মানুষকে ভালো না বাসলে দেশকে ভালোবাসা যায় না মন্তব্য করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, বর্তমানে রক্তদানের দুটো ধারা বজায় আছে। একটি মানব কল্যাণের, অন্যটি সহিংসতার। আমরা প্রথম ধারার পক্ষে। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে কোয়ান্টাম স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রম আয়োজিত রক্তদাতা সন্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, রক্তদাতারা রক্তদানের মাধ্যমে দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। এ ধরনের মানবপ্রেম যদি সবার মাঝে থাকে তবে দেশে সহিংসতা, নির্যাতন, তাণ্ডব থাকতে পারে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, মানুষের শরীরের কোষে অবস্থিত জিনে ফেনোটাইপের মাত্র এক শতাংশ জানা গেছে। এই এক শতাংশ কেবল মানুষের জৈবিক কামনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এর বাইরের বিশাল যে অংশ তা মানবিক বিষয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। স্বেচ্ছায় রক্তদানের মতো মহত্ কাজ সেই বিশাল অংশে নিয়ন্ত্রিত হয়। এই অংশটি বোঝার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত মেডিটেশন করা। মন যখন প্রস্তুত হয়, ভাগ্য তখন এসে ধরা দেয়। তিনি রক্তদাতাদের ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, মানুষের নৈতিক অবস্থার উন্নতি না হলে এভাবে রক্ত দেয়া সম্ভব হতো না। যে সমাজে রক্ত চুষে নেয়ার প্রবণতা বেশি, সে সমাজে এই ধরনের কাজ একটি অনন্য ঘটনা। তিনি ক্লোনিং-এর উদাহরণ টেনে আশা প্রকাশ করে বলেন, তিনশ মানুষের এই ভালো কাজ একদিন ম্যাজিকের মতো তিন কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।
১১ বার স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী রুমানা পারভীন অদিতি বলেন, তিনি নিয়মিত রক্ত দিচ্ছেন। এতে করে উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ক্যান্সারে আক্রান্ত তার বাবার চিকিত্সায় স্বেচ্ছা রক্তদান কতোটা ভূমিকা রেখেছে সে কথা তিনি তুলে ধরেন। কোয়ান্টাম ল্যাব থেকে নিয়মিত রক্তগ্রহণকারী থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ফাইজা মোস্তফা বলেন, তার জীবন সচল আছে রক্তদাতাদের দানে। তিনি সবাইকে রক্ত দানে বিরত না হতে অনুরোধ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোয়ান্টাম রক্তদান কার্যক্রমের নানা দিক তুলে ধরেন আচার্য ড. পরেশ চন্দ্র মণ্ডল।
সম্মাননা অনুষ্ঠানে যারা কমপক্ষে ১০ বার রক্ত দিয়েছেন এমন ২২০ জন রক্তদাতাকে সিলভার মেডেল এবং ২৫ বার রক্ত দিয়েছেন এমন ৬ জনকে গোল্ডেন ক্রেস্টসহ সার্টিফিকেট ও বিশেষ আইডি কার্ড দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারী।
