নাশকতা ঠেকাতে রেলওয়ের পশ্চিম জোনে নিরাপত্তা জোরদার

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৩, ২০:৫৬
নাশকতা ঠেকাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল জোনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রেলওয়ের বৃহত্ এ জোনের অধীনে রয়েছে তিনটি বিভাগীয় শহর ও ২২টি জেলায় ৫৫৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার রেলপথে ২১৪টি রেলওয়ে স্টেশন (১৪৪টি চালু ও ৭০টি বন্ধ) রয়েছে। গত মাসে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায়কে কেন্দ্র করে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের তিনটি এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়। এ কাজে জামায়াত-শিবির জড়িত বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারণা। এর আগে ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের সায়েদাবাদে রেলওয়ের ট্রেনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। ওইদিন বিএনপির সমাবেশের পাশের রেললাইনে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শোনার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ছয়জন নিহত হয়। এ ঘটনার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা ট্রেনটিতে ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। গত ২ মার্চ তিন দিনের হরতালকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে রাজশাহী স্টেশনে আসা বিলাসবহুল সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগিতে আগুন দেয়া হয়। এসব ঘটনার পর নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে ভাবাচ্ছে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, নাশকতার আশঙ্কায় রেলওয়ের সকল বড় বড় স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় অপরিচিত ব্যক্তিদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনে সন্দেহভাজনদের তল্লাশিও করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি স্থাপনায় যানবাহন চলাচল সংরক্ষিত করেছে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্বৃত্তরা সংগঠিত হয়ে রেলওয়ে স্থাপনায় আবারো হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নাশকতা প্রতিরোধে চলছে নানা তত্পরতা। প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আমিনুর রশীদ ইত্তেফাককে জানান, আগের চেয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি এখন পুলিশ ও র্যাবের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। সকল স্টেশনে টহল বাড়ানো হয়েছে।