বানারীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অন্য গ্রুপের হামলা

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২১:৫২
বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও ক্যাডারদের হামলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ৯৩ তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গেছে। সংঘর্ষে ওসি ও তিন সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত ও উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের দরজা ও চেয়ার ভাংচুর করা হয়। প্রতিবাদে ও এলাকার সন্ত্রাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি। গতকাল রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। শোভাযাত্রার পর ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইউএনও সৈয়দ মোরশেদ আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম মনি, বিশেষ অতিথি পৌর মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা। এক পর্যায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানার নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এরপরই ফাইয়াজুল হক রাজু ও পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন মোল্লা কিছু নেতা-কর্মী সহকারে মিছিল নিয়ে এসে অনুষ্ঠান স্থলে প্রবেশ করলে ভয়ে সিংহভাগ শিশু শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠান স্থল থেকে বের হয়ে যায়। আমন্ত্রিত অতিথি না হওয়া সত্ত্বেও ফাইয়াজুল হক রাজু মঞ্চে উঠে আসন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম মনি বক্তৃতা শুরু করলে জাকির হোসেন মোল্লাসহ কয়েকজন হৈ চৈ ও বিশৃঙ্খলা শুরু করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোরশেদ আলী অনুরোধ জানিয়েও ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সংসদ সদস্য মনির ওপর তারা চেয়ার ছুঁড়ে হামলার চেষ্টা করলে তাকে রক্ষা করতে গিয়ে ওসি গোলাম ছরোয়ার, কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন ও হায়দার আহত হন। এসময় এমপি মনির সমর্থকদের সঙ্গে বিশৃঙ্খলাকারীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ফাইয়াজুল হক রাজু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা, কোষাধ্যক্ষ তছলিম তালুকদার, উজিরপুরের গুঠিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাসির খান, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলাম, রাহাদ সুমন ও গৌতম কুমার দে আহত হন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাঞ্ছিত হন। বিশৃঙ্খলাকারীরা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের দরজা ও চেয়ার ভাংচুর করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পৌর মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। ফাইয়াজুল হক রাজু জানান, সূর্যমণির মেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে মেলার আয়োজকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সংসদ সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম মনি বলেন ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার নিয়ে এসে ফাইয়াজুল হক রাজু পূর্বপরিকল্পিতভাবে জাতির জনকের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠান পণ্ড করার উদ্দেশে ক্যাডারদের নিয়ে হামলা করেছে।