রাজধানীসহ দেশের অনেক এলাকার ওপর দিয়ে গতকাল রবিবার কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এটাই ছিল চলতি মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী। আবহাওয়া অফিস জানায়, বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়। দেশের বিভিন্নস্থানে হালকা থেকে ভারি বৃষ্টিপাতেরও খবর পাওয়া গেছে। কোথায় কোথায় হয়েছে ধুলিঝড়।
আবহাওয়া বিভাগ সূত্রে জানা যায়-খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, ফরিদপুর, ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা বাতাস বয়ে যায়। সারা দেশের উপর মেঘ দেখা গেছে। রাজধানীতে গতকাল বিকাল ৪টার দিকে হঠাত্ করেই ধুলিঝড় শুরু হয়। তবে খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। এ রিপোর্ট গতকাল সন্ধ্যায় লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি। আবহাওয়া বিভাগ আরো জানিয়েছে, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু’-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আকাশ আস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, জেলায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গতকাল দুপুর থেকেই অন্ধকার নেমে আসে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়া। এরপর নামে বৃষ্টি। এ বৃষ্টি ইরি-বোরো ধান চাষীদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে বলে কৃষকরা জানান। দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, জেলার মেঘনা, তিতাস এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় গতকাল সন্ধ্যায় এক পশলা বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকের মনে স্বস্তি এসেছে। দীর্ঘ খরার পর চৈত্রের শুরুতেই এই বৃষ্টি হওয়ায় ফসলের খুব উপকার হবে বলে কৃষকরা মনে করছেন। এছাড়াও আমের মুকুল ঝরা থেকে রক্ষা পাবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
বটিয়াঘাটা (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ওপর দিয়ে গতকাল দুপুরে হয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েক মিনিটের এ ঝড়ে জলমা, বটিয়াঘাটা, গঙ্গারামপুুর, সুরখালী, ভাণ্ডারকোট, বালিয়াডাঙ্গা ও আমীরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারের কাঁচাঘর, দোকানঘর, গাছের মাথা ও ডাল ভেঙ্গে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। আমের ফলনেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
