বঙ্গবন্ধুর প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৯
‘স্বাধীনতার চেতনায় মোরা গড়বো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও মাজারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন, শিশু সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল জাতি উদযাপন করলো স্বাধীনতার স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী। একই সঙ্গে জাতীয় শিশু দিবসও পালিত হলো। গতকাল ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। দিবসটি উপলক্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের পাশাপাশি রাজধানীসহ সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বই মেলা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধুর ওপর তৈরি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার তত্কালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। গতকাল ভোর সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এসময় তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা দলীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হেলিকপ্টারযোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। এরপর ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় শেখ হাসিনার পাশে তার ছোট বোন শেখ রেহানা ছিলেন। মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, পরিবারের সদস্য ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এরপর সেখানে শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা, গ্রন্থমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে বইমেলার উদ্বোধন করেন। জাতির পিতার জন্মদিন পালনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং সাম্প্রদায়িকতা ও কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক সোনার বাংলা গড়ে তোলার দুর্জয় প্রেরণা ও ইস্পাতকঠিন প্রত্যয় ছিল শ্রদ্ধা জানাতে আসা সারাদেশের কৃতজ্ঞ বাঙালীর কণ্ঠে। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শিশু সমাবেশ ও আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ভেদ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে বাঙালী জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সিনিয়র নেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, ফারুক খান, শাজাহান খান। দিবসটি উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, নজরুল ইনস্টিটিউট ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০১৩ উদযাপন উপলক্ষে স্যুভেনির প্রকাশ ও পোস্টার ছাপানো হয়। তথ্য মন্ত্রণালয়, ডিএফপি ও পিআইডির উদ্যোগে দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকসমূহে ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য চ্যানেলসমূহ ও মিডিয়ায় বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। সারাদেশে জেলা ও উপজেলা সদরে দিবসটি উপলক্ষে শিশু সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। জেলা ও উপজেলা সদরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ডিএফপি ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সপ্তাহব্যাপী পুস্তক ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী হয়। সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতেও আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র ও পোস্টার প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গতকাল সরকারি ছুটির দিনে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু সমাবেশ, বইমেলা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দরে মানুষ নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গতকাল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে জনতার ঢল নামে। সকাল ৭টার আগেই বঙ্গবন্ধু ভবনের আশ-পাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। এছাড়া কৃষক লীগ, মহিলা শ্রমিক লীগ, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ, তরুণ লীগ, যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছসেবক লীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, জননেত্রী পরিষদ, যুব শ্রমিক লীগ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, মত্স্যজীবী লীগ, হকার্স লীগ, তাঁতী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, ওলামা লীগ, জাতীয় বিদ্যুত্ শ্রমিক লীগ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু লেখক সমিতি, বঙ্গবন্ধু আদর্শ মূল্যায়ন ও গবেষণা সংসদ, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিল্পী গোষ্ঠী, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্যজোট, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ, ফোর্স অব বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সংসদ, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু ললিতকলা একাডেমি, বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বঙ্গবন্ধু আইন পরিষদসহ অসংখ্য দল ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে। দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গমাতা পরিষদ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বঙ্গমাতা পরিষদের সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো অংশ নেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, শাহনাজ পারভিন, সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা প্রমুখ। বিকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সব শিক্ষার্থীকে অতন্দ্র থাকতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার \ যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষার্থীকে সচেতন কর্মী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৩তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালন করেছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটি বলেছে, এজন্য তাদেরকে অতন্দ্র থাকতে হবে। রবিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে এ আহ্বান জানান ছাত্রলীগের নেতারা। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন, শোভাযাত্রা, সমাবেশ আয়োজনের মধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করে ছাত্রলীগ। সকাল সাতটার দিকে রাজধানীতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ছাত্রলীগ শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করে। এরপর দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি শোভাযাত্রা শুরু করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষ অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এসে সমাবেশ করে। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাই তো স্বাধীনতাবিরোধীরা ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করেছে ও যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করছে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। গত শুক্রবার মুন্সীগঞ্জে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আপনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে শাহবাগের তরুণদের আন্দোলনকে নষ্ট ছেলেদের আন্দোলন বলছেন। এই তরুণরা যদি নষ্ট হয় তবে আপনার দুই ছেলে কী? তারা তো দুর্নীতি করে ধরা পড়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাহলে এরাই কি ভালো ছেলে? সমাবেশ পরিচালনাকালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, বর্তমান প্রজন্মের যাদের ফেসবুক, টুইটার, ব্লগসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ সাইটে একাউন্ট নেই, তাদের বিভিন্ন সামাজিক সাইটে একাউন্ট খুলতে হবে। অনলাইনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে জানাতে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত, এহতেশামুল হাসান রুমি, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল, পাঠাগার সম্পাদক দেলোয়ার রহমান দিপু, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এরশাদুর রহমান, ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ। রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীতে নানা কর্মসূচিতে গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৩তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কুমারপাড়ার মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও কেক কাটার আয়োজন করে। লক্ষ্মীপুর গভ. ল্যাবরেটরী হাই স্কুল চত্বর থেকে শিশু-কিশোরদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জেলা শিশু একাডেমিতে শেষ হয়। সেখানে দিনব্যাপী শিশু আনন্দ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল হান্নান। কেক কাটার উদ্বোধন করেন মেয়র পত্নী শাহীন আক্তার রেনি। রংপুর প্রতিনিধি জানান, বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্যদিয়ে গতকাল রংপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন, রংপুর সিটি করপোরেশন, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, শিশু-কিশোর মেলাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকাল ৭টায় শহরের বেতপট্টিস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন শেষে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। পরে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল রবিবার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনসমূহ, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। নগরীর দারুল ফজল মার্কেটে নগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এসময় শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এছাড়া নগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট অফিস জানায়, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করবে তাদেরও বিচার করা হবে। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে সরকার জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। গতকাল রবিবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী একথা বলেন। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি, সৈয়দা জেবুন্নেসা হক এমপি, আওয়ামী লীগ নেতা আ ন ম শফিকুল হক প্রমুখ। এছাড়া ইত্তেফাক প্রতিনিধিরা বিভিন্ন জেলা থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপনের খবর পাঠিয়েছেন। জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, পিরোজপুর, সুনামগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মাগুরা, নীলফামারী, নেত্রকোনা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, রাজবাড়ী, জামালপুর, লালমনিরহাট, মুন্সিগঞ্জ, সাতক্ষীরা, পাবনা, মানিকগঞ্জ, কুমিল্লা ও নোয়াখালী। এছাড়া উপজেলাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদযাপিত হয়।