সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর কয়েক দিনের ব্যবধানে বরিশালের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আগৈলঝাড়া, গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের তিনটি মন্দির, দুইটি বসত ঘরে, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ঐসব গ্রামের মানুষ নাশকতা ঠেকাতে গ্রামে গ্রামে পাহারা বসিয়েছেন।
গত ১২ মার্চ আগৈলঝাড়ার বাকাল ইউনিয়নের বাকপাড়া গ্রামের সরকার বাড়ির সার্বজনীন কালী মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর করা হয়। এর আগে গৌরনদীর পিঙ্গলাকাঠী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, বাসুদেবপাড়ার খোকন ঘরামীর বসত ঘর, উজিরপুরের গুঠিয়া গ্রামের সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এর পর থেকে গ্রামের হিন্দু-মুসলমান একতাবদ্ধ হয়ে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে পালাক্রমে রাত জেগে লাঠি ও বাঁশি হাতে গ্রাম সুরক্ষায় পাহারা দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত গৌরনদীর চাঁদশী গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ঐ গ্রামের উত্তর চাঁদশী, কুমারডোবা ও দক্ষিণ চাঁদশী গ্রামে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামের তরুণ-যুবক থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরাও। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের চাঁদশী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি জীবন কৃষ্ণ কর জানান, হিন্দু-মুসলমান একত্রে গ্রাম সুরক্ষায় পাহারা বসিয়েছেন। দক্ষিণ চাঁদশী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি পরিমল মণ্ডল জানান, তারা প্রতিদিন রাত নয়টা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত ৩২ জনে চারটি দলে ভাগ হয়ে পাহারা দিচ্ছেন। চাঁদশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ কান্ত দে বলেন, স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে পরামর্শ করে গ্রাম সুরক্ষায় রাত জেগে পাহারা বসানো হয়েছে। একইভাবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গৌরনদীর পিঙ্গলাকাঠী, বিল্লগ্রাম, আগৈলঝাড়ার প্রায় প্রতিটি গ্রাম ও উজিরপুরে পাহারা দিচ্ছেন ঐসব গ্রামের বাসিন্দারা।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ গ্রাম সুরক্ষায় পাহারা দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার ফলে আতংক যেমনি কেটে যাচ্ছে, তেমনি গ্রামের কয়েকটি ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যে অনেক দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করে জেল হাজতেও প্রেরণ করা হয়েছে।
