ঘন ঘন হরতালে পোশাক শিল্পের অস্তিত্ব থাকবে না

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৩, ২২:৩১
ঘন ঘন হরতাল আহ্বান করা হলে বেসরকারি খাতে সর্ববৃহত্ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী পোশাক শিল্পের অস্তিত্ব কোনভাবেই ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে উল্লেখ করেছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ। গতকাল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঘন ঘন হরতাল আহ্বানের ফলে তৈরি পোশাক শিল্পের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে এ পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক শিল্পের মাঝারি ও ছোট কারখানাগুলোর রুগ্ন শিল্পে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, হরতালের কারণে আমদানিকৃত কাঁচামালের চালান বন্দর থেকে খালাস করা সম্ভব হয় না, আর এর প্রভাব পড়ছে উত্পাদন ব্যবস্থায়। অন্যদিকে সময়মতো পণ্য রফতানি করতে না পারলে ক্রয়াদেশ বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন বিদেশি ক্রেতারা। অনেক উদ্যোক্তাই সময়মতো রফতানি কার্যক্রম সম্পাদন করার জন্য লোকসান দিয়ে আকাশ পথকে বেছে নিচ্ছেন। এতে করে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা হাতছাড়া হওয়ার আশংকা তৈরি হচ্ছে। আগামী ১৮ ও ১৯ মার্চ হরতাল আহ্বান করায় রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা ঘনীভূত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গত ডিসেম্বর মাসে ৩ দিন হরতাল ও ১ দিনের অবরোধ কর্মসূচি, জানুয়ারি মাসে ২ দিন হরতাল, ফেব্রুয়ারি মাসে ৪ দিন এবং চলতি মার্চ মাসে ৩ দিন হরতাল পালন করা হয়েছে। অনেক উদ্যোক্তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাহাজীকরণ করতে না পারার কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুক্ষীন হচ্ছেন। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মনে করে ঘন ঘন হরতাল আহ্বান করা হলে অর্থনীতিরই ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি যা কাটিয়ে উঠা এ অর্থনীতির পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয়। বিশেষ করে, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ, রপ্তানি এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিতভাবেই হুমকির মুখে পড়বে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে আহূত হরতাল প্রত্যাহারসহ আগামী দিনগুলোতে হরতালের মতো ক্ষতিকর রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে সরে আসার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ জানিয়েছে। ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের আগামী ১৮ ও ১৯ মার্চ ডাকা সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। গতকাল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন, এ ধরনের সহিংসতা অব্যাহত থাকলে দেশ চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। কিছু দিন যাবত্ দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আহূত হরতালের কারণে আমদানি রফতানি বাণিজ্যের ওপর ইতিমধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় পবিত্রস্থান ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।