চার শতাংশ রেয়াতী সুদে মসলা চাষ

আট মাসে ৪১ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৩, ১৯:১৫
আমদানী বিকল্প ফসল (বিশেষ করে মসলা জাতীয় ফসল) উত্পাদনের জন্য নামমাত্র সুদে ব্যাংক ঋণ পায় কৃষকরা। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) এ খাতে ৪০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ হয়েছে। যা অর্থবছরের বিতরণের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৪৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। গত জানুয়ারি মাসে এখাতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল ৩১ কোটি ২১ লাখ টাকা। অর্থাত্ শুধুমাত্র গত ফেব্রুয়ারি মাসেই বিতরণ হয়েছে নয় কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমদানি বিকল্প ফসল চাষে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদ (ভর্তুকী সুদ) হারে বিভিন্ন ধরনের মসলা, ডাল, তৈলবীজ ও ভুট্টা চাষে চলতি অর্থবছরে ৮৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ব্যাংকগুলো। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে দেশের অর্থনীতির উপর চাপ কমাতে ডাল, মসলা ও তৈলবীজ জাতীয় ফসল উত্পাদনের জন্য দেয়া ঋণে ভর্তুকি দেয় সরকার। ডাল জাতীয় ফসল যেমন- মাষকলাই, মুগ, মশুর, খেসারি, ছোলা, মটর ও আড়হর চাষে এ ঋণ সুবিধা রয়েছে। এছাড়া তৈলবীজ জাতীয় ফসল সরিষা, তিল, তিসি, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী ও সয়াবিন এবং মসলা জাতীয় ফসল- হলুদ, আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও ধনিয়া ও ভুট্টা চাষে এ ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়। যেখানে এ ঋণের বিপরীতে গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৪ শতাংশ হারে সুদ নেয়। আর বাকী ৬ শতাংশ দেয় সরকার। এতে ব্যাংক মোট ১০ শতাংশ সুদ পায়। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ খাতে ব্যাংকগুলোর জন্য সুদ ভর্তুকির ব্যবস্থা থাকলেও এ খাতে ঋণ বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলো আগ্রহ অনেক কম। বরং বেশি লাভের আশায় এ খাতে ঋণ না দিয়ে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো এ ক্ষেত্রে বেশি অনাগ্রহ দেখা গেছে। আলোচ্য সময়ে সরকারি মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী এবং বিশেষায়িত খাতের বাংলাদেশ কৃষি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক মিলে এ খাতে ৩৫ কোটি ২২ লাখ টাকার ঋণ দিয়েছে। যা এসব ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার ৪৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এসময়ে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৪১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো দিয়েছে মাত্র ১২ লাখ টাকা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে মশলা জাতীয় পণ্যে। এ ফসলের ক্ষেত্রে ৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। এর পর রয়েছে তৈলবীজ জাতীয় ফসল চাষে। এ ফসলের ক্ষেত্রে ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। এছাড়া ভুট্টা ফসল চাষের ক্ষেত্রে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ও ডাল জাতীয় ফসলে ৬৮ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, আমদানি বিকল্প ফসল চাষে কৃষকদের উত্সাহ দিতেই এ ঋণের ব্যবস্থা। এতে এ খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী কৃষি ঋণ বিতরণে নতুন নতুন আরো অনেক পণ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।