সামপ্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার সময় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের প্রতিবাদে সিলেটের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা রাজপথে নেমেছেন। সিলেট চেম্বার অব কমার্সসহ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আর যদি কোন হামলা-ভাংচুর হয় তবে কর প্রদান বন্ধসহ তারা আরো কঠোর ও লাগাতার আন্দোলন শুরু করবেন। পাশাপাশি তারা সামপ্রতিক সহিংসতায় সিলেটের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। এই দাবিতে শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর সকল মার্কেট, বিপণী বিতানসহ দোকানপাট সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে সুদীর্ঘ মানববন্ধন করেছেন তারা। নগরীর আম্বরখানা থেকে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার-বন্দরবাজার পর্যন্ত আয়োজিত মানববন্ধন যেন গোটা নগরীকেই স্তব্ধ করে দেয়। পাশাপাশি এই দীর্ঘ এলাকা জুড়ে লাগানো মাইকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে মানববন্ধন চলাকালীন প্রতিবাদ সভার বক্তব্য। এমন বিস্তৃত প্রতিবাদ কর্মসূচি সকলেরই নজর কেড়েছে।
মানববন্ধনে সিলেট চেম্বার অব কমার্স ছাড়াও প্রায় অর্ধশত ব্যবসায়ী সংগঠন ও মার্কেট কেন্দ্রিক ব্যবসায়ী সমিতি অংশ নেয়। একইসঙ্গে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ব্যবসায়ীরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।
মানববন্ধন চলাকালে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটকারীদের অবিলম্বে সনাক্ত করে গ্রেফতার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এতে ব্যর্থ হলে সিলেটের ব্যবসায়ীরা সরকারকে সবধরনের ভ্যাট, ট্যাক্স দেয়া বন্ধ করে দেবেন। মানববন্ধন চলাকালে প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ফারুক আহমদ মিছবাহ, সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি শেখ মকন মিয়া, ব্যবসায়ী নেতা জিয়াউল হক, নুরুল ইসলাম, ইফতেখার আহমদ সোহেল, সালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, খন্দকার সিপার আহমদ, সিরাজুল ইসলাম, তারেক আহমদ, লায়েছ উদ্দিন প্রমুখ।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি তৌহিদী জনতার মিছিল থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হামলা-ভাংচুর চালানো হয়। পাশপাশি ট্রাস্ট ব্যাংক ও এইচএসবিসি ব্যাংকেও হামলা করা হয়। রাতে এ ঘটনার জের ধরে ছাত্রলীগ নগরীতে তাণ্ডব চালিয়ে অর্ধশতাধিক দোকানপাট ভাংচুর করে। গত ২ মার্চ নগরীর আম্বরখানা, দর্শনদেউড়ি, দরগাগেইট, শাহী ঈদগাহ, টিলাগড় ও শিবগঞ্জে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ভাংচুর করা হয়।
