আগে থেকে বলা হচ্ছিল, কলম্বোতে পেস-বান্ধব উইকেট হচ্ছে। উইকেটে ঘাসও ছিল। সে অনুযায়ী দুই দলই একজন করে পেসার বেশি নিয়ে খেলতে নেমেছে এই টেস্ট। কিন্তু প্রথম দিনশেষে পেসাররা নয়; শ্রীলঙ্কান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথই জাদু দেখালেন। তার সামনে পড়ে এবং প্রতিকূল আউটফিল্ডের কল্যাণে গল টেস্টে উড়তে থাকা বাংলাদেশ কলম্বো টেস্টের প্রথম দিনে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে অলআউট হয়ে গেল। জবাব দিতে নেমে অবশ্য ১৮ রান তুলতে ১ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা।
টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। লঙ্কান পেসাররা তেমন কিছু করতে না পারলেও শুরু থেকেই বাংলাদেশ নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে। কামব্যাক ইনিংসে তামিম ইকবাল মাত্র ১০ রান করে ফিরে যান। ধীরস্থিরভাবে এগোতে থাকা আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান আশরাফুল ১৬ রানে রানআউট হয়ে যান। এরপর রঙ্গনা হেরাথ মঞ্চে আবির্ভূত হলে দ্রুত ধসে পড়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার।
মিডল অর্ডারে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ে দাঁড়িয়েছিলেন মোমিনুল হক। গলেই অভিষেক ফিফটি পাওয়া মোমিনুল কাল আরেকটি ফিফটি পার করে ৬৪ রানে আউট হন। ওপেনার জহুরুলের সঙ্গে ৪৯ রানের একটা জুটি করে আশা দেখাচ্ছিলেন মোমিনুল। এরপর মাহমুদউল্লাহ যথারীতি আবার ব্যর্থ; ৮ রান করে আউট। ব্যর্থ হয়েছেন প্রথম টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিমও। রঙ্গনা হেরাথের বলে ৭ রানে বোল্ট তিনি।
মুশফিক আউট হয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল, আরেকবার মান বাঁচানোই কষ্ট হবে বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত সপ্তম উইকেটে নাসির হোসেন ও সোহাগ গাজী ৫৯ রান যোগ করে দলকে দুইশ’ পার করান। নাসির ৪৮ রানে ও সোহাগ ৩২ রানে হেরাথের শিকার হয়ে ফেরেন।
বাংলাদেশ অলআউট হওয়ার পর শুরুতে অবশ্য বেশ নড়বড়ে ছিল শ্রীলঙ্কা। দিনের শেষে আর মাত্র ৪ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছে তারা। তাতেই রবিউল ইসলাম তুলে নিয়েছেন তিলকরত্নে দিলশানের উইকেট। এ ছাড়া সাঙ্গাকারার বিপক্ষে দারুণ একটি এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া পাননি ভালো বল করা সোহাগ গাজী। এখন বাংলাদেশকে এই সোহাগ-রবিউলদের ওপরই ভরসা করতে হবে আজ।
