আপনার বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে বলুন।
এখন তেমন কিছুই করছি না, টিভিসির কাজ করছি। নাটক বানানো হচ্ছে না। গেল ঈদেই সর্বশেষ নাটক নির্মাণ করেছি, তারপর আর করা হয়নি। আর নাটক না করার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। তবে হ্যাঁ, একটি চলচ্চিত্র বানানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এর স্ক্রিপ্ট লিখছিলাম। এটাই একটা কারণ বা মূল কারণ ধরা যায়। যেহেতু ফিল্ম বানাবো, তাই এর পেছনে একটু সময় দিতেই অন্যান্য ব্যস্ততাগুলো কমালাম।
টেলিভিশন এখন এক ঘণ্টার নাটক প্রচারে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে, প্রায় সবকটি চ্যানেলই ধারাবাহিক প্রচারেই বেশি ব্যস্ত। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
এই কাজটা তারা আগেও একবার করেছি। এক বছরের মতো কোনো এক ঘণ্টার নাটক প্রচার করেনি। পরবর্তীতে আবার দর্শক চাহিদার জন্য তারা এক ঘণ্টার নাটক প্রচার করতে বাধ্য হয়েছে। সার্বিকভাবে সব ধরনের নাটকেই আমাদের কাজের বর্তমান মান ভালো না। আজ থেকে দুই-তিন বছর আগে আমাদের কাজের যেই মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ডটা ছিল সেটা এখন আর নেই। আমার কাছে মনে হয় যে, দর্শক এই কারণে নাটক থেকে মুখও ফিরিয়ে নিয়েছে। তারপর চ্যানেলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রোডাকশনের বিষয়ে উপযুক্ত মনোযোগী না। সিরিয়াল বানানোর জন্যই নির্মাতারা বানাচ্ছে আর চ্যানেল প্রচারের জন্যই প্রচার করছে। আর দর্শকরা এগুলোতে আগ্রহী না। আর আমার মনে হয় চ্যানেলগুলো তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই হয়তো এক ঘণ্টার নাটক বাদ দিচ্ছে। এটাকে হয়তো তারা লোকসান প্রজেক্ট হিসেবে দেখছে। এক ঘণ্টার নাটক আসলে এখন ফেস্টিভ্যাল কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। দর্শকরা দেশীয় চ্যানেল থেকে সরে আসার এটা আরেকটা কারণ হতে পারে।
সম্প্রতি মাকসুদের ‘পরওয়ারদেগার’ গানের ভিডিওটি আপনি নির্মাণ করেছেন, এটি বেশ কয়েকটি চ্যানেল চালাচ্ছে না। ফিরিয়ে দিয়েছে। এর কারণ কী বলে মনে হয়?
আসলে এই গানটি মাকসুদ ভাই সব জায়গায় গাইতেও পারে না। যেমন চ্যানেলগুলোতে কখনোই তাকে এই গানটি গাইতে দেওয়া হয় না। হয়তো তারা একটু ভয় পায়, এমনকি মাঝে মধ্যে কনসার্টেও আয়োজকরা তাকে এই গানটি গাইতে বারণ করেন। চ্যানেল কর্তৃপক্ষরা হয়তো ভাবছেন এই গানটি হয়তো তাদের উপর রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে, এ জন্যই তারা ভয় পাচ্ছে। এই গানটি তো মাকসুদ ভাই অনেক আগে করেছে, তখন আমি স্কুলে পড়ি। এতদিন পর এসে ভাবলাম ভিডিওটা করি, তার উপর আবার শাহবাগ আন্দোলনের মতো একটা বড় বিষয় আছে। চ্যানেলগুলো হয়তো প্রচার করবে। কিন্তু মাকসুদ ভাই আমাকে জানালেন ভিডিওটা চ্যানেল প্রচার করতে চাইছে না। আসলে চ্যানেলওয়ালারা ভয় পাচ্ছে।
এই গানটি নির্মাণের উদ্দেশ্য কী?
এই গানটা নির্মাণ করার পেছনে কিছু কারণ ছিল। এবং আমি মনে করি যে, এই গানটা চ্যানেলে প্রচার হওয়া জরুরি। যেমন, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ভাঙা, মন্দির ভাঙা। পাশে যেসব মুসলিম বাড়িগুলো আছে তারা ভাঙছে বলে আমার মনে হয় না। আসলে ভাঙছে অন্য কেউ, সেটা একেবারেই রাজনৈতিক। এটা আগেও ছিল। ১৯৭১, ’৯২-তেও একই ঘটনা ঘটেছে, এখনও একই ঘটনা ঘটছে। আমরা স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার চাইলাম। এই বিচার যেন কোনোভাবেই না হয়, পাশাপাশি এই বিচার নিয়ে আমাদের কথাগুলো থামানোর জন্যই এসব হচ্ছে। যখনই ধর্মের বিষয়টা চলে এলো তখনই সাধারণ মানুষ একটু থতমত হয়ে গেল। এই পরিস্থিতিগুলো বারবার আমাদের লেখায়, গানে, নাটকে ও চলচ্চিত্রে আসা উচিত। আর যদি আসতে পারত তাহলে মানুষ সচেতন হতো। বিভ্রান্তি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখতে পারত। সাধারণ মানুষদের দেখিয়ে দেওয়ার কাজ আসলে একজন লেখকের, শিল্পীর এবং একজন নির্মাতার। সাধারণত টেলিভিশনে প্রেম-ভালোবাসার বাইরে তেমন কিছুই দেখতে পাই না। অন্য কিছু নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে চাইলে চ্যানেল তা প্রচার করেনি। মাকসুদ ভাইয়ের গানটা ঠিক সেই কারণেই করা।
