ছাতকের নোয়ারাই ইউনিয়নে লিচু উত্পাদন করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন বাগান মালিকরা। ইউনিয়নের মানিকপুর লিচুর গ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রামে টিলার উপর কয়েকটি লিচু বাগান ছাড়াও সকল বাড়িতেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লিচুর গাছ। বাগান ও বাড়ির আশপাশের লিচু গাছে পুঞ্জিভূত মুকুল শোভা পাচ্ছে। নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুরসহ আশপাশের গ্রামে উত্পাদিত লিচু অত্যন্ত সুস্বাদু। ইউনিয়নের মানিকপুরসহ কয়েকটি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে লিচু উত্পাদন করা হচ্ছে কয়েক বছর ধরে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন লিচু উত্পাদনকারীরা। এখানে উত্পাদিত লিচু দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হয়ে থাকে। লিচু চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। গত ক’বছর ধরে এখানে লিচুর বাম্পার ফলন হচ্ছে। গাছে গাছে অসংখ্য মুকুলই বলে দিচ্ছে চলতি মৌসুমেও এখানে লিচুর বাম্পার ফলন হবে। ইউনিয়নের মানিকপুর, গোদাবাড়ি, কচুদাইড়, বড়গল্লা, রাজারগাঁও, রংপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের লিচু চাষিরা নিজেদের চাহিদা পূরণ করে গত মৌসুমে প্রায় কোটি টাকা আয় করেছে। এতে বেশ কিছু লোকের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে। এখানে প্রচুর পরিমাণ লিচু উত্পাদন হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না থাকায় উত্পাদিত লিচুগুলো কমমূল্যে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। বিদ্যুত্ না থাকায় ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় বরাবরের মতো চলতি বছরেও লিচুর ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছেন চাষিরা। মানিকপুর গ্রামের লিচু চাষী আমির আলী জানান, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় লিচুর মুকুল ঝরে পড়ে যাচ্ছে। ছাতকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হামিদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে রোগবালাই দমনের জন্য সেপ্র মেশিন দিয়ে কিটনাশক প্রয়োগসহ লিচু বাগানের পরিচর্যা করছেন চাষিরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রদ্যুত্ কুমার ভট্টাচার্য জানান, কৃষি অফিস থেকে লিচু চাষিদের সকল প্রকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। চলতি বছরেও সেখানে লিচুর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
