যুদ্ধ করছেন পাঁচ প্রসিকিউটর

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৩, ১৯:২০
মুক্তিযুদ্ধের সেই দুর্বিষহ দিনগুলোতে নারীদেরকে যে অমানুষিক নির্যাতন, যন্ত্রণা ও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছিল, যাদের কারণে একাত্তরের সেই ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির লক্ষ্যে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পাঁচজন নারী প্রসিকিউটর। এরা হচ্ছেন ড. তুরিন আফরোজ, সাবিনা ইয়াসমিন খান, নূরজাহান বেগম মুক্তা, রেজিয়া সুলতানা ও ফাতিমা জাহাঙ্গীর চৌধুরী। ট্রাইব্যুনালে মাঠ পর্যায়ে গবেষণা থেকে শুরু করে আদালতের মামলা লড়া পর্যন্ত সকল প্রকার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন তারা। অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে অংশ নিয়ে একাত্তরের রনাঙ্গনের নারীদের মতই যুদ্ধ করছেন বলে জানান তারা। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রায় দুই লাখেরও বেশি নারী তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন। তুরিন আফরোজ জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের নারীরা তিনভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। প্রথমত তারা সরাসরি অস্ত্র হাতে শত্রুদের মোকাবিলা করেছেন। অতঃপর পুরুষরা যুদ্ধে যাওয়ার পর পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যকে সামলানোর পাশাপাশি অর্থনীতির যোগানও দিতেন নারীরা। এছাড়া শুধু নিজ পরিবারকে নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, আহতদের সেবা-শুশ্রূষা করে এবং তাদেরকে রান্না করে খাওয়ানোসহ বিভিন্ন উপায়ে নারীরা মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন। যার ফলে বহু নারী আবার হায়নাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যারা সেই বর্বর কাজে সহযোগিতা করেছিল প্রায় ৪২ বছর পর তাদের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকতে পেরে নিজেকে বিরাট সৌভাগ্যবান বলে মনে করছেন এই নারী প্রসিকিউটররা।