গ্রীষ্মের শুরুতেই লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছেন চট্টগ্রামবাসী। রাতের চেয়ে দিনের বেলায় বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। বোরো মৌসুমের কারণে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ মেগাওয়াট। ফলে অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। এদিকে জরাজীর্ণ বিদ্যুত্ বিতরণ লাইনের কারণে নগরীর একাধিক এলাকা বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর গ্যাস সংকটের জন্য গ্যাস নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দগুলো চালু হওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পিডিবি সূত্র জানায়, গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হলেও চট্টগ্রামে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো চালুর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এখানকার গ্যাস নির্ভর ৪টি বিদ্যুত্ ইউনিটে গত ৪/৫ মাস যাবত্ উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। এসব কেন্দ্রের উত্পাদন ক্ষমতা প্রায় ৬৩০ মেগাওয়াট। এই চারটি ইউনিটে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী স্বপন কুমার চক্রবর্তী ইত্তেফাককে বলেন, ‘গ্যাস পেলেই আমরা উত্পাদন শুরু করতে পারি; কিন্তু গ্যাসের ব্যাপারে কোনো সাড়া মিলছে না।’ চট্টগ্রামে বিদ্যুত্ বিতরণ লাইনের জরাজীর্ণতার কারণে গ্রাহক ভোগান্তি আরো বেড়ে গেছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কালুরঘাট বিতরণ বিভাগের অর্ধেক এলাকায় বিদ্যুত্ ছিল না। মাত্র দুই দিন আগেও বিতরণ লাইনে ত্রুটির কারণে কয়েকটি এলাকায় প্রায় ৬/৭ ঘণ্টা বিদ্যুত্ ছিল না। খাজা রোডের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, টাকা ছাড়া লাইন মেরামত হয় না। এছাড়া পাথরঘাটা, হালিশহর ও ষোলশহর এলাকায় দিনের বেলায় চাহিদা থাকে প্রায় ৪৫০ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্। ফলে এসব এলাকার শিল্প কারখানাগুলোতে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক গ্রাহকরাও চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বিষয়টি স্বীকার করে পিডিবি জানায়, পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের কারণে রাতে বিদ্যুত্ সরবরাহ মোটামুটি ভাল থাকে; কিন্তু দিনের বেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে সেচযন্ত্র চালানো যাচ্ছে না। সাধারণত নদী বা খালে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে সেচযন্ত্রগুলো চলে। জোয়ারের সময় সেচযন্ত্রগুলো চালানো হয়। ফলে ঐ সময়ে বিদ্যুত্ না থাকলে সেচযন্ত্র চালানো যায় না। এ কারণে বোরো চাষ বিঘ্নিত হচ্ছে।
পিডিবি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি সব মিলিয়ে বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোর দৈনিক উত্পাদন ক্ষমতা প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট; কিন্তু উত্পাদন হচ্ছে দৈনিক ৬০০ মেগাওয়াট। গ্যাস সংকট ও কাপ্তাই লেকে পানির স্তর কমে যাওয়ায় বাকি বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যাচ্ছে না।
এদিকে ফার্নেস অয়েল নির্ভর পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোতে উত্পাদন বাড়াতে বেশি জোর দেয়া হয়েছে। হাটহাজারীতে ১০০ মেগাওয়াটের পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট দৈনিক ৭/৮ ঘণ্টা চালানো হচ্ছে। এই কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমান জানান, কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুপাতে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হয়। ফার্নেস অয়েলে হওয়ায় উত্পাদন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ লিটার জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়। বেসরকারি বিদ্যুত্ কেন্দ্র পটিয়ার জুলধায় স্থাপিত ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ সময় চালু থাকে। পিডিবি যখন চাহিদা দেয়, তখন উত্পাদন শুরু করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
