইএমএফ বলছে, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নতির মাধ্যমে খাদ্য সঙ্কট দূর হবে এবং উপার্জন সক্ষমতা বাড়বে। আর খাদ্য উত্পাদনের জন্য সরকার জ্বালানি খাতকে গুরুত্ব ও উন্নত করার যে পরিকল্পনা নিয়েছে তাকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। আইএমএফের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনিশ্চিত। অন্যদিকে সরকারের মূল্যস্ফীতিকে সাড়ে ৭ শতাংশে সীমিত রাখার যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তা ৮ শতাংশে দাঁড়াবে বলে মনে করছে আইএমএফ। তবে ধীরে ধীরে তা কমে আসবে। এর কারণ অধিকতর উন্নত অবকাঠামো সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কমে আসবে। আইএমএফ বলেছে, ২০১৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি কমে আসতে পারে। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে। তবে রেমিট্যান্স পরিস্থিতি চাঙ্গা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপে সংকটের কারণে সে অঞ্চলে বাংলাদেশের রফতানি কমে গেলে লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ পড়বে। আইএমএফের রিপোর্টে রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকে মূলধন বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আইএমএফের ওই প্রতিবেদনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সামাজিক ক্ষমতায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল বাংলাদেশ, ই-গভর্নেন্স প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।