নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র ত্বকী হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান ও তার পরিবারকে দায়ী করার প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল তার সমর্থকরা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। গত শনিবার শামীম ওসমানের সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বিকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত চত্বরে জড়ো হতে থাকেন শামীম ওসমান সমর্থক হাজার হাজার নেতাকর্মী। এ সময় পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, যেখানে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াও এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে শামীম ওসমানকে দায়ী করে বক্তব্য দিচ্ছেন সেখানে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে পুলিশ সুপার উপস্থিত না থেকে প্রমাণ করেছেন এই মামলা নিয়ে পুলিশ প্রভাবিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, ত্বকী হত্যা মামলায় শামীম ওসমানের পুত্রসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে সম্পূরক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকাল ৩টা থেকে শামীম ওসমানের হাজার হাজার সমর্থক বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে জেলা আদালত চত্বরে সমবেত হতে থাকেন। বিকাল ৪টা নাগাদ আদালত চত্বর ছাপিয়ে নেতাকর্মীদের ঢল লিংক রোড পর্যন্ত গড়ায়। উপস্থিত নেতাকর্মীরা এ সময় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে গেলে জানানো হয় এসপি সাহেব ইমাম সম্মেলনে গেছেন।
এদিকে জেলা ও শহর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে এসপিকে দেয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে একটি রাজনৈতিক মহলের ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা ও পুরো ঘটনায় পুলিশের নির্লিপ্ততা ও রহস্যজনক নীরবতা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। আপনি নিশ্চয় অবগত আছেন, গত শুক্রবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত্ আইভী চাষাড়া শহীদ মিনার চত্বরে সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শামীম ওসমানের পরিবারকে ত্বকী হত্যায় সরাসরি অভিযুক্ত করেছেন। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড (সিআরপিসি) ১৮৯৮ অনুযায়ী কোন তদন্তাধীন মামলার ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আদালতের আজ্ঞা ব্যতীত কেউ সরাসরি কোন বক্তব্য প্রদান করতে পারেন না। আইনপরিপন্থী আচরণের পরেও পুলিশের নীরবতা ও নির্লিপ্ততা আমাদের কাছে রহস্যজনক বলে প্রতীয়মান হয়। এই নীরবতা ও নির্লিপ্ততার কারণে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত হচ্ছে বলে সন্দেহের উদ্রেক হচ্ছে। যদি পুলিশ প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকে তবে আমাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, নতুবা বক্তব্য প্রদানকারীদের কাছে যদি প্রমাণস্বরূপ কোনকিছু না থাকে তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
ত্বকী হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে পুুলিশ সন্দেহভাজন ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে তাদের এখনও এ মামলায় ‘গ্রেফতার’ বা ‘আটক’ দেখানো হয়নি। পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এ হত্যা রহস্যের ব্যাপারে পুলিশ ইতিমধ্যেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। ত্বকীকে নারায়ণগঞ্জেই হত্যা করা হয়। পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, তদন্তের ব্যাপারে সরকারের কোনো মহল থেকে চাপ দেয়া হয়নি। বরং খুনিদের গ্রেফতারে চাপ রয়েছে। যেকোনো মূল্যে খুনিদের গ্রেফতার করা হবে। খুনি কোন্ পরিবারের সদস্য সেটা বিবেচনা করা হবে না।
