নগর সংস্কৃতি

প্রেরণার বাতিঘর সঙ্গীতগুরু ওয়াহিদুল হককে স্মরণ

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৮
ওয়াহিদুল হক নেই কিন্তু এখনো দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সুহূদ, শিল্পীদের মনে প্রেরণাপুরুষ হয়ে বিরাজ করছেন তিনি। সেই টানেই তার জন্মদিনে ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে এসে মিলিত হয়েছিলেন তার স্নেহস্পর্শ পাওয়া শিল্পী, বন্ধু, ভক্তরা। গানে গানে শ্রদ্ধা জানালেন সবাই। ‘কেন তোমরা আমায় ডাকো, আমার মন না মানে।/ পাইনে সময় গানে গানে।/ পথ আমারে শুধায় লোকে, পথ কি আমার পড়ে চোখে,/ চলি যে কোন্ দিকের পানে গানে গানে’— রবীন্দ সঙ্গীতের এই কথার মতই গানের টানে, মানুষের টানে ছুটে বেরিয়েছেন সারাজীবন। সংস্কৃতির এই প্রাণপুরুষ, সঙ্গীতগুরু ওয়াহিদুল হকের ৮০তম জন্মবার্ষিকীতে ছায়ানট আয়োজিত অনুষ্ঠানে গানে, কথায়, কবিতায় সবাই উচ্চারণ করলো— সংস্কৃতির পথ নির্মাণের মধ্য দিয়ে মানুষের কল্যাণ সাধন, মুক্তবুদ্ধি চর্চার পথে এগিয়ে যাওয়াই হবে ওয়াহিদুল হককে সম্মান জানানো। ছায়ানট শিল্পীদের সম্মেলক কণ্ঠে গীত হওয়া ‘নাই নাই ভয়’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা। এরপর ওয়াহিদুল হককে নিয়ে কথনে অংশ নেন ছায়ানটের সহ-সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী। এরপর তানিয়া মান্নান ‘আমরা মিলেছি আজ মায়ের ডাকে’ ও সিফায়েত উল্লাহ মুকুল একক কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘যদি তোর ভাবনা থাকে’ গান দুইটি। এরপর পাঠে অংশ নেন জহিরুল হক খান। ইলোরা আহমেদ শুক্লা ‘আপনি অবশ হলি’ ও সুমন মজুমদার একক কণ্ঠে ‘সবুজ শোভার ঢেউ খেলে যায়’ গান দুইটি পরিবেশন করেন। এরপর সম্মেলক কণ্ঠে গীত হয় ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’। শিল্পী লাইসা আহমদ লিসার কণ্ঠে ‘আমি তোমার মাটির কন্যা’ পরিবেশিত হওয়ার পর পাঠে অংশ নেন গোলাম সারোয়ার। এরপর নাসিমা শাহীন ফ্যান্সী ‘একী মাধুরী ছড়ায়ে’ ও বিমান চন্দ্র বিশ্বাস একক কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘বাংলাদেশের মাটি ওগো’। একক কণ্ঠে আরো সঙ্গীত পরিবেশন করেন খায়রুল আনাম শাকিল। এরপর সম্মেলক কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে’ গানটি। পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান। মানবাধিকার নাট্য উত্সবের সমাপ্তি শেষ হলো বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদ আয়োজিত সপ্তম জাতীয় মানবাধিকার নাট্য উত্সব। বৃহস্পতিবার থেকে বাংলা মা’র দুর্নিবার আমরা তরুণ দল/শ্রান্তিহীন ক্লান্তিহীন সংকটে অটল স্লোগানে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে শুরু হয় এ উত্সব। তিন দিনব্যাপী উত্সবের শেষ দিন ছিল রবিবার। বিকেলে শুরু হয় সমাপনী আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচটি পথনাটক পরিবেশনের পাশাপাশি ছিল গুণীজন সম্মাননা পর্ব। শিল্পী মুর্তজা বশীর, অধ্যক্ষ প্রতিভা মুত্সুদ্দি ও নাট্যজন অজিত মন্ডলকে দেয়া হয় গুণীজন সম্মাননা। সমাপনী আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার খোন্দকার। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ও নাট্যজন মামুনুর রশীদ। সভাপতিত্ব করেন পরিষদ সভাপতি কামাল লোহানী। উত্সবের শেষ দিনে উপস্থাপিত নাটকগুলোয় উঠে আসে দুর্নীতি, মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্য অধিকার এবং সমসাময়িক চালচিত্র। এম এ কাইয়ুম ও শামীম সাগরের যৌথ নির্দেশনায় কুষ্টিয়া ফেয়ার উপস্থাপিত নাটকের শিরোনাম ছিল ভোরের স্বপ্ন। জাহিদ রিপনের নির্দেশনায় স্বপ্ন পরিবেশন করে স্বাধীনতার সংগ্রাম। পরিষদের কুষ্টিয়ার নাট্যকর্মীরা এম এ কাইয়ুমের নির্দেশনায় উপস্থাপন জোর যার মুল্লুক তার। রশীদ হারুনের নির্দেশনায় আরণ্যক পরিবেশিত নাটকের শিরোনাম ছিল ঐ আসে। ‘ম্যাকবেথ’র উদ্বোধনী মঞ্চায়ন উইলিয়াম শেকসপিয়ারের সাড়া জাগানো নাটক ‘দ্যা ট্রাজেডি অফ ম্যাকবেথ’। নাটকটির মূল উপজীব্য একটি রাজহত্যা ও হত্যা পরবর্তী সংঘটিত ঘটনাবলি। নাটকটি ঢাকার মঞ্চে আবারো আনলো পদাতিক নাট্য সংসদ। এটি অনুবাদ করেছেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। গতকাল শনিবার রাতে হয়ে গেলো নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন। শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে পদাতিকের ৩৫তম প্রযোজনাটি নির্দেশনা দিয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী। নাটকটিতে ম্যাকবেথ চরিত্রে শিমুল এবং লেডি ম্যাকবেথ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সামছি আরা সায়েকা। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়, জনি, রাসেল, সাগর, জুয়েল, মশিউর, ইকরাম, শুভ, নাজিম, তন্ময় এবং ওয়ালিদ। পোশাক পরিকল্পনা ওয়াহিদা মল্লিক জলি এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন শিশির রহমান। পুতুলনাট্য কর্মশালা শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী পুতুলনাট্য কর্মশালা। শিল্পকলা একাডেমীর নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন এবং একাডেমীর নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক সারা আরা মাহমুদ। ২১ মার্চ পর্যন্ত চলবে এ কর্মশালা। কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৪২ জন পুতুলনাট্য শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন মুস্তাফা মনোয়ার (পুতুলনাট্যের নন্দনতত্ত্ব), রশীদ হারুন (গল্প বলা) এবং কীরিটি রঞ্জন (মেকিং)। এছাড়াও সহকারী প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন বলরাম রাজবংশী, শিশির রহমান ও সুরুজ মিয়া। কর্মশালা চলছে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।