বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর হবে

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৬
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। কোন কোন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় ঘোষিত হয়েছে। অনেকে তাদের রক্ষা করতে চাইছে। ইনশাল্লাহ বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর হবে। অনেকে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলংক মুক্ত করব। ৭১-এ যুদ্ধাপরাধীরা শিশুদের হত্যা করেছে। মা-বোনদের পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। খুন, ধর্ষণ, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ করেছে। বঙ্গবন্ধু তাদের বিচার শুরু করেছিল। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও ৩ নভেম্বর জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করে এ বিচার বন্ধ করা হয়। যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করে মন্ত্রী, এমপি বানিয়ে ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। আমরা ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু করেছি। এ বিচার সম্পন্ন হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রবিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, শিশুরা আমাদের ভবিষ্যত্। তাদের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, সুরক্ষার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শিশু শিক্ষা বিস্তারে বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন। তিনি সংবিধানে শিশু অধিকার সংযোজন করেছিলেন। তার ১০ বছর পর জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ প্রণয়ন করে। বঙ্গবন্ধুর পর আর কোন সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেনি। আমরা ২৬ হাজার ২০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছি। বছরের প্রথম দিনে ২৭ কোটি বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছি। নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছি। শিক্ষা আধুনিক করতে মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার শিক্ষাকে আবশ্যিক করেছি। অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করে তুলতে হবে। তাদেরকে আদর স্নেহ দিয়ে বড় করুন। বড় হয়ে যেন তারা সত্যিকার দেশ প্রেমিক ও সুনাগরিক হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে। সাধারণ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করে শিশু অর্পিতা কবির। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিশু ও মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, শিশু তাসমিনা জামান শুভেচ্ছা প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একটি শিশুও যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য যা যা করা দরকার সরকার তা করছে। প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র সহপাঠীদের সহযোগিতা করার জন্য শিশুদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করতে একটি ট্রাস্ট তহবিল গঠন করা হচ্ছে। যেখান থেকে দরিদ্র অভিভাবকদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, ছোট বেলায় বঙ্গবন্ধু সহপাঠীদের সাথে টিফিন ভাগাভাগি করে খেতেন। গরিব দুখি দেখলে নিজের গায়ের কাপড় দিয়ে দিতেন। তোমরা মানবিকতার আদর্শ নিয়ে গড়ে ওঠো। বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ অনুসরণ করেই নিজেদেরকে গড়ে তুলবে। তোমরাই ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করবে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন। এরপর গোপালগঞ্জ শিশু একাডেমীর শিশু শিল্পীরা গীতি আলেখ্য পরিবেশন করে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রি পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, ঊর্ধ্বতন সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা, বিপুলসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও দর্শক এ অনুষ্ঠান উপভোগ করে। প্রধানমন্ত্রী মাজার কমপে¬ক্সে জাতীয় গ্রস্থ কেন্দ্রে আয়োজিত দিনব্যাপী গ্রন্থ মেলার উদ্বোধন করেন। বাঙ্গালী জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি জন্মদিনের শ্রদ্ধা জানাতে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে আসেন। সঙ্গে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে জন্মদিনের শ্রদ্ধা দিবেদন করেন। এসময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। বাজানো হয় বিউগল। রাষ্ট্রীয় এসব কর্মসূচি শেষে শেখ হাসিনা তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে পিতার আত্মার মাগফিরাত কমানায় বিশেষ মোনাজাত করেন। পরে দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদীতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী সমাধিসৌধে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে এলজিইডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্যাহ, দলের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহম্মেদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম.খা আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা.দীপু মনি, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী লেঃ কর্নেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, শেখ হেলাল উদ্দিন, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, হাবিবুর রহমান সিরাজ, হারুন আর রশিদ, এ্যাড. মোল্লা মোঃ আবু কাওসার, এ্যাড. ইকবাল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ, রাজা মিয়া বাটু, চৌধুরী এমদাদাদুল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুত্ফর রহমান বাচ্চু, বিমল বিশ্বাস, সোলায়মান বিশ্বাস, মাহবুব আলী খান, শেখ আব্দুল হালিম, আবুল বশার খায়ের, পৌর মেয়র মোঃ রেজাউল হক সিকদার রাজু, এইচএম অহিদুল ইসলাম, মোঃ ইলিয়াস হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এরপর কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবমহিলা লীগ, জেলা আ’লীগ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আ’লীগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শ্রমজীবী ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিকাল সাড়ে ৩ টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন।